পেইড সুবিধা আনছে হোয়াটসঅ্যাপ, ফিচারে নেই বড় চমক
ব্যবহার আরও ব্যক্তিগতকৃত করতে নতুন পেইড সাবস্ক্রিপশন সুবিধা পরীক্ষা করছে হোয়াটসঅ্যাপ। তবে নতুন এই পরিকল্পনায় বড় কোনো কার্যকরী পরিবর্তনের বদলে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মূলত সাজসজ্জা বা কসমেটিক ফিচারে। ফলে ব্যবহারকারীদের জন্য এটি কতটা আকর্ষণীয় হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মেটার এক মুখপাত্র জানান, এটি একটি ঐচ্ছিক সাবস্ক্রিপশন, যা ব্যবহারকারীদের অ্যাপ ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে আরও গুছিয়ে ও নিজের মতো করে সাজানোর সুযোগ দেবে। এতে থাকবে বাড়তি পিন করা চ্যাট, কাস্টম তালিকা এবং নতুন চ্যাট থিমসহ নানা সুবিধা।
নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা আগের মতো তিনটির বদলে সর্বোচ্চ ২০টি চ্যাট পিন করতে পারবেন। পাশাপাশি আলাদা থিম, রিংটোন ও নোটিফিকেশন সাউন্ড ব্যবহার করে চ্যাট তালিকাকে আরও ব্যক্তিগতভাবে সাজানো যাবে।
তবে এই সাবস্ক্রিপশনে বড় কোনো নতুন ফিচার যোগ হয়নি। মূল ব্যবহারিক দিক প্রায় একই থাকছে, পরিবর্তন সীমিত থাকছে বাহ্যিক সাজসজ্জায়।
মূল্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে প্রযুক্তি ব্লগ ডব্লিউএ বেটা ইনফো'র তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে মাসে প্রায় ২ দশমিক ৪৯ ইউরো এবং পাকিস্তানে ২২৯ পিকেয়ার হতে পারে এই সেবার খরচ। কিছু ব্যবহারকারীকে এক মাসের বিনা মূল্যের ট্রায়ালও দেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, এক দশকেরও বেশি আগে কিছু অঞ্চলে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে বার্ষিক ১ ডলার ফি ছিল। পরে ২০১৬ সালে সেটি বাতিল করা হয়। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটি পেইড মেসেজিং ও ক্লিক-টু-হোয়াটসঅ্যাপ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয় বাড়াচ্ছে।
মেটা জানায়, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে তাদের অ্যাপ পরিবার থেকে আয় ৫৪ শতাংশ বেড়ে ৮০১ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর বড় অংশ এসেছে হোয়াটসঅ্যাপভিত্তিক পেইড মেসেজিং থেকে। একই সময়ে হোয়াটসঅ্যাপের বার্ষিক আয় ২ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।
তবে ‘হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস’ এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে বিশ্বের ৩০০ কোটির বেশি ব্যবহারকারীর মধ্যে অল্পসংখ্যকই আপাতত এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। স্বল্পমেয়াদে এটি প্রতিষ্ঠানের আয়ে বড় প্রভাব ফেলবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: টেকক্রাঞ্চ