কাউন্টার পয়েন্ট-এর প্রতিবেদন
চীনের স্মার্টফোন বাজারে শীর্ষে হুয়াওয়ে, তলানিতে শাওমি
চীনের স্মার্টফোন বাজারে আবারও ধীরগতির সংকেত দেখা দিয়েছে। বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিক্রি কমে গেছে, একই সঙ্গে বেড়েছে উৎপাদন খরচের চাপ। মেমোরি চিপের ঘাটতি ও দাম বৃদ্ধির কারণে বড় ব্র্যান্ডগুলো এখন লাভ ও বিক্রির মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।
পরিসংখ্যানভিত্তিক গবেষণা সংস্থা কাউন্টার পয়েন্টের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে চীনে স্মার্টফোন শিপমেন্ট আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ শতাংশ কমেছে। মূলত সরকারি ভর্তুকি, ইংরেজি নতুন বছরের প্রচারণার পর স্বাভাবিক চাহিদা কমে যাওয়া এবং মেমোরি চিপের মূল্যবৃদ্ধিই এই পতনের প্রধান কারণ।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে চাহিদা এখনো দুর্বল। ইংরেজি নতুন বছরের প্রচারণার সময় কিছুটা বিক্রি বাড়লেও তা স্থায়ী হয়নি। অন্যদিকে মেমোরি চিপের দাম বাড়ায় নতুন ফোনের পাশাপাশি পুরোনো মডেলের দামও বেড়ে যাচ্ছে, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের ক্রয়ক্ষমতায় প্রভাব ফেলছে। তবে প্রিমিয়াম স্মার্টফোন সেগমেন্ট তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। উন্নত ক্যামেরা, ভাঁজযোগ্য ফোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ফিচারের কারণে উচ্চমূল্যের ফোনে আগ্রহ ধরে আছে।
বাজারে শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে হুয়াওয়ে। কোম্পানিটি প্রথম প্রান্তিকে ২০ শতাংশ বাজার শেয়ার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে, যা ২০২০ সালের পর তাদের সর্বোচ্চ অবস্থান। স্থানীয় সরবরাহ ব্যবস্থা, দাম নিয়ন্ত্রণ এবং ইংরেজি নতুন বছরের প্রচারণা তাদের বিক্রি বাড়াতে সহায়তা করেছে। একই সময়ে কোম্পানিটির বিক্রি ২ শতাংশ বেড়েছে।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অ্যাপল। আইফোন ১৭ সিরিজের শক্তিশালী চাহিদা, ছাড়মূল্য এবং সরকারি ভর্তুকির কারণে কোম্পানিটি শীর্ষ ছয় ব্র্যান্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রিমিয়াম বাজারে শক্ত অবস্থান ও সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতার কারণে বাড়তি খরচ তুলনামূলকভাবে সামলাতে সক্ষম হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে অপো। রিয়েলমি ব্র্যান্ড পুনর্গঠনের কারণে অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কোম্পানিটি। ওয়ানপ্লাস আলাদাভাবে ৫৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখালেও অপো কিছু পুরোনো মডেলের দাম বাড়ানোর কারণে চাহিদা কিছুটা কমেছে।
ভিভো প্রথম প্রান্তিকে ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, মূলত কম দামের ও মাঝারি দামের মডেলের শক্ত বিক্রির কারণে। অনার ব্র্যান্ডও একাধিক জনপ্রিয় মডেলের মাধ্যমে বিক্রি ধরে রেখেছে।
অন্যদিকে শাওমির বিক্রি ৩৫ শতাংশ কমেছে, যা শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন। কম ছাড়, দুর্বল মডেল পারফরম্যান্স এবং সতর্ক মূল্যনীতি এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছর স্মার্টফোন নির্মাতারা একই সঙ্গে বিক্রি ও মুনাফার চাপের মুখে রয়েছে। মেমোরি চিপের উচ্চ মূল্য ২০২৬ সালজুড়ে অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে বাজারে দাম আরও বাড়তে পারে এবং চাহিদা কিছুটা কমে যেতে পারে। তবে বছরের মাঝামাঝি বড় অনলাইন শপিং উৎসবের সময় বিক্রিতে কিছুটা পুনরুদ্ধারের আশা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালে চীনের স্মার্টফোন বাজারে প্রায় ৯ শতাংশ পতনের আশঙ্কা করা হলেও বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় দেশটি তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র : কাউন্টার পয়েন্ট