অফিসে কাজে নতুন গতি আনছে গুগলের এআই
অফিসের দৈনন্দিন কাজকে আরও দ্রুত ও সহজ করতে নতুন কৌশল নিয়েছে গুগল। তাদের জনপ্রিয় অফিস সফটওয়্যার প্যাকেজ গুগল ওয়ার্কস্পেস-এ যুক্ত করা হয়েছে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সুবিধা। নতুন এই হালনাগাদের ফলে ই-মেইল লেখা থেকে শুরু করে তথ্য বিশ্লেষণ পর্যন্ত নানা কাজেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহায়তা দেবে।
সম্প্রতি আয়োজিত গুগল ক্লাউড নেক্সট সম্মেলনে এসব নতুন সুবিধার ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন অফিসে কাজ করার ধরনেই বড় রূপান্তর আনতে পারে।
নতুন সংযোজনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ‘ওয়ার্কস্পেস বুদ্ধিমত্তা’। এটি এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা, যা ব্যবহারকারীর জিমেইল, ক্যালেন্ডার, চ্যাট ও ড্রাইভের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ সহজ করে দেয়। ব্যবহারকারীরা চাইলে কোন তথ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করবে তা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। তবে বেশি তথ্য দিলে এটি আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে বলে জানিয়েছে গুগল।
তথ্য ব্যবস্থাপনাতেও এসেছে বড় পরিবর্তন। গুগল শিটস-এ এখন শুধু নির্দেশ দিলেই সম্পূর্ণ শিট তৈরি করে দিতে পারবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এমনকি এলোমেলো বা অসম্পূর্ণ তথ্য সাজিয়ে সারণি তৈরি করাও সম্ভব। গুগলের দাবি, এতে কাজের গতি আগের তুলনায় প্রায় ৯ গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
লেখালেখির ক্ষেত্রেও যুক্ত হয়েছে নতুন সুবিধা। গুগল ডক্স-এ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে লেখা তৈরি, সম্পাদনা এবং ধরন নির্ধারণ করা যাবে। ব্যবহারকারী নিজের লেখার ধরণ অনুযায়ী বিষয়বস্তু তৈরি করতে পারবেন। ফলে প্রতিবেদন বা অফিসিয়াল নথি তৈরি করা আরও সহজ হবে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সুবিধা মূলত সময়সাপেক্ষ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ কমিয়ে দেবে। এতে কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ কাজে আরও বেশি সময় দিতে পারবেন।
প্রতিযোগিতার দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। মাইক্রোসফট ও অ্যাপল-সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুল উন্নয়নে কাজ করছে। ফলে করপোরেট সফটওয়্যার বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গুগলের বড় সুবিধা হলো তাদের সফটওয়্যার ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত। তাই নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সুবিধাগুলো দ্রুত ব্যবহারকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও বেশি।