বাজেট প্রত্যাশা ২০২৬-২৭
ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতে মোবাইল রিচার্জে কর পুনর্বিবেচনার তাগিদ
দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে বিদ্যমান উচ্চ করহার ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ও প্রযুক্তি ব্যবহারে বড় ধরনের বাধা তৈরি করছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। মোবাইল রিচার্জে বিশ্বের অন্যতম উচ্চ করহার আরোপের ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জনকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (২১ মে) ‘টেকওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে টেলিকম খাতের সংকটের কথা তুলে ধরেন বাংলালিক -এর চিফ করপোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান। আলোচনায় মূলত কর কাঠামোর বৈষম্য ও ডিজিটাল সেবা গ্রহণে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
রিচার্জের এক-তৃতীয়াংশই কর
সংলাপে তাইমুর রহমান মোবাইল সেবার ওপর করের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, একজন গ্রাহক ১০০ টাকা রিচার্জ করলে প্রায় ৩৪ টাকা কর হিসেবে কেটে নেওয়া হয়। তার মতে, এটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় অত্যন্ত বেশি।
তিনি বলেন,
অসম প্রতিযোগিতা ও নীতিগত চ্যালেঞ্জ
আলোচনায় আরও উঠে আসে আন্তর্জাতিক ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে স্থানীয় টেলিকম অপারেটরদের অসম প্রতিযোগিতার বিষয়টি। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কঠোর কর ও নীতিমালার মধ্যে থাকলেও বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মগুলো তুলনামূলক কম নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলে অভিযোগ করা হয়। তাইমুর রহমান বলেন,‘এই বৈষম্য স্থানীয় ডিজিটাল খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে দুর্বল করছে এবং বিনিয়োগ পরিবেশেও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।’

ডিজিটাল প্রবৃদ্ধিতে ঝুঁকি
গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনায় উঠে আসে, মোবাইল সেবার ওপর উচ্চ কর সরাসরি ব্যবহার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে ইন্টারনেট গ্রহণ ও ডিজিটাল সেবার বিস্তারে। এতে দেশের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
নীতি সংস্কারের দাবি
বক্তারা কর কাঠামো সহজীকরণ ও নীতিগত সংস্কারের ওপর জোর দেন। তাদের মতে, করহার বাড়ানোর পরিবর্তে করের আওতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান হতে পারে।
সবশেষে আলোচনায় বলা হয়, টেকসই ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে করনীতি ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর মধ্যে ভারসাম্য আনা জরুরি।