মেমোরি সংকটে বিপাকে অ্যাপল, বাড়তে পারে ডিভাইসের দাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তারে বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পে তৈরি হয়েছে নতুন চাপ। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে যাচ্ছে অ্যাপলের পণ্যের দামে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী টিম কুক সতর্ক করে জানিয়েছেন, মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতের আইফোন, ম্যাক ও আইপ্যাডের দাম বাড়ানো প্রায় অনিবার্য।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে কুক বলেন, এআই-নির্ভর প্রযুক্তির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মেমোরি চিপের বৈশ্বিক সংকট তৈরি হয়েছে, যাকে অনেকেই ‘র্যামাগেডন’ নামে উল্লেখ করছেন। গত এক বছরে এই চিপের দাম প্রায় চার গুণ বেড়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বহন করা সম্ভব নয়।
যদিও কোন পণ্যের দাম কখন বাড়বে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি কুক, তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে আসন্ন আইফোনে। প্রতি বছরের মতো সেপ্টেম্বরেই নতুন আইফোন উন্মোচনের সম্ভাবনা রয়েছে, আর তখনই দাম বৃদ্ধির ঘোষণা আসতে পারে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেকইনসাইটসের হিসাব অনুযায়ী, মুনাফার হার ঠিক রাখতে অ্যাপলকে পরবর্তী আইফোন প্রো মডেলের দামে অতিরিক্ত প্রায় ২৭০ ডলার যোগ করতে হতে পারে। বর্তমানে আইফোন ১৭ প্রো-এর প্রারম্ভিক মূল্য ১,০৯৯ ডলার।
অ্যাপলের অন্যান্য ডিভাইস, যেমন অ্যাপল ওয়াচ, ম্যাক, আইপ্যাড ও ভিশন প্রোতেও একই ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, কারণ এসব পণ্যেও মেমোরি (ডিআরএএম) ও স্টোরেজ (ন্যান্ড) চিপ ব্যবহৃত হয়।
এদিকে এআই নিয়ে অ্যাপল এখনো প্রত্যাশিত সাফল্য দেখাতে পারেনি। প্রতিশ্রুত কিছু এআই ফিচার সময়মতো দিতে না পারায় চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি ২৫ কোটি ডলারের একটি মামলাও নিষ্পত্তি করেছে।
তবে সাম্প্রতিক ডেভেলপার সম্মেলনে সিরিসহ একাধিক এআই ফিচার উন্নয়নের অগ্রগতি দেখিয়েছে অ্যাপল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিভাইসে সরাসরি এআই প্রসেসিং বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেমোরির চাহিদাও বাড়বে, যার শেষ প্রভাব পড়বে ভোক্তার পকেটেই।