হ্যাকারদের চিহ্নিত করতে নতুন নামকরণ পদ্ধতি গুগলের
হ্যাকার দলগুলোকে আরও সহজে চিহ্নিত করতে নতুন নামকরণ পদ্ধতি চালু করেছে গুগল। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন হ্যাকিং গোষ্ঠীকে আলাদা নামে চিহ্নিত করা হলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একই গোষ্ঠীকে ভিন্ন নামে ডাকায় নিরাপত্তা গবেষকদের জন্য অনেক সময় বিষয়টি জটিল হয়ে ওঠে।
গত মাসে গুগল হ্যাকার দলগুলোর নামকরণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনে। আগে ম্যান্ডিয়েন্টের ব্যবহৃত এপিটি-১, এপিটি-৪১-এর মতো সংখ্যাভিত্তিক নাম ব্যবহার করা হতো। এখন তুলনামূলক সহজ একটি পদ্ধতি অনুসরণ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি হ্যাকিং দলের জন্য একটি স্মরণযোগ্য ও এলোমেলো নামের সঙ্গে এমন একটি দ্বিতীয় নাম ব্যবহার করা হবে, যার প্রথম অক্ষর গোষ্ঠীটির উৎপত্তির দেশ নির্দেশ করবে। যেমন চীনের জন্য ক্যাসল, ইরানের জন্য আয়ন, উত্তর কোরিয়ার জন্য নেপচুন এবং রাশিয়ার জন্য রেলিক নাম ব্যবহার করা হচ্ছে।
গুগল থ্রেট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা শেন হান্টলি বলেন, নিরাপত্তা গবেষকদের জন্য বিষয়টি আরও পরিষ্কার করতেই নামকরণের এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০১০-এর দশকের শুরুতে সাইবার হামলার প্রতিবেদন প্রকাশ ও হামলাকারীদের নামকরণ শুরু করার সময় এত বেশি হুমকি গোষ্ঠী তৈরি হবে বলে তারা ধারণা করেননি।
গুগল থ্রেট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের প্রধান বিশ্লেষক জন হাল্টকুইস্টের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গুগল বিভিন্ন দেশে ৫ হাজারের বেশি কার্যক্রম গোষ্ঠী পর্যবেক্ষণ করছে। হান্টলি বলেন, খুব কম উন্নত দেশই আছে যাদের নিজস্ব সাইবার সক্ষমতা ও হ্যাকিং গোষ্ঠী নেই।
হ্যাকার দলের নাম দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য শুধু গবেষণা নয়। হান্টলির মতে, কে কাকে আক্রমণ করছে এবং কীভাবে আক্রমণ করছে, সে বিষয়ে একটি পরিষ্কার ধারণা তৈরি করা জরুরি। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত হুমকি শনাক্ত, প্রস্তুতি গ্রহণ এবং সম্ভব হলে হামলা ঠেকাতে পারে। হামলা হয়ে গেলে ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করাও সহজ হয়।
উত্তর কোরিয়ার সরকারি হ্যাকার গোষ্ঠী লাজারাস গ্রুপের আচরণ, উদ্দেশ্য এবং তারা কার হয়ে কাজ করে, এসব তথ্য জানা থাকলে নিরাপত্তাকর্মীরা হামলা মোকাবিলার ক্ষেত্রে একটি প্রাথমিক ধারণা পান।
তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হ্যাকারদের তুলনায় অপরাধী হ্যাকার গোষ্ঠী এবং অর্থের বিনিময়ে হ্যাকিং করা গোষ্ঠীগুলোকে শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করা বেশি কঠিন। সরকারি হ্যাকারদের লক্ষ্য ও কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে ধারাবাহিক হলেও অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর সদস্যরা নিয়মিত পরিবর্তিত হয়। অনেক সময় তারা আলাদা হয়ে নতুন গোষ্ঠীও তৈরি করে।
হ্যাকারদের জন্য ব্যবহৃত নতুন নামকরণ পদ্ধতি নিয়ে একটি সাধারণ প্রশ্ন হলো, সব প্রতিষ্ঠান একই কোডনাম ব্যবহার করে না কেন। হান্টলির মতে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কাছে হ্যাকিং গোষ্ঠীগুলোর বিষয়ে থাকা তথ্য ও পর্যবেক্ষণ এক নয়। ফলে একই গোষ্ঠী সম্পর্কে তাদের ধারণাতেও কিছুটা পার্থক্য থাকে।
তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছেই সব তথ্য থাকে না। নিজেদের তথ্যের ভিত্তিতে তারা সবচেয়ে ভালো ধারণা তৈরি করতে পারে, কিন্তু একটি হ্যাকিং গোষ্ঠী কী করছে, সে বিষয়ে সবকিছু কখনোই জানা সম্ভব নয়।
গুগলের পুরোনো থ্রেট অ্যানালাইসিস গ্রুপ এবং ম্যান্ডিয়েন্টের নামকরণ পদ্ধতিকে একীভূত করার ফলে অন্তত গুগলের ক্ষেত্রে আলাদা নামকরণ ব্যবস্থার সংখ্যা কমেছে। তবে বিশ্বজুড়ে হ্যাকিং গোষ্ঠীগুলোর নাম ও পরিচয় জানতে সাইবার নিরাপত্তা গবেষকদের এখনো বিভিন্ন তথ্যভান্ডারের ওপর নির্ভর করতে হয়।