অপ্রয়োজনীয় ই-মেইলের ভিড়ে ইনবক্স সুরক্ষায় করণীয়
দৈনন্দিন কাজ, ব্যক্তিগত যোগাযোগ কিংবা বিভিন্ন সেবায় নিবন্ধনের জন্য আমরা নিয়মিত ই-মেইল ব্যবহার করি। ফলে সময়ের সঙ্গে ইনবক্স ভরে যায় অপ্রয়োজনীয় বার্তা, স্প্যাম, কিংবা সন্দেহজনক ই-মেইলে। এসব থেকে মুক্ত থাকতে কিছু সহজ কৌশল জানা জরুরি।
স্প্যাম হিসেবে চিহ্নিত করবেন যেভাবে
যে ই-মেইলকে অপ্রয়োজনীয় বা সন্দেহজনক মনে হবে, সেটিকে স্প্যাম হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেন। এজন্য ই-মেইল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে বার্তাটি নির্বাচন করে ‘রিপোর্ট স্প্যাম’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। ভুলবশত কোনো প্রয়োজনীয় মেইল স্প্যামে চলে গেলে সেটিও আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়।
স্প্যাম এড়াতে প্রেরককে কনট্যাক্ট তালিকায় যুক্ত করা বা নির্দিষ্ট ফিল্টার তৈরি করাও কার্যকর। তবে সবকিছু করার পরও যদি প্রয়োজনীয় ই-মেইল স্প্যামে চলে যায়, তাহলে প্রেরকের পক্ষ থেকে নির্ধারিত নিয়ম ঠিকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।
পরিচিত কারও কাছ থেকে স্প্যাম এলে যা করবেন
পরিচিত কারও ই-মেইল ঠিকানা থেকে স্প্যাম এলে ধরে নেওয়া যেতে পারে তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সেই ই-মেইলের জবাব না দেওয়াই ভালো। বরং বার্তাটি সন্দেহজনক হিসেবে রিপোর্ট করতে হবে এবং অন্য কোনো মাধ্যমে তাকে বিষয়টি জানানো উচিত।
অপ্রয়োজনীয় প্রেরককে ব্লক করার উপায়
যে প্রেরকের কাছ থেকে নিয়মিত অপ্রয়োজনীয় ই-মেইল আসে, তাকে সহজেই ব্লক করা যায়। সংশ্লিষ্ট ই-মেইল খুলে ‘ব্লক’ অপশনে ক্লিক করলেই ভবিষ্যতে তার পাঠানো বার্তা আর ইনবক্সে আসবে না।
মেইলবোম্বিং থেকে সুরক্ষা
মেইলবোম্বিং হলো এমন একটি কৌশল, যেখানে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ ই-মেইল পাঠিয়ে ইনবক্স ভরে ফেলা হয়, যাতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা চোখ এড়িয়ে যায়। এ ধরনের আক্রমণ থেকে সুরক্ষার জন্য সতর্ক থাকা জরুরি।
সাধারণত কেউ যদি আপনার ই-মেইল ঠিকানা জেনে যায়, তবে এই ধরনের আক্রমণ চালানো সম্ভব। তাই অজানা উৎসে ই-মেইল ঠিকানা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
অনেক সময় ই-মেইল সেবা প্রদানকারী নিজেই সতর্কবার্তা দেয়, যদি অস্বাভাবিকভাবে বেশি মেইল আসতে থাকে। এ ধরনের সতর্কতা পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনবক্সে অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয় বার্তা জমে থাকলে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বার্তা চোখ এড়িয়ে যেতে পারে, যা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই নিয়মিত ইনবক্স পরিষ্কার রাখা এবং সন্দেহজনক ই-মেইল সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া