শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনছে যুক্তরাজ্য
যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামী সোমবার এক ভাষণে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সরকার আগে থেকেই শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন নীতিগত বিকল্প পর্যালোচনা করছিল। তবে গার্ডিয়ান ও ফিনান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, এখন সরকার সরাসরি নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা ঘোষণা করার দিকে এগোচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এটি শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তায় যুক্তরাজ্যের বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, রেডিট, ফেসবুক, এক্স, থ্রেডস, স্ন্যাপচ্যাট, টুইচ ও কিকের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ১৬ বছরের নিচের ব্যবহারকারীদের জন্য সীমিত বা নিষিদ্ধ হতে পারে।
তবে গেমিং অ্যাপগুলো পুরোপুরি বন্ধ করা হবে না। সেগুলোর ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য কিছু ফিচার সীমিত করা হতে পারে, বিশেষ করে অচেনা ব্যবহারকারীর সঙ্গে সরাসরি বার্তা আদানপ্রদান বন্ধের মতো ব্যবস্থা।
এছাড়া ১৮ বছরের নিচের ব্যবহারকারীদের জন্য রোমান্টিক বা যৌনধর্মী চ্যাটবট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আনার বিষয়েও আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে রাতে দীর্ঘ সময় ধরে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের প্রবণতা কমাতে নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সরকার বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক কাঠামো ব্যবহার করে কিছু বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে পুরো পরিকল্পনা কার্যকর করতে নতুন আইন প্রণয়ন প্রয়োজন হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার পর যুক্তরাজ্যও এখন শিশুদের অনলাইন উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও বয়স যাচাই সংক্রান্ত আইন কার্যকর হয়েছে।
তবে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে গোপনীয়তা, অনলাইন স্বাধীনতা এবং বাস্তব প্রয়োগযোগ্যতা নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স যাচাই ব্যবস্থা পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয় এবং এটি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে সমর্থকদের মতে, এই উদ্যোগ শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও অনলাইন নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সমালোচকরা মনে করেন, এতে শিশুদের ডিজিটাল বিচ্ছিন্নতা আরও বাড়তে পারে।