কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে মেটার নতুন চ্যালেঞ্জ
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতা তীব্র হয়ে উঠেছে। গুগল, ওপেনএআই ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান দ্রুত শক্তিশালী এআই সিস্টেম নিয়ে এগোচ্ছে। এই প্রতিযোগিতায় গতি ফেরাতে বাজি ধরেছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির নতুন গবেষণা ইউনিট ইতোমধ্যে আশার সঙ্কেত দেখাচ্ছে।
মেটা প্ল্যাটফর্মসের সদ্য গঠিত এআই গবেষণা ইউনিট তাদের প্রথম অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য উন্নত মডেল সরবরাহ করেছে। বুধবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মেটার প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু বস ওর্থ।
বস ওর্থ বলেন, মেটা সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবসের মডেলগুলো প্রাথমিকভাবে ভালো ফল দেখাচ্ছে। ল্যাবটি গত বছর মেটার এআই কৌশল নতুনভাবে সাজানোর অংশ হিসেবে গঠিত হয়। দলটি ছয় মাস ধরে কাজ করছে। এখনও এটি শুরুর ধাপে আছে। তারপরও মডেলগুলো অভ্যন্তরীণভাবে খুব ভালো ফল দেখাচ্ছে।
কোন মডেলগুলো তৈরি হয়েছে তা বোস ওর্থ নির্দিষ্ট করেননি। তবে ডিসেম্বরে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছিল, মেটা কয়েকটি নতুন সিস্টেম নিয়ে কাজ করছে। লেখাভিত্তিক মডেলের সাংকেতিক নাম অ্যাভোকাডো। ছবি ও ভিডিওভিত্তিক মডেলের নাম ‘ম্যাঙ্গো’। প্রতিবেদনগুলোতে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে এগুলো উন্মুক্ত হতে পারে। মেটা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা বা প্রকাশের সময়সূচি জানায়নি।
গত এক বছরে মেটার এআই কার্যক্রমে বড় পরিবর্তন এসেছে। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গের নেতৃত্বে এআই সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনায় পুনর্গঠন হয়েছে। নতুন ল্যাব গঠন করা হয়েছে। শীর্ষ গবেষকরা দলে টানা হয়েছে। মেটার লক্ষ্য প্রতিযোগিতায় শীর্ষে থাকা।
চ্যালেঞ্জও কম নয়। মেটার লামা ৪ মডেলের কার্যকারিতা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। অন্যদিকে গুগলসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী ও বাণিজ্যিকভাবে আকর্ষণীয় এআই নিয়ে এগোচ্ছে।
বস ওর্থ বলেন, শুধু মডেল প্রশিক্ষণ দিলেই কাজ শেষ হয় না। একটি ব্যবহারযোগ্য এআই পণ্য তৈরি করতে প্রশিক্ষণের পর আরও অনেক কাজ করতে হয়। নির্ভরযোগ্যতা, নিরাপত্তা এবং ব্যবহারকারীর উপযোগিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিশ্বব্যাপী এআই প্রতিযোগিতায় মেটার নতুন উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা এখন প্রযুক্তি বিশ্ব ও তরুণ প্রজন্মের নজর কাড়ছে।
সূত্র : লাইভ মিন্ট