ডেটা সেন্টারকেন্দ্রিক ব্যবসায়িক কৌশলে এগোচ্ছে এক্সএআই

Tech World Desk

টেক ওয়ার্ল্ড ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬, ১২:৫৬

ডেটা সেন্টারকেন্দ্রিক ব্যবসায়িক কৌশলে এগোচ্ছে এক্সএআই
ছবি : টেকক্রাঞ্চ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দৌড়ে এবার ভিন্ন এক অবস্থান তৈরি করছে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান এক্সএআই। মডেল উন্নয়ন থেকে সরে এসে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে ডেটা সেন্টার ও কম্পিউট শক্তি বাণিজ্যকে নতুন আয়ের খাতে পরিণত করছে।

সাম্প্রতিক একটি বড় অংশীদারত্ব এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট করেছে।

সম্প্রতি এক্সএআই এবং অ্যানথ্রপিকের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় এক্সএআইয়ের কলসাস ওয়ান ডেটা সেন্টারের প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট কম্পিউট ক্ষমতা ব্যবহার করবে অ্যানথ্রপিক। এতে তারা নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেবার ব্যবহার সীমা দ্রুত বাড়াতে পারবে।

এই সিদ্ধান্ত এক্সএআইয়ের জন্য আর্থিকভাবে বড় সুযোগ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটির মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। ফলে ডেটা সেন্টার বিনিয়োগ এখন সরাসরি আয়ের উৎসে পরিণত হচ্ছে।

ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, এক্সএআই ইতিমধ্যে নতুন কলসাস টু ডেটা সেন্টারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের প্রশিক্ষণ শুরু করেছে। ফলে আগের সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা অনেক কমে গেছে। অতিরিক্ত সক্ষমতা কাজে লাগাতেই অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব।

তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু অবকাঠামো ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত নয়, বরং এক্সএআইয়ের ব্যবসায়িক দিক বদলেরও ইঙ্গিত। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পণ্য গ্রক নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবহার কমেছে। বিশেষ করে ছবি তৈরির ক্ষেত্রে সমস্যার পর এর জনপ্রিয়তা কিছুটা কমে যায়।

এই পরিস্থিতিতে ডেটা সেন্টার থেকে আয় বাড়ানো এখন কোম্পানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে এক্সএআইকে ধীরে ধীরে একটি নিওক্লাউড প্রতিষ্ঠানের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ এমন একটি কোম্পানি, যারা অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে কম্পিউট শক্তি ভাড়া দেয়।

বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন ডেটা সেন্টারকে কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখছে। গুগল এবং মেটার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নের জন্য বিশাল অবকাঠামো গড়ে তুলছে। গুগলের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে, সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের কিছু আয়ে প্রভাব পড়ছে।

অন্যদিকে মেটা নিজেদের জন্য আলাদা কম্পিউট অবকাঠামো তৈরি করছে। তাদের মতে, এটি ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিযোগিতায় বড় সুবিধা দেবে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এক্সএআইয়ের বর্তমান মূল্যায়ন প্রায় ২৩ হাজার কোটি ডলার। একই ধরনের কম্পিউট শক্তি নিয়ন্ত্রণকারী কোরউইভের বাজারমূল্য এর তুলনায় অনেক কম।

মাস্কের পরিকল্পনা আরও বিস্তৃত। ভবিষ্যতে কিছু ডেটা সেন্টার মহাকাশে স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি নিজস্ব চিপ তৈরির উদ্যোগ চলছে, যাতে বাইরের সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরতা কমে।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এক্সএআই কি মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি উন্নয়নের প্রতিষ্ঠান হিসেবে থাকবে, নাকি ধীরে ধীরে ডেটা সেন্টার ও কম্পিউট শক্তি বাণিজ্যই হবে তাদের প্রধান পরিচয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বড় অংশের কম্পিউট শক্তি অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দিলে দীর্ঘমেয়াদে নিজস্ব সফটওয়্যার উন্নয়ন কৌশলে প্রভাব পড়তে পারে। আর সেটিই হতে পারে ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন