চট্টগ্রামে ২ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে আইএসপি কার্যালয়ে হামলা-লুট

TechWorld Desk

টেকওয়ার্ল্ড ডেস্ক

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২২:৫৮

চট্টগ্রামে ২ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে আইএসপি কার্যালয়ে হামলা-লুট
সিসিটিভি ফুটেজ থেকে

চট্টগ্রামে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও নগদ অর্থ লুটের ঘটনা ঘটেছে। হামলার আগে প্রতিষ্ঠানটির কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনার সঙ্গে বিদেশে পলাতক এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর অনুসারীদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পেয়েছে পুলিশ।

আজ সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডটনেট (ডিডিএন) নামের প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, হামলার আগে তাদের কাছে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়। ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করায় হামলার শিকার হতে হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছে।

ডিডিএনের মালিক আদিল বিন মামুন জানান, আজ থেকে দুই দিন আগে বিদেশি একটি নম্বর থেকে ফোন করে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই ব্যক্তি ব্যবসা পরিচালনা চালিয়ে যেতে হলে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে মাসে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে বলে হুমকি দেন। ওই ব্যক্তি আরও বলেন যে, এখন থেকে তাদের প্রতিষ্ঠানটি ওই চক্রের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পরই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

আদিল বিন মামুন আরও জানান, ফোনকারী নিজেকে স্থানীয়ভাবে পরিচিত একজন হিসেবে দাবি করেন এবং পুলিশ কমিশনারকে তার ছবি দেখালে তাকে চিনতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন আলোচিত হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনার উদাহরণ টেনে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রিদোয়ানুল কবির জানান, অফিস চলাকালে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রসহ হঠাৎ কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। তারা কর্মীদের ভয় দেখিয়ে অফিসের বিভিন্ন অংশে তছনছ চালায়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা কম্পিউটার, সার্ভার পরিচালনার যন্ত্রপাতি, মোবাইল ফোন এবং আসবাবপত্রসহ নানা মূল্যবান সামগ্রী ভাঙচুর করে। এ সময় কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে যায় তারা। ভাঙচুরে আরও কয়েক লাখ টাকার সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র হাতে অফিসে প্রবেশ করে একের পর এক কম্পিউটার, মনিটরসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করছে। একজনকে কুড়ালের মতো ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায়। পুরো সময়জুড়ে কর্মীরা আতঙ্কিত অবস্থায় ভেতরে অবস্থান করছিলেন।

খবর পেয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর হোসেন মামুন বলেন, ‘জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযানও চালানো হচ্ছে।’

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে এ ঘটনার সঙ্গে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীদের সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে রাজি হয়নি পুলিশ। 

পুলিশ আরও জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবির একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার পেছনে জড়িত সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে ডিডিএন কর্তৃপক্ষ। হামলার প্রকৃত কারণ, লুট হওয়া অর্থের পরিমাণ এবং জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত চলমান রয়েছে।

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন