২০২৬ সালে গুগল টিভিতে যেসব অ্যাপ থাকা জরুরি
স্মার্ট টিভি এখন শুধু বিনোদনের যন্ত্র নয়, হয়ে উঠেছে স্মার্ট জীবনের অংশ। গুগল টিভি সেই অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ ও ব্যক্তিগত করে তুলছে। তবে সঠিক অ্যাপ না থাকলে এই প্ল্যাটফর্মের পুরো সুবিধা পাওয়া যায় না। তাই ২০২৬ সালে গুগল টিভি ব্যবহারকারীদের জন্য কিছু জরুরি অ্যাপ নিয়ে সাজানো হয়েছে এই আয়োজন।
গুগল টিভি মূলত অ্যান্ড্রয়েড টিভির উন্নত সংস্করণ, যেখানে বিভিন্ন স্ট্রিমিং সেবার কনটেন্ট এক জায়গায় সাজিয়ে দেখানো হয়। একক ইন্টারফেসে পছন্দের সিনেমা, সিরিজ ও লাইভ চ্যানেল খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। প্ল্যাটফর্মটিতে ৮০০-র বেশি বিনামূল্যের চ্যানেলও রয়েছে। সনি, টিসিএল, হা্ইসেন্সসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্ট টিভি ও গুগলের নিজস্ব ডিভাইসে এটি ব্যবহার করা যায়।
তবে শুধু কনটেন্ট দেখাই নয়, তৃতীয় পক্ষের নানা অ্যাপ যুক্ত করে গুগল টিভিকে আরও শক্তিশালী করা যায়। ব্যক্তিগত মিডিয়া লাইব্রেরি দেখা, ফাইল স্থানান্তর, উন্নত ভিডিও চালানো কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের জন্য নিচের অ্যাপগুলো বিশেষভাবে উপযোগী।
প্লেক্স মিডিয়া সার্ভার
যাদের নিজের সংগ্রহে সিনেমা, নাটক, গান বা ছবি রয়েছে, তাদের জন্য প্লেক্স মিডিয়া সার্ভার খুবই কার্যকর। ঘরের কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক ড্রাইভে থাকা ফাইল এই অ্যাপের মাধ্যমে টিভিতে দেখা যায়।

অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফাইল শনাক্ত করে সিনেমা, ধারাবাহিক বা সংগীত আলাদা করে সাজিয়ে দেয়। ফলে নিজের ব্যক্তিগত লাইব্রেরি থেকেই সহজে কনটেন্ট উপভোগ করা যায়।
স্পটিফাই
বিশ্বের জনপ্রিয় অডিও স্ট্রিমিং সেবাগুলোর একটি স্পটিফাই। অনেক সময় গুগল টিভিতে এটি আগে থেকে থাকে না, তাই আলাদাভাবে ইনস্টল করে নিতে হয়।

এই অ্যাপের মাধ্যমে টিভির বড় পর্দা ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করে গান, পডকাস্ট ও অন্যান্য অডিও কনটেন্ট শোনা যায়। মোবাইল থেকেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিজ্ঞাপনমুক্ত অভিজ্ঞতার জন্য প্রিমিয়াম সংস্করণ ব্যবহার করা যায়।
লোকালসেন্ড
লোকালসেন্ড একটি বিনামূল্যের ওপেন সোর্স ফাইল স্থানান্তর অ্যাপ। কোনো অ্যাকাউন্ট বা ক্লাউড ছাড়াই একই ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে থাকা ডিভাইসগুলোর মধ্যে সরাসরি ফাইল আদান-প্রদান করা যায়।

ফোন, ট্যাবলেট বা কম্পিউটার থেকে সহজেই টিভিতে ভিডিও বা গান পাঠানো যায়। কোনো তার ছাড়াই বড় পর্দায় কনটেন্ট দেখার সুবিধা দেয় এই অ্যাপ। এতে কোনো বিজ্ঞাপন নেই এবং ব্যবহারকারীর তথ্যও সংগ্রহ করা হয় না।
ভিএলসি মিডিয়া প্লেয়ার
ভিএলসি একটি বহুল ব্যবহৃত ওপেন সোর্স মিডিয়া প্লেয়ার, যা প্রায় সব ধরনের অডিও ও ভিডিও ফরম্যাট চালাতে পারে। গুগল টিভিতে যে ফাইলগুলো সরাসরি চালানো যায় না, সেগুলোও এই অ্যাপ দিয়ে চালানো সম্ভব।

এতে সাবটাইটেল, মাল্টি অডিও ট্র্যাক, এইচডিআর ভিডিও, প্লেব্যাক গতি নিয়ন্ত্রণসহ নানা সুবিধা রয়েছে। নেটওয়ার্ক স্টোরেজ থেকেও কনটেন্ট চালানো যায়।
গুগল জেমিনি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহকারী গুগল জেমিনি ২০২৫ সালের শেষ দিকে গুগল টিভিতে যুক্ত হয়েছে। ধীরে ধীরে আরও ডিভাইসে এটি পৌঁছাচ্ছে।

এই সহকারী আগের সংস্করণের তুলনায় অনেক বেশি কথোপকথন সক্ষম। কী ধরনের সিনেমা দেখতে চান, শুধু বর্ণনা দিলেই উপযুক্ত কনটেন্ট সাজেস্ট করতে পারে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য জানানো বা স্মার্ট হোম ডিভাইস নিয়ন্ত্রণেও এটি সহায়ক।
যেভাবে অ্যাপগুলো বাছাই করা হয়েছে
এই তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে এমন অ্যাপগুলো বেছে নেওয়া হয়েছে, যেগুলো গুগল টিভির মূল সুবিধাকে আরও সমৃদ্ধ করে। শুধু স্ট্রিমিং নয়, বরং ব্যক্তিগত কনটেন্ট ব্যবস্থাপনা, ফাইল আদান-প্রদান, উন্নত প্লেব্যাক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বাড়ায় এমন অ্যাপই এখানে স্থান পেয়েছে।
সূত্র : বিজিআর ডটকম