চালক সংকটে রোবটিক গাড়ির দিকে ঝুঁকছে জাপানের পরিবহন খাত
জাপানে ক্রমবর্ধমান চালক সংকটের কারণে দেশটির পরিবহন খাত এখন রোবটিক ও স্বচালিত গাড়ির দিকে ঝুঁকছে। এ পরিস্থিতিতে ট্যাক্সি-হেইলিং প্ল্যাটফর্ম ‘গো’ তাদের সাম্প্রতিক আইপিও থেকে সংগৃহীত বড় অঙ্কের অর্থ রোবোট্যাক্সি সম্প্রসারণ ও কৌশলগত অধিগ্রহণে ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, আইপিও থেকে সংগৃহীত প্রায় ৮৮৬০ কোটি ইয়েন মূলধন গবেষণা ও উন্নয়ন, রোবোট্যাক্সি প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে ট্যাক্সি শিল্পের ভেতরে ও বাইরে সম্ভাব্য অধিগ্রহণেও বিনিয়োগ করা হবে।
জাপানের ট্যাক্সি খাতে দীর্ঘদিন ধরেই চালক সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে ট্যাক্সি চালকের সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে। বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২০২৪ সালে রাইড-শেয়ারিং সেবা চালু হলেও তা এখনো সীমিত এলাকায় এবং কঠোর শর্তের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে এটি পূর্ণাঙ্গ সমাধান হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।
১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘গো’ বর্তমানে জাপানের সবচেয়ে বড় রাইড-হেইলিং অ্যাপ পরিচালনা করছে। তাদের অ্যাপটি প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ বার ডাউনলোড হয়েছে এবং ৮৫ হাজারের বেশি যানবাহন এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। দেশটির ৪৭টি প্রিফেকচারের মধ্যে ৪৬টিতেই তাদের সেবা চালু আছে।
প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে রোবোট্যাক্সিকে তাদের ব্যবসার মূল অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। যদিও সম্পূর্ণ চালকবিহীন সেবা কবে চালু হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এই লক্ষ্যে তারা অ্যালফাবেটের স্বচালিত গাড়ি ইউনিট ওয়েমোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে। পাশাপাশি জাপানের অন্যতম বৃহৎ ট্যাক্সি অপারেটর নিহন কোৎসুর সঙ্গেও কাজ করছে তারা।
জাপানের রোবোট্যাক্সি বাজারে আরও কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। উবার, নিসান ও ওয়েভ যৌথভাবে ২০২৬ সালের শেষ দিকে টোকিওতে পরীক্ষামূলক রোবোট্যাক্সি সেবা চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
জনসংখ্যা পরিবর্তন ও শ্রম সংকটের কারণে জাপানের পরিবহন খাতে রোবটিক গাড়ির ব্যবহার দ্রুত বাড়বে। তবে এর বাস্তবায়ন নির্ভর করছে প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং সরকারি অনুমোদনের ওপর।