ভারতের স্প্যামবিরোধী নীতিতে আপত্তি ট্রুকলারের

TechWorld Desk

টেকওয়ার্ল্ড ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ১১:০৩

ভারতের স্প্যামবিরোধী নীতিতে আপত্তি ট্রুকলারের
ট্রুকলারের সিইও ঋষিত ঝুনঝুনওয়ালা -ছবি : টেকক্রাঞ্চ

ভারতের টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধে জড়িয়েছে কলার আইডি অ্যাপ ট্রুকলার। কোম্পানিটির দাবি, দেশটির স্প্যামবিরোধী নীতিমালা তাদের সবচেয়ে বড় বাজারে অনাকাঙ্ক্ষিত কল থেকে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা দেওয়া কঠিন করে তুলছে।

বুধবার (৮ জুলাই) ট্রুকলারের সিইও ঋষিত ঝুনঝুনওয়ালা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সরাসরি টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়া (ট্রাই)-এর সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, নির্দিষ্ট ১৪০০ ও ১৬০০ নম্বর সিরিজ থেকে আসা কলের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের রিপোর্ট করা স্প্যাম তথ্য দেখাতে ট্রুকলারকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এতে এসব নম্বরের অপব্যবহার বেড়েছে এবং বৈধ ব্যবসায়িক কলের ওপর আস্থা কমেছে।

বিরোধের সূত্রপাত ২০২৪ সালে চালু হওয়া একটি কাঠামোকে ঘিরে। ওই নীতিমালায় বাণিজ্যিক যোগাযোগের জন্য ১৪০০ ও ১৬০০ নম্বর সিরিজ নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ১৪০০ সিরিজ ব্যবহৃত হয় টেলিমার্কেটিং কলের জন্য এবং ১৬০০ সিরিজ সেবা ও লেনদেনসংক্রান্ত বার্তা বা কলের জন্য। ট্রাইয়ের দাবি ছিল, এই ব্যবস্থা গ্রাহকদের বৈধ কল শনাক্ত করতে সাহায্য করবে এবং স্প্যাম ও প্রতারণামূলক কল কমাবে।

বিশ্বের বৃহৎ টেলিকম বাজারগুলোর একটি ভারতে স্প্যাম ও প্রতারণামূলক কল নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত বছর দেশটির যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানায়, এক বছরে ২১ লাখের বেশি ভুয়া মোবাইল নম্বর বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং এক লাখের বেশি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে ঝুনঝুনওয়ালার মতে, এই নীতির অপ্রত্যাশিত নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, গত আট মাসে ব্যবহারকারীরা ১৪০০ সিরিজের ৮১ শতাংশ এবং ১৬০০ সিরিজের ৭৯ শতাংশ কল উপেক্ষা করেছেন। একই সময়ে এই দুই সিরিজ থেকে আসা প্রায় ৭ কোটি ৪০ লাখ কল ব্যবহারকারীরা নিজে থেকে ব্লক করেছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর থেকে ১৬০০ সিরিজের নম্বর ব্লকের দৈনিক হার তিন গুণের বেশি বেড়েছে।

নিয়মের কারণে এসব নম্বর সরাসরি স্প্যাম হিসেবে চিহ্নিত করতে না পেরে ট্রুকলার ‘ফ্রিকোয়েন্টলি ব্লকড’ নামে একটি সতর্কতা চিহ্ন চালু করেছে, যা দেখায় কোনো নম্বরটি অনেক ব্যবহারকারী ব্লক করেছেন।

এই প্রকাশ্য সমালোচনার পেছনে আরেকটি প্রতিবেদনও ভূমিকা রেখেছে। ভারতীয় ব্যবসায়িক দৈনিক ইকোনমিক টাইমস জানায়, ট্রাই তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় ট্রুকলার, হিয়া ও হুস্কল-এর মতো কলার আইডি অ্যাপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা চেয়েছে, বিশেষ করে ১৪০০ ও ১৬০০ সিরিজের নম্বরকে স্প্যাম হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে।

এ বিষয়ে ট্রাই ও ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

এই বিরোধ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ট্রুকলার তাদের মূল কলার আইডি ব্যবসায় নিয়ন্ত্রক চাপ ও প্রতিযোগিতার মুখে নতুন পণ্য ও সেবায় সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, তাদের ৫০ কোটির বেশি মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর মধ্যে ৩৫ কোটিরও বেশি ভারতের।

ঝুনঝুনওয়ালা জানান, নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ট্রুকলার তাদের তথ্য ভারতীয় আইটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ভাগ করবে এবং যেকোনো সিদ্ধান্ত তথ্যভিত্তিক হওয়া উচিত বলে তিনি মত দেন।

তার ভাষায়, “যারা ক্ষতিকর কাজ করছে তাদের শাস্তি দিন, ট্রুকলারের মতো ইতিবাচক প্রভাব ফেলা প্রতিষ্ঠানকে নয়।”

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন