এআই অবকাঠামো বাড়াতে গিয়ে কঠিন সমীকরণে মাইক্রোসফট
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডেটা সেন্টার দ্রুত বাড়াতে গিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জে পড়েছে মাইক্রোসফট। একদিকে বাড়ছে এআই অবকাঠামোর বিদ্যুৎ চাহিদা, অন্যদিকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য ধরে রাখাও কঠিন হয়ে উঠছে প্রতিষ্ঠানটির জন্য।
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাইক্রোসফট এখন তাদের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি পরিকল্পনার কিছু অংশ পিছিয়ে দেওয়া বা সীমিত করার বিষয় নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা করছে। বিশেষ করে প্রতি ঘণ্টাভিত্তিক পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ ব্যবহারের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এর আগে মাইক্রোসফট ঘোষণা দিয়েছিল, ২০৩০ সালের মধ্যে তারা একই বিদ্যুৎ গ্রিডে প্রতি ঘণ্টার ব্যবহৃত বিদ্যুতের শতভাগ পরিচ্ছন্ন জ্বালানির মাধ্যমে সমন্বয় করবে। তবে এআই ডেটা সেন্টার দ্রুত সম্প্রসারণের কারণে সেই লক্ষ্য এখন চাপের মুখে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদিও এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানিয়েছে, তারা এখনো বার্ষিক পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সমন্বয়ের লক্ষ্য ধরে রাখার সুযোগ খুঁজছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি ঘণ্টাভিত্তিক পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার নিশ্চিত করা বার্ষিক লক্ষ্যের তুলনায় অনেক কঠিন। কারণ বিদ্যুৎ গ্রিডে উৎপাদন ও চাহিদার ভারসাম্য তাৎক্ষণিকভাবে বজায় রাখতে হয়। ফলে এ ধরনের লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে বার্ষিক লক্ষ্য তুলনামূলক সহজ। এতে কোনো প্রতিষ্ঠান বছরের নির্দিষ্ট সময়ে অতিরিক্ত সৌর বা বায়ু বিদ্যুৎ কিনে পুরো বছরের জন্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের দাবি করতে পারে। তবে এতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা পুরোপুরি কমে না।
মাইক্রোসফট, মেটা, গুগল ও অ্যাপলের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরেই কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে কাজ করছে। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, গত বছর তারা বার্ষিক কার্বন নিরপেক্ষতার লক্ষ্য অর্জন করেছে।

তবে এআই ডেটা সেন্টারের সংখ্যা ও আকার বাড়তে থাকায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আবার প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের দিকেও ঝুঁকছে। গত মাসে মাইক্রোসফট জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম টেক্সাসে বড় একটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কাজ করছে। ভবিষ্যতে এটি ৫ গিগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি মাইক্রোসফট তাদের প্রতি ঘণ্টাভিত্তিক পরিচ্ছন্ন জ্বালানি লক্ষ্য থেকে সরে আসে, তাহলে নতুন ডেটা সেন্টার প্রকল্প নিয়ে জনমনে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে। কারণ ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ খরচ, দূষণ ও পানির ব্যবহার নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় প্রশ্ন উঠছে।
সূত্র : টেকক্রাঞ্চ