মোবাইল আসক্তি কমাবে যে ৫ অ্যাপ
বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ছাড়া দৈনন্দিন জীবন প্রায় অচল। কাজের প্রয়োজনে ফোন হাতে নিলেও কখন যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়, অনেক সময় তা নিজেও বুঝে ওঠা যায় না। যে কাজটি করার কথা ছিল, সেটি আর করাই হয় না। মনে মনে ভাবেন, স্ক্রিন টাইম কমাবেন। কিন্তু চাইলেও যেন পারছেন না।
আপনি যদি এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তবে এই আয়োজনটি আপনার জন্যই। মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং অযথা স্ক্রিনে সময় কাটানো কমাতে সহায়তা করবে এমন পাঁচটি কার্যকর অ্যাপ নিয়েই সাজানো হয়েছে এই প্রতিবেদন। চলুন, অ্যাপগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-
মাইস্টিকলঞ্চ (MysticLaunch)
অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য এটি একটি দারুণ সমাধান। মাইস্টিকলঞ্চ ব্যবহার করলে ফোনের হোম স্ক্রিনে কেবল প্রয়োজনীয় কয়েকটি অ্যাপই দেখা যায়। ফলে ব্যস্ত সময়ে বিনোদনমূলক অ্যাপ হাতের কাছেই থাকে না। এতে অকারণে ফোনে সময় নষ্ট হয় কম। সবচেয়ে ভালো দিক হলো, অ্যাপটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায় এবং এতে কোনো বিজ্ঞাপনও নেই।
ফরেস্ট (Forest)
ফরেস্ট একটি জনপ্রিয় টাইম ট্র্যাকিং অ্যাপ। কাজের সময় মনোযোগ ধরে রাখতে এটি বেশ কার্যকর। অ্যাপটি চালু করে ভার্চুয়ালি একটি গাছ রোপণ করতে হয়। যতক্ষণ আপনি অন্য অ্যাপে না গিয়ে কাজ করবেন, গাছটি তত বড় হবে। মাঝপথে অ্যাপ ছেড়ে বেরিয়ে গেলে গাছটি মরে যাবে। এতে ব্যবহারকারীর মধ্যে এক ধরনের দায়িত্ববোধ তৈরি হয়। এই অ্যাপ ব্যবহারে কয়েন পাওয়া যায়, যা দিয়ে বাস্তবে গাছ রোপণের উদ্যোগেও অংশ নেওয়া যায়।
অ্যাপডেটক্স (AppDetox)
নিজেকে নির্দিষ্ট কোনো অ্যাপ থেকে দূরে রাখতে চাইলে অ্যাপডেটক্স হতে পারে কার্যকর একটি সমাধান। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যেকোনো অ্যাপ ব্লক করে রাখা যায় এতে। প্রয়োজন হলে পরে আনব্লকও করা যায়। ফলে অযথা বারবার একই অ্যাপে ঢোকার অভ্যাস ধীরে ধীরে কমে আসে।
হেডস্পেস (Headspace)
দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা তথ্য ও দৃশ্য দেখে মানসিক চাপ তৈরি হওয়াটা এখন খুবই সাধারণ বিষয়। এই চাপ কমাতে সাহায্য করে হেডস্পেস। এটি একটি ধ্যানভিত্তিক অ্যাপ, যা মানসিক প্রশান্তি আনে এবং মনোযোগ বাড়াতে সহায়তা করে। নিয়মিত ব্যবহারে সৃজনশীলতা বাড়ে বলেও মনে করেন অনেক ব্যবহারকারী।
রিফোকাস (Refocus)
আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি এই অ্যাপটি বেশ কড়াকড়িভাবে কাজ করে। যেসব অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে বারবার অপ্রয়োজনে ঢুকে পড়েন, সেগুলো একবার ব্লক করে দিলে সহজে আর আনব্লক করা যায় না। ফলে অপ্রয়োজনীয় ডিজিটাল অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে।
সচেতন ব্যবহার আর সঠিক সহায়ক অ্যাপের মাধ্যমে মোবাইলের উপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব। চাইলে আপনিও আজ থেকেই শুরু করতে পারেন।