স্যামসাং ফোনে লুকিয়ে আছে স্মার্ট ওয়াই-ফাই সুবিধা
স্মার্টফোনে ভালো ইন্টারনেট সংযোগ এখন শুধু আরাম নয়, বরং পড়াশোনা, কাজ ও বিনোদনের জন্য অপরিহার্য। অনেকেই জানেন না, স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোনে এমন কিছু স্মার্ট ওয়াই-ফাই সুবিধা লুকিয়ে আছে, যা ব্যবহার করলে ইন্টারনেট সংযোগ আরও দ্রুত, স্থিতিশীল ও বুদ্ধিমান হয়ে ওঠে। ওয়ান ইউআই ইন্টারফেসের ভেতরে থাকা এই বিশেষ মেনুটি মূলত বিশেষজ্ঞদের জন্য তৈরি হলেও সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্যও এটি বেশ কার্যকর।
কানেক্টিভিটি ল্যাবস কী
স্যামসাংয়ের এই লুকানো ফিচারের নাম কানেক্টিভিটি ল্যাবস। এটি মূলত একটি পরীক্ষামূলক মেনু, যেখানে উন্নত ওয়াই-ফাই নিয়ন্ত্রণ, সংযোগ বিশ্লেষণ এবং স্মার্ট সুইচিংয়ের মতো সুবিধা একসঙ্গে পাওয়া যায়। গ্যালাক্সি এস টোয়েন্টি সিরিজ ও এর পরের মডেলগুলোতে, যেগুলোতে ওয়ান ইউআই সিক্স বা তার পরের সংস্করণ আছে, সেগুলোতে এই সুবিধা পাওয়া যায়।
কীভাবে চালু করবেন লুকানো মেনু
এই মেনু চালু করতে প্রথমে সেটিংস থেকে কানেকশনস, এরপর ওয়াই-ফাই এবং ওপরের ডান পাশে থাকা তিনটি ডটে চাপ দিয়ে ইন্টেলিজেন্ট ওয়াই-ফাই অপশনে যেতে হবে। সেখানে নিচে স্ক্রল করে সফটওয়্যার ভার্সন অংশে টানা সাতবার চাপ দিলেই কানেক্টিভিটি ল্যাবস সক্রিয় হবে। এরপর ইন্টেলিজেন্ট ওয়াই-ফাই পাতার নিচেই নতুন এই মেনু দেখা যাবে।
ঘরের নেটওয়ার্ক যাচাইয়ের সহজ উপায়
হোম ওয়াই-ফাই ইন্সপেকশন অপশনটি ব্যবহার করে ঘরের বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারনেট সিগন্যাল কতটা শক্তিশালী তা পরীক্ষা করা যায়। ঘরের ভেতরে হাঁটাচলা করলে কোথায় সিগন্যাল দুর্বল বা শক্তিশালী তা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। রাউটার বা মেশ ডিভাইস বসানোর সেরা জায়গা নির্ধারণে এটি বেশ সহায়ক।
পাবলিক ওয়াই-ফাইয়ে স্বয়ংক্রিয় সংযোগ
‘অটো রিকানেক্ট টু ক্যারিয়ার ওয়াই-ফাই’ চালু করলে ফোন নিজে থেকেই মোবাইল অপারেটরের পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে যায়। এতে মোবাইল ডাটা সাশ্রয় হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে গতি আরও ভালো পাওয়া যায়।
কম ল্যাটেন্সির প্রযুক্তি
‘এলফোরএস’ নামে পরিচিত লো ল্যাটেন্সি প্রোটোকলটি অনলাইন গেমিং, ভিডিও কল এবং লাইভ স্ট্রিমিংয়ের সময় দেরি কমাতে সাহায্য করে। নেটওয়ার্ক ব্যস্ত থাকলেও সংযোগ স্থিতিশীল থাকে। তবে এটি কার্যকর হতে হলে রাউটার ও ইন্টারনেট সেবাদাতার সমর্থন থাকতে হয়।
নতুন প্রজন্মের ওয়াই-ফাই মোড
ওয়াই-ফাই সেভেন মোড চালু করলে নতুন প্রজন্মের রাউটার থেকে সর্বোচ্চ গতি পাওয়া যায়। যাদের ঘরে আধুনিক রাউটার আছে, তাদের জন্য এই অপশনটি বিশেষভাবে উপকারী।
দুর্বল সংযোগে স্মার্ট সিদ্ধান্ত
কোনো জায়গায় ওয়াই-ফাই সিগন্যাল দুর্বল হলে ফোন যেন অযথা বারবার সংযোগ বদলাতে না থাকে, সে জন্য ‘ফাস্ট সুইচ টু মোবাইল ডাটা’ অপশনটি কাজে লাগাতে পারেন। এতে ধীরগতির ঝামেলা কমে।
নেটওয়ার্ক মান বোঝার উপায়
‘শো নেটওয়ার্ক কোয়ালিটি ইনফো’ চালু করলে আশপাশের ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কগুলোর মান বেস্ট, গুড বা ব্যাড হিসেবে দেখা যায়। কোন নেটওয়ার্কে যুক্ত হলে ভালো গতি পাওয়া যাবে, তা বুঝতে এটি বেশ সহায়ক।
সব মিলিয়ে বলা যায়, স্যামসাং ফোনের এই লুকানো ওয়াই-ফাই সুবিধাগুলো ব্যবহার করলে আলাদা অ্যাপ ছাড়াই ইন্টারনেট অভিজ্ঞতা অনেকটাই উন্নত করা সম্ভব। একটু খোঁজ নিলেই ফোনের ভেতরেই পাওয়া যায় স্মার্ট সংযোগের চাবিকাঠি।
সূত্র : জেডি নেট ডটকম