মাইক্রোসফটের কোপাইলট ব্যবহার করছে অ্যাকসেঞ্চারের ৭ লাখ কর্মী

Tech World Desk

টেক ওয়ার্ল্ড ডেস্ক

সোমবার, ৪ মে ২০২৬, ১১:২৪

মাইক্রোসফটের কোপাইলট ব্যবহার করছে অ্যাকসেঞ্চারের ৭ লাখ কর্মী
ছবি : নিউজ ডট মাইক্রোসফট

বিশ্বজুড়ে করপোরেট কাজের ধরনে বড় পরিবর্তন আনছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট-এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী কোপাইলট। এই প্রযুক্তি এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে পেশাদার সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান অ্যাকসেঞ্চার-এর প্রায় ৭ লাখ ৪৩ হাজার কর্মী।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, কোপাইলট ব্যবহারের ফলে অনেক কর্মী দৈনন্দিন কাজ আগের তুলনায় প্রায় ১৫ গুণ দ্রুত সম্পন্ন করতে পারছেন। ২০২৫ সালের এক অভ্যন্তরীণ জরিপে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী কর্মীদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন।

অ্যাকসেঞ্চারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা টনি লেরারিস বলেন, কোপাইলট এখন কর্মীদের জন্য এক ধরনের ডিজিটাল সহকর্মীর মতো কাজ করছে। এটি গবেষণা, পরিকল্পনা, বিশ্লেষণ এবং দৈনন্দিন কাজ সম্পাদনে সহায়তা করছে।

ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন

২০২৩ সালের আগস্টে মাইক্রোসফটের কোপাইলট চালুর পর দ্রুতই এটি ব্যবহারের পরিকল্পনা শুরু করে অ্যাকসেঞ্চার। প্রথমে কয়েকশ কর্মকর্তা ও কর্মীর মধ্যে সীমিত আকারে এটি পরীক্ষা করা হয়। পরে ধাপে ধাপে ব্যবহার বাড়িয়ে তা হাজার হাজার কর্মীতে সম্প্রসারণ করা হয়।

এই সময় প্রতিষ্ঠানটি তথ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মীরা কীভাবে কোপাইলট ব্যবহার করছেন তা বিশ্লেষণে গুরুত্ব দেয়। পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজে এর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি কাঠামো তৈরি করা হয়।

মানুষকেন্দ্রিক পদ্ধতি

প্রযুক্তির পাশাপাশি কর্মীদের প্রস্তুত করাকেও গুরুত্ব দিয়েছে অ্যাকসেঞ্চার। এজন্য প্রশিক্ষণ, নিয়মিত অভিজ্ঞতা বিনিময়, দলভিত্তিক শেখানো এবং ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার ব্যবস্থা রাখা হয়।

এক জরিপে দেখা যায়, প্রায় ২ লাখ ব্যবহারকারীর মধ্যে ৮৯ শতাংশ নিয়মিত কোপাইলট ব্যবহার করছেন। তাদের মধ্যে ৮৪ শতাংশ জানিয়েছেন, এই টুল ছাড়া কাজ করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

কাজের ধরনে পরিবর্তন

অ্যাকসেঞ্চারের বিপণন ও যোগাযোগ বিভাগেও কোপাইলট বড় পরিবর্তন এনেছে। লেখক, নকশাবিদ ও কনটেন্ট নির্মাতারা এখন এটি ব্যবহার করে খসড়া তৈরি, সম্পাদনা এবং পুরোনো কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য যাচাই করছেন।

প্রতিষ্ঠানটির বিপণন বিভাগের এক কর্মকর্তা জেসন ওয়ার্নকে বলেন, একই বার্তা বিভিন্ন অঞ্চলে সমন্বিতভাবে রাখা আগে কঠিন ছিল। এখন কোপাইলট সেই কাজ অনেক সহজ করেছে।

নকশাবিদ ও অন্যান্য কর্মীরাও এখন প্রাথমিক ধারণা তৈরি এবং উপস্থাপনা তৈরিতে কোপাইলট ব্যবহার করছেন। ফলে অপ্রযুক্তিগত কর্মীরাও দ্রুত মানসম্মত কাজ করতে পারছেন।

বিক্রয় ও বিশ্লেষণে গতি

অ্যাকসেঞ্চারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাভানেড কোপাইলট ব্যবহার করে ‘তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত সহায়তা’ নামে একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যা গ্রাহক সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।

এই ব্যবস্থার ফলে বিক্রয়কর্মীরা আগের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেশি সম্ভাব্য ব্যবসার সুযোগ তৈরি করতে পারছেন। আগে যে বিশ্লেষণে দিন বা সপ্তাহ লাগত, এখন তা কয়েক সেকেন্ডেই সম্ভব হচ্ছে।

কাজের ভেতরেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

কোপাইলট সরাসরি দৈনন্দিন ব্যবহৃত সফটওয়্যারের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এটি ব্যবহার সহজ হয়েছে। ই-মেইল, নথি তৈরি এবং অনলাইন মিটিংয়ের মধ্যেই এটি সহায়তা দিচ্ছে।

অ্যাকসেঞ্চারের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাফল্য নির্ভর করে শুধু প্রযুক্তির ওপর নয়, বরং কর্মীরা কীভাবে সেটি ব্যবহার করছে তার ওপর।

প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে কোপাইলট শুধু একটি টুল নয়, বরং কাজের ধরন পরিবর্তনের একটি বড় মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন