র্যামের দাম বাড়ায় গেমিং পিসি তৈরির কৌশলে বড় পরিবর্তন
গেমিং পিসি বানাতে গেলে এখন সবচেয়ে বড় চাপে পড়তে হচ্ছে র্যামের দামে। কয়েক বছর আগেও যে বাজেটে একটি ভালো গেমিং সেটআপ তৈরি করা যেত, এখন একই সেটআপে খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। এর বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের বিস্তার।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন গুগল, মাইক্রোসফট এবং অ্যামাজন তাদের ডেটা সেন্টারে বিশাল আকারে এআই অবকাঠামো গড়ে তুলছে। এসব কাজে প্রয়োজন হচ্ছে উচ্চ ক্ষমতার মেমোরি, বিশেষ করে এইচবিএম ধরনের মেমোরি। ফলে একই কারখানায় তৈরি হওয়া সাধারণ র্যামের সরবরাহ কমে যাচ্ছে, আর দাম বাড়ছে দ্রুত।
গত কয়েক মাসেই কম ক্ষমতার র্যামের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আর ৬৪ জিবি থেকে ১২৮ জিবির মতো উচ্চ ক্ষমতার র্যামের ক্ষেত্রে দাম তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়েছে।
সিঙ্গেল চ্যানেল র্যাম, নতুন বাস্তবতা
আগে গেমিং পিসিতে সিঙ্গেল চ্যানেল র্যাম ব্যবহার করা প্রায় ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরা হতো। কারণ ডুয়াল চ্যানেল ব্যবস্থায় দুটি র্যাম একসঙ্গে কাজ করে বেশি গতি দিত। তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে।

আধুনিক প্রসেসরে বড় আকারের ক্যাশ মেমোরি থাকায় অনেক কাজই সরাসরি র্যামে যেতে হয় না। ফলে সিঙ্গেল চ্যানেল ব্যবহার করলেও পারফরম্যান্সে খুব বড় পার্থক্য দেখা যায় না।
এক্সথ্রিডি প্রসেসরে পার্থক্য আরও কম
এএমডির রাইজেন এক্সথ্রিডি প্রসেসর এই পরিবর্তনকে আরও এগিয়ে নিয়েছে। এই প্রসেসরে থ্রিডি ভি-ক্যাশ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা প্রসেসরের ওপরেই অতিরিক্ত ক্যাশ যোগ করে।
এর ফলে গেম চালানোর সময় র্যামের ওপর নির্ভরতা কমে যায়। বাস্তবে এক স্টিক আর দুই স্টিক র্যামের পার্থক্য অনেক ক্ষেত্রে ২ শতাংশেরও কমে নেমে আসে।
সিপিইউ ও জিপিইউ সমন্বয়ের সুবিধা
এএমডির আরেকটি সুবিধা হলো একই প্রতিষ্ঠানের প্রসেসর ও গ্রাফিক্স কার্ড একসঙ্গে ব্যবহার করলে স্মার্ট অ্যাকসেস মেমোরি সুবিধা পাওয়া যায়। এতে প্রসেসর ও গ্রাফিক্স কার্ডের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান আরও দ্রুত হয়, ফলে গেমিং পারফরম্যান্স বাড়ে।
বদলে যাচ্ছে গেমিং কৌশল
বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে গেমারদের কৌশলও বদলাচ্ছে। অনেকেই শুরুতে এক স্টিক র্যাম ব্যবহার করছেন, পরে দাম কমলে আরেকটি যোগ করার পরিকল্পনা রাখছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে যেটি ছিল বাধ্যতামূলক, এখন সেটি আর ততটা জরুরি নয়। হার্ডওয়্যার উন্নতির কারণে গেমিং অভিজ্ঞতা বজায় রেখেই খরচ কমানো সম্ভব হচ্ছে।