বিজ্ঞানীদের ধারণা

২০৪৫ সালের মধ্যে মানবতা পৌঁছাবে মানব-মেশিন একীভূত বুদ্ধিমত্তার যুগে

Staff Reporter

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪৬

২০৪৫ সালের মধ্যে মানবতা পৌঁছাবে মানব-মেশিন একীভূত বুদ্ধিমত্তার যুগে
ছবি : সংগৃহীত

মানুষ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংমিশ্রণ এমন এক ধাপের দিকে এগোচ্ছে যা মানব ইতিহাসে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাত্র ১৯ বছরের মধ্যে আমরা এমন এক সময়ের সামনে দাঁড়াব যেখানে মানুষের প্রাকৃতিক বুদ্ধিমত্তা এবং মেশিনের বুদ্ধিমত্তা একীভূত হয়ে নতুন যুগের সূচনা করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও ফিউচারিস্ট রে করজওয়েল দীর্ঘদিন ধরে বলছেন, মানুষের বুদ্ধিমত্তা এক মিলিয়ন গুণ বৃদ্ধি পাবে। ১৯৯৯ সালে তিনি পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা এজিআই তখনই সম্ভব হবে যখন এমন প্রযুক্তি তৈরি হবে যা প্রতি সেকেন্ডে এক ট্রিলিয়ন হিসাব করতে সক্ষম। সেই সময়কার বিশেষজ্ঞরা এটিকে অমূলক মনে করেছিলেন। কিন্তু ২০২৯ সালের দিকে এই প্রযুক্তি আসার সম্ভাবনা এবং এআইর অগ্রগতি নিয়ে করজওয়েলের পূর্বাভাস এখন বাস্তবতার কাছাকাছি।

২০২৪ সালে প্রকাশিত তার বই ‘দ্য সিঙ্গুলারিটি ইজ নিয়র’-এ করজওয়েল পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ২০৪৫ সালের মধ্যে মানুষের বুদ্ধিমত্তা ন্যানোবট-এর মাধ্যমে এক মিলিয়ন গুণ বৃদ্ধি পাবে। ন্যানোবটগুলো ক্ষুদ্র রক্তনালির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করবে এবং মস্তিষ্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। এর ফলে মানুষের প্রাকৃতিক বুদ্ধিমত্তা এবং সাইবারনেটিক বুদ্ধিমত্তা একীভূত হয়ে কাজ করবে।

কিন্তু শুধু করজওয়েল নয়, অন্যান্য দার্শনিক ও এআই বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন, মানুষের এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কোনো না কোনো সংমিশ্রণ অনিবার্য। অক্সফোর্ডের মার্কাস ডু স্যাটোই ও নিক বস্ট্রম ২০২৪ সালে এই ভবিষ্যতের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করেছেন। তারা বলছেন, এই হাইব্রিড ভবিষ্যত অনিবার্য এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে শুরুও হয়েছে।

মানব-মেশিন একীভূত বুদ্ধিমত্তার যুগ নতুন রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রশ্নও তুলে আনবে। মানুষ কীভাবে কর্মসংস্থান বজায় রাখবে? আমরা কি চিরন্তন জীবন উপভোগ করতে পারব? মানুষের প্রকৃতি কি বদলে যাবে? করজওয়েল আশাবাদী। তিনি বলেন, ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম এবং এআইর মাধ্যমে চিকিৎসা ও বিজ্ঞান এমন অগ্রগতি আনবে, যা চিরন্তন জীবনকে আংশিকভাবে সম্ভব করে তুলতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ২০৩০-এর দশকের শুরুতে আমরা লংজেভিটি এসকেপ ভেলোসিটি-এ পৌঁছাব। অর্থাৎ প্রতিটি বয়সজনিত ক্ষতি বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির মাধ্যমে পূরণ হবে এবং অতিরিক্ত বছরও ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে। যদিও এটি চিরন্তন জীবন নিশ্চিত করে না, দুর্ঘটনা সবসময় ঘটতে পারে, তবে মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রতি বছর কমে যাবে।

প্রযুক্তি-নির্ভর এই নতুন যুগ মানব জীবনের দিক বদলাবে। মানব-মেশিন একীভূত বুদ্ধিমত্তার যুগ এখন শুধু তাত্ত্বিক নয়, বরং বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে।

সূত্র : পপুলার মেকানিকস ডটকম

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন