আবারও বিশ্বজুড়ে বিভ্রাটের কবলে চ্যাটজিপিটি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটের ওপর নির্ভরতা যত বাড়ছে, ততই এর সামান্য ত্রুটিও বড় ভোগান্তি হয়ে উঠছে। সোমবার হঠাৎ করেই বিশ্বজুড়ে অচল হয়ে পড়ে চ্যাটজিপিটি। কেউ লগ-ইন করতে পারেননি, কেউ আবার পুরোনো কথোপকথন খুলতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। কয়েক ঘণ্টার অস্থিরতার পর সেবা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই জানায়, সমস্যার সমাধান দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ডাউনডিটেক্টরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সোমবার বিকেল প্রায় ৩টা ৫ মিনিটে সমস্যার বড় ধরনের ইঙ্গিত দেখা যায়। যুক্তরাজ্যে একসময় ৮ হাজার ৭০০টির বেশি অভিযোগ জমা পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রে অভিযোগ ছিল প্রায় ১ হাজার ৯০০টি।
ওপেনএআইয়ের স্ট্যাটাস পেইজে জানানো হয়, অন্তত ৯০ মিনিট ধরে আংশিক বিভ্রাট চলেছে। পরে সমাধান দেওয়ার পর বেশিরভাগ ব্যবহারকারীর জন্য সেবা আবার চালু হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি এখনো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।
এক জরিপে দেখা গেছে, ৬৩ শতাংশ ব্যবহারকারীর প্রধান সমস্যা ছিল পুরোনো কথোপকথন দেখতে না পারা। ২৭ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তারা লগইনই করতে পারেননি।
বিভ্রাট চলাকালে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন ব্যবহারকারীরা। কারও পর্দায় খালি পাতা দেখা গেছে, কারও ক্ষেত্রে উত্তর পেতে সময় লেগেছে বেশি। আবার কেউ নতুন কথোপকথন শুরু করতে পারলেও আগের তথ্য দেখতে পারেননি। ফলে সবাই একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হননি।
শুরুতে বিষয়টিকে ‘সেবার মান কমে যাওয়া’ হিসেবে উল্লেখ করলেও পরে ওপেনএআই এটিকে ‘আংশিক বিভ্রাট’ হিসেবে চিহ্নিত করে। এতে কথোপকথন, লগ-ইন, ভয়েস মোড, ছবি তৈরি সহ বিভিন্ন সুবিধা ব্যাহত হয়। চ্যাটজিপিটির পাশাপাশি কোডেক্স ও এপিআই প্ল্যাটফর্মও প্রভাবিত হয়।

রাতের দিকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। ডাউনডিটেক্টরে অভিযোগ দ্রুত কমতে থাকে। ওপেনএআই জানায়, সমাধান দেওয়ার পরও তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, দৈনন্দিন কাজ থেকে সৃজনশীলতা পর্যন্ত চ্যাটজিপিটির ওপর নির্ভরতা কতটা বেড়েছে। হঠাৎ এমন বিভ্রাটে তাই বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীদের কাজে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
সূত্র : টেকরাডার