এআই চাহিদায় ম্যাকের বিক্রিতে বড় উল্লম্ফন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে অ্যাপলের ম্যাক কম্পিউটারের বিক্রি প্রত্যাশার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক প্রান্তিকে এই বিক্রি বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেছে, যা অ্যাপলের জন্যও অপ্রত্যাশিত ছিল।
বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, নির্দিষ্ট এই সময়ে ম্যাক থেকে আয় ৮ বিলিয়ন ডলারের আশপাশে থাকতে পারে। তবে অ্যাপল জানিয়েছে, প্রকৃত আয় দাঁড়িয়েছে ৮.৪ বিলিয়ন ডলারে। একই সঙ্গে বার্ষিক ভিত্তিতে ম্যাক বিক্রি ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে কোম্পানির মোট আয় হয়েছে ১১১.২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি।
অ্যাপল জানায়, নতুন পণ্য উন্মোচন এবং বিশেষ করে ম্যাকবুক নিও মডেলের চাহিদা এই বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নতুন এই মডেলটি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাজারে আসে এবং দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক জানিয়েছেন, ম্যাকবুক নিওর চাহিদা তাদের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি ছিল। তিনি আরও বলেন, নতুন ব্যবহারকারীদের মধ্যেও ম্যাকের গ্রহণযোগ্যতা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তিনি জানান, স্থানীয়ভাবে এআই মডেল চালানোর জন্য ম্যাক এখন আরও বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে ম্যাক মিনি ও ম্যাক স্টুডিও মডেলের চাহিদা দ্রুত বেড়েছে এবং অনেক সময় এসব ডিভাইসের সরবরাহ শেষ হয়ে যাচ্ছে।
টিম কুক বলেন,‘এআই এবং এজেন্টভিত্তিক টুল ব্যবহারের জন্য ম্যাক একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই ধারণা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত ঘটছে।’
তিনি আরও জানান, কিছু বড় প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ম্যাককে এআই-ভিত্তিক এন্টারপ্রাইজ সমাধানের জন্য ব্যবহার করছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুরোনো ডিভাইস বাদ দিয়ে নতুন ম্যাক মডেল ব্যবহার শুরু করেছে।
তবে অ্যাপল স্বীকার করেছে, বর্তমান চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো পুরোপুরি সমন্বিত হয়নি। বিশেষ করে ম্যাক মিনি ও ম্যাক স্টুডিও মডেলে ঘাটতি রয়েছে। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সব মিলিয়ে এআই প্রযুক্তির কারণে ম্যাকের চাহিদা যেভাবে বাড়ছে, তা অ্যাপলের জন্য নতুন প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।