এআই চাহিদায় রেকর্ড মুনাফার পথে স্যামসাং
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের বাড়তে থাকা চাহিদার প্রভাবে বড় ধরনের মুনাফা বৃদ্ধির পথে রয়েছে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির অপারেটিং মুনাফা প্রায় ১৮ গুণ বেড়ে নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।
এপ্রিল থেকে জুন সময়কালে স্যামসাংয়ের অপারেটিং মুনাফা প্রায় ৮৬ ট্রিলিয়ন ওন (প্রায় ৫৬ বিলিয়ন ডলার) হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা গত বছরের একই সময়ের ৪.৭ ট্রিলিয়ন ওনের তুলনায় অনেক বেশি। এটি হলে টানা তৃতীয় প্রান্তিকের মতো রেকর্ড মুনাফা অর্জন করবে প্রতিষ্ঠানটি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই অবকাঠামোর চাহিদা দ্রুত বাড়লেও মেমোরি চিপের সরবরাহ সেই তুলনায় বাড়ছে না। ফলে বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং চিপের দাম বেড়েছে। এই প্রবণতা আগামী বছর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
এই প্রবৃদ্ধির পেছনে শুধু হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি নয়, বরং ড্রামও ন্যান্ড চিপের চাহিদাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে ‘এজেন্টিক এআই’ ব্যবহারের ফলে সার্ভার ও ডেটা সংরক্ষণের জন্য বেশি মেমোরি প্রয়োজন হচ্ছে।
স্যামসাং বিশ্বের শীর্ষ মেমোরি চিপ প্রস্তুতকারক এবং এনভিডিয়া, গুগল ও অ্যাপলের মতো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য চিপ সরবরাহ করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে ও এর গড় বিক্রয়মূল্য যথাক্রমে ৪৪% ও ৫৩% পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, মেমোরি সংকটের কারণে স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স এবং মাইক্রনের শেয়ারের দামও ব্যাপক বেড়েছে। চলতি বছরে এই তিন কোম্পানির শেয়ারের মূল্য যথাক্রমে ১৫৮%, ২৭৩% ও ২৪২% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে ঝুঁকিও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এআই অবকাঠামো বিনিয়োগে কোনো ধীরগতি এলে এই প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে কর্মীদের বোনাস খরচ বাড়লে দ্বিতীয় প্রান্তিকের মুনাফায় প্রভাব পড়তে পারে।
এছাড়া মেমোরি চিপের দাম বাড়ায় স্যামসাংয়ের মোবাইল ব্যবসাও চাপে পড়েছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভের মার্জিন কমছে, ফলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে স্মার্টফোনের দাম আরও বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, এআই নির্ভর প্রযুক্তি বাজারের উত্থান স্যামসাংকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেও ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধি অনেকটাই নির্ভর করবে বাজারের চাহিদা ও বিনিয়োগের ধারাবাহিকতার ওপর।