প্রতিবন্ধকতা নয়, প্রযুক্তিই হবে সম্ভাবনার পথ: আইসিটি মন্ত্রী
প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে দেশের কোনো প্রতিভাই আর পিছিয়ে থাকবে না বলে জানিয়েছেন আইসিটি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধকতা নয়, প্রযুক্তিই হতে পারে সম্ভাবনার সবচেয়ে বড় পথ।
রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে আজ ১ আগস্ট আয়োজিত ‘যুব প্রতিবন্ধীদের জন্য জাতীয় আইটি প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
মন্ত্রী বলেন,
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার এমন একটি প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে সমাজের কোনো শ্রেণির মানুষ পিছিয়ে থাকবে না। সবার জন্য প্রযুক্তির সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
জাতীয় আইটি প্রতিযোগিতা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, এটি প্রতিবন্ধী তরুণদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিতব্য গ্লোবাল আইটি চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক নাহিদ সুলতানা মল্লিক বলেন, যুব প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য জাতীয় আইটি প্রতিযোগিতা কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। উপযুক্ত সুযোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারাও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বিসিসি, সিএসআইডি এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতাকে আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের মাধ্যমে দেশের প্রতিবন্ধী তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, এটি যুব প্রতিবন্ধীদের জন্য জাতীয় আইটি প্রতিযোগিতার দশম আয়োজন। এবারের প্রতিযোগিতায় চারটি ক্যাটাগরিতে মোট ৭০ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। এর মধ্যে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিভাগে ২১ জন, শারীরিক প্রতিবন্ধী বিভাগে ২৫ জন, বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিভাগে ১৫ জন এবং নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার বিভাগে ৯ জন অংশগ্রহণ করেন।

প্রত্যেক ক্যাটাগরি থেকে প্রথম তিনজন করে মোট ১২ জন প্রতিযোগীকে পুরস্কৃত করা হয়। চারটি ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিভাগে মো. শাকিল মিয়া, শারীরিক প্রতিবন্ধী বিভাগে শেখ ইয়ামিন আহসান, বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিভাগে নাহিন সিরাজ এবং নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার বিভাগে আরিয়ান ইসলাম।
চ্যাম্পিয়ন হওয়া এই চারজন আগামী অক্টোবরে ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিতব্য গ্লোবাল আইটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। মন্ত্রী তাদের ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে সিএসআইডির নির্বাহী পরিচালক খন্দকার জহুরুল আলম, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া, বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান কে এম মুজিবুল হকসহ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী, তাদের অভিভাবক এবং বিসিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।