বাংলাদেশে ৮ মাসে স্টারলিংকের গ্রাহক মাত্র সাড়ে ৩ হাজার

Staff Reporter

নিজস্ব প্রতিবেদক

শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:১১

বাংলাদেশে ৮ মাসে স্টারলিংকের গ্রাহক মাত্র সাড়ে ৩ হাজার
ছবি : টাইমস অব ইন্ডিয়া

ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর প্রথম আট মাসে প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি। স্থানীয় ব্রডব্যান্ডের তুলনায় দামের উচ্চতার কারণে সাধারণ গ্রাহকরা এই সেবার দিকে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত স্পেসএক্স পরিচালিত স্টারলিংকের গ্রাহক সংখ্যা ছিল মাত্র ৩ হাজার ৪শ’ ৬৯ ।

স্টারলিংক ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশে লাইসেন্স পেয়েছিল এবং ২০ মে আনুষ্ঠানিকভাবে সেবা চালু করা হয়। শুরুতে তারা দুটি আবাসিক প্যাকেজ চালু করেছিল, যার মাসিক খরচ ছিল যথাক্রমে ৬ হাজার ও ৪ হাজার ২শ’ টাকা।

স্থানীয় ব্রডব্যান্ডের দাম তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ৫ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেটের জন্য মাসিক গড়ে খরচ ৪শ’  টাকা এবং ৪০ এমবিপিএস পর্যন্ত ১ হাজার ২শ’ টাকা পর্যন্ত। দেশে বর্তমানে মোট ১৩ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী আছে, যার মধ্যে ১.৪৫ কোটি ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারী।

অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে স্টারলিংকের গ্রহণযোগ্যতা ধীর। উদাহরণস্বরূপ, কেনিয়াতে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে চালুর পর আট মাসে ৪ হাজার ৮শ’ ০৮ জন গ্রাহক যুক্ত হয়েছিল। একইভাবে, নাইজেরিয়ায় ২০২৩ সালের জানুয়ারি চালুর ১১ মাসে ২৩ হাজার ৮শ’ ৯৭ জন ব্যবহারকারী সেবা গ্রহণ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ঘনবসতি, সাশ্রয়ী মূল্যের ফাইবার কভারেজ এবং মোবাইল ইন্টারনেটের বিস্তৃত ব্যবহার স্টারলিংকের জনপ্রিয়তা সীমিত করেছে।

বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানির সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং জেনারেল ম্যানেজার শাহ আহমেদুল কবীর বলেন, ‘সাধারণ ব্যবহারকারীরা মূলত ফাইবার সংযুক্ত এলাকায় থাকে। তাই আমরা দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, চরাঞ্চল, মাছ ধরার নৌকা এবং দীর্ঘ দূরত্বের বাস ও ট্রেনে এই সেবার জন্য বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছি।’

এ পর্যন্ত বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি প্রায় ৪শ’ স্টারলিংক টার্মিনাল বিক্রি করেছে এবং তিনটি পাহাড়ি জেলায় ১২টি স্কুল সংযোগ পেয়েছে। আগামীতে আরও ১শ’ ৫০টির বেশি স্কুলে সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

ফেলিসিটি আইডিসি-র প্রধান নির্বাহী শরফুল আলম জানান, করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত স্টারলিংককে ব্যাকআপ ইন্টারনেট হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, ‘দামের বড় ব্যবধানের কারণে সাধারণ মানুষ বিদ্যমান ব্রডব্যান্ড পরিষেবা ছাড়বে বলে আশা করা যায় না।’

ফেলিসিটি আইডিসির স্টারলিংক প্যাকেজের দাম ২৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত, যা ১ টেরাবাইট থেকে ৪ টেরাবাইট ডেটা প্রদান করছে।

স্টারলিংক ইতোমধ্যে কালিয়াকৈর হাই-টেক সিটিতে অবকাঠামো স্থাপন করেছে, যেটির গেটওয়ে পরিচালনা করছে ফেলিসিটি আইডিসি। এছাড়া রাজশাহী ও যশোরেও স্টারলিংকের গেটওয়ে রয়েছে। সামিট কমিউনিকেশনস ফাইবার লিংকের মাধ্যমে এই সাইটগুলো সংযুক্ত করেছে।

প্রতিবেশী দেশে আনফিল্টারড ব্যান্ডউইডথ রফতানি করার প্রস্তাব দিয়েছে স্টারলিংক। বিএটিআরসি এই প্রস্তাব মূল্যায়ন করছে এবং সরকারী অনুমোদন নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জোর দিয়েছেন যে বিদেশি ট্রাফিক দেশীয় ব্যবহারকারীর ট্রাফিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি অনুমোদিত হলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক ডেটা হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে এবং স্থানীয় অপারেটরদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। তবে রিয়েল-টাইম মনিটরিং এবং কঠোর কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন