মহাকাশবিজ্ঞানে নারীদের এগিয়ে নিতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ

TechWorld Desk

টেকওয়ার্ল্ড ডেস্ক

রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:১৭

মহাকাশবিজ্ঞানে নারীদের এগিয়ে নিতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ

বাংলাদেশের কিশোরীদের মধ্যে মহাকাশবিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরি এবং ভবিষ্যৎ নারী বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও উদ্ভাবক গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘গার্লস স্পেস মিশন ২০৩৫- বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ শিক্ষামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের (কাসা) সহযোগিতায় স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্প এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে অংশ নেয় ৩০ জন কিশোরী।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা মঙ্গল গ্রহে অভিযান পরিচালনার একটি অনুকরণমূলক অভিজ্ঞতা অর্জন করে। এ জন্য তাদের পাঁচটি বিশেষায়িত দলে ভাগ করা হয়। দলগুলো রকেট ও উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, মঙ্গল অবতরণযান, মঙ্গল অনুসন্ধানী রোবট, মঙ্গল আবাসন এবং মঙ্গলবিষয়ক বিজ্ঞান ও জীবনধারণ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করে। প্রতিটি দল মঙ্গল অভিযানের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশলগত দিক নিয়ে কাজ করার সুযোগ পায়।

হাতে-কলমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, তথ্য বিশ্লেষণ, দলগতভাবে সমস্যা সমাধান এবং অভিযান অনুকরণের বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা মহাকাশ অনুসন্ধানের নানা চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। পাশাপাশি এসব কার্যক্রম তাদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস, বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা ও দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করে।

স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের প্রেসিডেন্ট আরিফুল হাসান অপু বলেন, প্রতিটি শিশুর মধ্যেই বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী কিংবা উদ্ভাবক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিবেশ, হাতে-কলমে শেখার সুযোগ এবং স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা। ‘গার্লস স্পেস মিশন ২০৩৫’-এর মাধ্যমে ৩০ জন কিশোরীকে শুধু মহাকাশ সম্পর্কে শেখানোই নয়, বরং তাদের আত্মবিশ্বাসী হতে, বৈজ্ঞানিকভাবে চিন্তা করতে এবং বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করাও ছিল অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, এসব কিশোরীর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করা এবং মহাকাশবিজ্ঞান, রোবোটিকস, প্রকৌশল ও গবেষণায় তাদের দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করার পরিকল্পনা রয়েছে। আজ যারা মঙ্গল অভিযানের অনুকরণমূলক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে, আগামী দিনে তাদের মধ্য থেকেই কেউ মহাকাশবিজ্ঞানী, রোবোটিকস প্রকৌশলী কিংবা আন্তর্জাতিক গবেষক হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আরিফুল হাসান অপু বলেন, আজকের ৩০ জন কিশোরীই আগামী দিনে বাংলাদেশের মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য, যারা শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করবে না, বরং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনেও নেতৃত্ব দেবে।

দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন

কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় অংশগ্রহণকারী ৩০ জন কিশোরীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করছে স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্প। ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে মহাকাশবিজ্ঞান, রোবোটিকস, রকেট প্রযুক্তি ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ, গবেষণাভিত্তিক প্রকল্প, মঙ্গল অনুসন্ধানী রোবট ও আবাসন মডেল তৈরি এবং নিয়মিত মহাকাশ অভিযান অনুকরণের আয়োজন।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি পেশাজীবীদের সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের যুক্ত করে একটি মেন্টরশিপ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কিশোরীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা, গবেষণা উপস্থাপনা এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পেতে পারে।

এই উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো ২০৩৫ সালের মধ্যে মহাকাশবিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গবেষণায় আগ্রহী একটি দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী নারী প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রাখা। আয়োজকদের মতে, ‘গার্লস স্পেস মিশন ২০৩৫’ শুধু এক দিনের কর্মসূচি নয়; এটি বাংলাদেশের কিশোরীদের মহাকাশ অনুসন্ধান ও বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ।

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন