এআই প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থান নিতে কোডিংয়ে সক্রিয় জাকারবার্গ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থান নিতে সরাসরি মাঠে নেমেছেন মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। শুধু প্রশাসনিক নেতৃত্ব নয়, এবার তিনি নিজেই কোডিংয়ে সক্রিয় হয়েছেন এবং গবেষকদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করছেন।
মেটার প্রেসিডেন্ট দিনা পাওয়েল ম্যাককরমিক জানিয়েছেন, জাকারবার্গ এখন কোম্পানির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ল্যাবেই বেশি সময় কাটাচ্ছেন। তিনি এআই প্রধান অ্যালেক্সান্দ্র ওয়াং এবং প্রযুক্তি নেতা ন্যাট ফ্রিডম্যানের পাশে বসে কাজ করছেন। দিনের বড় অংশজুড়ে তিনি বিভিন্ন এআই প্রকল্পে কোড লিখছেন।
ম্যাককরমিক আরও জানান, জাকারবার্গ নিজের ডেস্ক সরিয়ে এআই ল্যাবের ভেতরেই বসার ব্যবস্থা করেছেন। এতে তিনি সরাসরি গবেষকদের কাজ পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় আরও গভীরভাবে যুক্ত থাকতে পারছেন। বিষয়টি নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে হালকা রসিকতাও চলছে। কেউ কেউ বলছেন, কোডিংয়ের ফাঁকে জাকারবার্গের কাছ থেকে বাড়তি পরামর্শও পাওয়া যাচ্ছে।
তবে বিষয়টি শুধুই প্রতীকী নয় বলে মনে করেন মেটা প্রেসিডেন্ট। তার মতে, জাকারবার্গ বিশ্বাস করেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বুঝতে হলে কেবল নেতৃত্ব নয়, প্রযুক্তির গভীরে প্রবেশ করা জরুরি। তাই তিনি সরাসরি কোডিংয়ে সময় দিচ্ছেন এবং প্রকল্পের অগ্রগতি খুঁটিয়ে দেখছেন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই উন্নয়নে জাকারবার্গ সাম্প্রতিক সময়ে ব্যক্তিগতভাবে আরও বেশি সময় দিচ্ছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার মেনলো পার্কে মেটার প্রধান কার্যালয়ে কর্মপরিবেশও তিনি পুনর্বিন্যাস করেছেন, যাতে নতুন কর্মীরা তার কাছাকাছি বসে কাজ করতে পারেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিনি সপ্তাহে প্রায় পাঁচ থেকে দশ ঘণ্টা বিভিন্ন এআই প্রকল্পে কোডিং করেন এবং অন্যদের কাজও পর্যালোচনা করেন।
এআই খাতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মেটা গঠন করেছে নতুন ইউনিট ‘সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবস’। এই উদ্যোগে বিপুল বিনিয়োগ করা হয়েছে, যার মধ্যে স্কেল এআই নামের প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগও রয়েছে। এই ইউনিটের সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যালেক্সান্দ্র ওয়াংকেও মেটায় যুক্ত করা হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও জাকারবার্গ সরাসরি যুক্ত আছেন।
এছাড়া গিটহাবের সাবেক প্রধান নির্বাহী ন্যাট ফ্রিডম্যানও মেটায় যোগ দিয়েছেন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পণ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
বিশ্বের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে এআই প্রতিযোগিতা এখন তীব্র। ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি, গুগলের জেমিনি এবং অ্যানথ্রপিকের ক্লড ইতোমধ্যে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। বিশেষ করে অ্যানথ্রপিকের কিছু উন্নত মডেল নিয়ে নিরাপত্তা ও সক্ষমতার বিষয়টি প্রযুক্তি অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে।
এই প্রতিযোগিতার মধ্যেই মেটা নতুন করে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি তাদের নতুন এআই মডেল ‘মিউজ স্পার্ক’ প্রকাশের পর কোম্পানির শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, প্রচলিত নেতৃত্বের বাইরে গিয়ে সরাসরি প্রযুক্তির কেন্দ্রে অবস্থান নিয়ে জাকারবার্গ দেখাচ্ছেন নতুন এক ধারা। এখন তিনি শুধু সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না, বরং কোড লিখেই ভবিষ্যতের প্রযুক্তি গড়ার অংশ হচ্ছেন।
সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার