এআই খাতে ব্যয়ের চাপ সামলাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে মেটা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিপুল বিনিয়োগের চাপ সামলাতে বড় ধরনের পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটা। এর অংশ হিসেবে আগামী ২০ মে থেকে শুরু হচ্ছে কোম্পানির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ছাঁটাইয়ের প্রথম ধাপ। এতে প্রায় ৮ হাজার কর্মী চাকরি হারাতে পারেন।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা জানিয়েছে, এটি একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং ধাপে ধাপে চলা পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ। প্রথম ধাপের পর ২০২৬ সালের শেষ দিকে আরও একটি বড় ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে, যদিও সেটির বিস্তারিত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
কোম্পানিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ এআই অবকাঠামোকে ভবিষ্যৎ কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছর শুধু এ খাতেই ব্যয় হতে পারে প্রায় ১৩৫ বিলিয়ন ডলার। আর ২০২৮ সাল পর্যন্ত এই বিনিয়োগ ৬০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
এই বিশাল ব্যয়ের চাপ সামলাতে কর্মী কাঠামো পুনর্গঠনের দিকে যাচ্ছে মেটা। বিশেষ করে যেসব বিভাগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়, সেগুলো বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে বিক্রয়, নিয়োগ, অপারেশনস এবং মধ্যপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা উল্লেখযোগ্য।
ইতোমধ্যে কোম্পানির ভেতরে একাধিক পরিবর্তন শুরু হয়েছে। কিছু প্রকৌশলীকে নতুন ‘অ্যাপ্লায়েড এআই’ ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই ইউনিটে মূলত স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোড লেখা ও জটিল কাজ সম্পাদন করতে সক্ষম এআই এজেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ছোট ব্যবসা কেন্দ্রিক নতুন একটি ইউনিটেও কর্মী স্থানান্তর চলছে।
চলতি বছরের শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে কর্মী কমানোর প্রক্রিয়া চলছে। জানুয়ারিতে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বিভাগ থেকে এক হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাই করা হয়। মার্চ মাসে বিক্রয় ও নিয়োগ বিভাগেও ছোট পরিসরে পুনর্গঠন করা হয়। ফলে স্পষ্ট হচ্ছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, মেটার এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য একটি এআই নির্ভর, তুলনামূলকভাবে ছোট কিন্তু বেশি কার্যকর কর্মী কাঠামো গড়ে তোলা। যেখানে কম মানবশক্তি দিয়ে বেশি কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
প্রথম ধাপে ২০ মে প্রায় ৮ হাজার কর্মী প্রভাবিত হতে পারেন। তবে দ্বিতীয় ধাপ আরও বিস্তৃত হতে পারে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ২০২৬ সাল মেটার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কর্মী সংকোচনের বছর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।