ছবি বানানোর সুবিধাতেই বাড়ছে এআই অ্যাপের চাহিদা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অ্যাপ জগতে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলছে। আগে কথোপকথনভিত্তিক সুবিধাই ছিল ব্যবহারকারী টানার প্রধান উপায়। এখন সেই জায়গা দখল করছে ছবি তৈরির নতুন সুবিধা।
নতুন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শুধু ছবি বানানোর সুবিধা যোগ হলেই অ্যাপের ডাউনলোড কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। তবে এই বাড়তি আগ্রহ সব সময় আয়ে রূপ নিচ্ছে না।
অ্যাপ বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অ্যাপফিগারসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ছবি মডেল চালু হলে মোবাইল অ্যাপের ডাউনলোড প্রচলিত মডেল আপডেটের তুলনায় গড়ে ৬ দশমিক ৫ গুণ বেশি বাড়ে। আগে যেখানে কথোপকথনভিত্তিক মডেল ও ভয়েস চ্যাট সুবিধা জনপ্রিয়তা বাড়াত, এখন সেখানে দৃশ্যভিত্তিক কনটেন্টই মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি ও জেমিনি দুটি অ্যাপই ছবি তৈরির মডেল যুক্ত করার পর কয়েক কোটি নতুন ডাউনলোড পেয়েছে।
জেমিনির ক্ষেত্রে, ন্যানো বানানা নামের ছবি মডেল চালুর পর ২৮ দিনে অতিরিক্ত ২ কোটি ২০ লাখের বেশি ডাউনলোড যুক্ত হয়। গত বছরের আগস্টে জেমিনি ২ দশমিক ৫ ফ্ল্যাশ ছবি মডেল চালুর পর এই প্রবৃদ্ধি দেখা যায়। ওই সময় অ্যাপটির ডাউনলোড চার গুণেরও বেশি বেড়েছিল।
অন্যদিকে, চ্যাটজিপিটি তাদের জিপিটি-৪ও ছবি মডেল চালুর পর ২৮ দিনে অতিরিক্ত ১ কোটি ২০ লাখের বেশি ইনস্টল পেয়েছে। এটি তাদের জিপিটি-৪ও, জিপিটি-৪ দশমিক ৫ ও জিপিটি-৫ মডেলের আপডেটের তুলনায় প্রায় ৪ দশমিক ৫ গুণ বেশি ডাউনলোড।
ছবির পাশাপাশি ভিডিওভিত্তিক সুবিধাতেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। মেটা এআই তাদের ভিডিও ফিড ‘ভাইবস’ চালুর পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ২৮ দিনে প্রায় ২৬ লাখ নতুন ডাউনলোড পেয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ডাউনলোড বাড়লেই আয় বাড়ে না। নতুন ছবি মডেল মানুষকে অ্যাপ ইনস্টল করতে উৎসাহিত করে, কিন্তু সবাই অর্থ খরচ করে সাবস্ক্রিপশন নেয় না।
উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, ন্যানো বানানা মডেল ব্যাপক ডাউনলোড আনলেও ২৮ দিনে ব্যবহারকারীদের মোট খরচ ছিল মাত্র ১ লাখ ৮১ হাজার ডলার সমপরিমাণ। একই সময়ে মেটা এআইয়ের ভাইবসও ডাউনলোড বাড়ালেও উল্লেখযোগ্য আয় আনতে পারেনি।
এই তিনটির মধ্যে কেবল চ্যাটজিপিটিই ব্যবহারকারীর আগ্রহকে আয়ে রূপ দিতে পেরেছে। ওপেনএআইয়ের জিপিটি-৪ও ছবি মডেল চালুর পর ২৮ দিনে প্রায় ৭ কোটি ডলার সমপরিমাণ ব্যবহারকারী ব্যয় এসেছে, যা আগের তুলনায় বড় উল্লম্ফন।
প্রতিবেদনে ডিপসিক নামের আরেকটি মডেলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, তবে এটি একই ধারার নয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডিপসিক আর-১ উন্মোচনের পর ২ কোটি ৮০ লাখ ডাউনলোড হলেও এটি ছিল ব্যতিক্রমী ঘটনা। তখন কম খরচে মডেল তৈরির নতুন কৌশল নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে আলোড়ন তৈরি হয়। মূলত কৌতূহল থেকেই ব্যবহারকারীরা অ্যাপটি ডাউনলোড করেছিলেন, ছবি মডেলের কারণে নয়।
সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অ্যাপ বাজারে এখন সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছবি ও দৃশ্যভিত্তিক অভিজ্ঞতা। তবে জনপ্রিয়তা বাড়লেও সেই আগ্রহকে আয়ে রূপ দেওয়ার চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে।
সূত্র : টেকক্রাঞ্চ