এআই লেখা আর্টিকেল শিক্ষকরা যেভাবে সনাক্ত করবেন
বর্তমান সময়ে কোনো লেখা মানুষ লিখেছে নাকি এআই লিখেছে তা চেনা খুবেই গুরুত্বপূর্ণ। চ্যাটজিপিটি এবং অন্যান্য এআই টুল এখন দৈনন্দিন কাজকে সহজ করে দিচ্ছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা যখন মুহূর্তে পুরো অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করে, তখন সেই লেখাগুলো স্বাভাবিকতার বাইরে চলে যায়।
এআই দিয়ে লেখা সহজেই চেনা যায় কারণ লেখা প্রায়শই ‘সঠিক কিন্তু প্রাণশূন্য’ হয়। অনেক সময় শব্দগুলো বড় এবং অতিরিক্ত ব্যবহৃত হয়, যা প্রম্পটের মতোই পুনরাবৃত্তি করে। উদাহরণস্বরূপ, যারা সাধারণত ছোট বাক্য ব্যবহার করে, তারা হঠাৎ ‘মাল্টিফেসেটেড অ্যানালাইসিস’ বা ‘ডেলভ’ শব্দ ব্যবহার করলে সন্দেহ হয়। এআই লেখাগুলো ক্লিশে ভালোবাসে এবং প্রতিটি প্যারাগ্রাফের শেষে ‘উপসংহার’ দিয়ে সারসংক্ষেপ দেয়।
এআই লেখা চেনার প্রধান উপায়
- প্রম্পটের মূল শব্দগুলো বারবার ব্যবহৃত হয়।
- ভুল তথ্য থাকতে পারে, কারণ এআই কখনও কখনও হ্যালুসিনেট করে।
- বাক্যগুলো স্বাভাবিক শোনায় না।
- ব্যাখ্যা সাধারণ এবং পুনরাবৃত্তিমূলক হয়।
- টোন বা লেখা ব্যবহারকারীর স্বাভাবিক শৈলীর সঙ্গে মিল রাখে না।
শিক্ষকরা কীভাবে এআই লেখা চিহ্নিত করবেন:
এআই ক্ষমতা বোঝা: কিছু এআই টুল মুহূর্তেই পুরো লেখা তৈরি করতে পারে। সেই টুলগুলো সম্পর্কে জানা শিক্ষকদের এআই চিহ্নিত করতে সাহায্য করে।
যেভাবে ছাত্ররা কৌশল অবলম্বন করে, সেই পথ ব্যবহার করা: সেমিস্টার শুরু হওয়ার আগে সব অ্যাসাইনমেন্ট চ্যাটজিপিটিতে পরীক্ষা করে দেখুন। এতে বোঝা যায় ছাত্ররা কেমন ধরনের এআই লেখা ব্যবহার করতে পারে।
ছাত্রদের আসল লেখা সংগ্রহ করা: সেমিস্টারের শুরুতে একটি ছোট, ব্যক্তিগত লেখা জমা দিতে বলুন। যেমন: ‘আপনার প্রিয় খেলনা সম্পর্কে ২০০ শব্দ লিখুন।’ পরে সন্দেহভাজন লেখা এর সঙ্গে তুলনা করতে পারবেন।
রিরাইট চাওয়া: যদি কোনো লেখা এআই দ্বারা লেখা সন্দেহ হয়, সেটি একটি এআই টুল দিয়ে পুনরায় লিখতে বলুন। সাধারণত এআই নিজের লেখা খুব অলসভাবে রিরাইট করে, শুধু শব্দ পরিবর্তন করে মূল অর্থ অপরিবর্তিত রাখে।
যথেষ্ট প্রমাণ রাখুন এবং সন্দেহজনক লেখার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। নতুন এআই যুগে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সহযোগিতা এবং শিক্ষাকে আকর্ষণীয় করা শিক্ষকদের জন্য আসল চ্যালেঞ্জ।