‘কম্পিউটার সায়েন্স ডিগ্রি এখনও মূল্যবান, কোডিং শেখাও জরুরি’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির যুগে অনেকেই ভাবছেন কোডিং শেখা বা কম্পিউটার সায়েন্স ডিগ্রি ভবিষ্যতে আদৌ মূল্য রাখবে কি না। তবে এআই গবেষণার পথিকৃৎ জিওফ্রি হিন্টন বলছেন বিপরীত কথা। তার মতে, এআই যতই উন্নত হোক প্রযুক্তির ভিত্তিমূলক শিক্ষা কখনোই গুরুত্ব হারাবে না। তিনি শিক্ষার্থী ও প্রকৌশলীদের কম্পিউটার সায়েন্স ডিগ্রি নিয়ে সংশয় না করে বরং আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
হিন্টন বলেন, কম্পিউটার সায়েন্স ডিগ্রি শুধু প্রোগ্রামিং শেখায় না। এটি সিস্টেম চিন্তাভাবনা, গণিত, অ্যালগরিদমিক সমস্যা সমাধান এবং যুক্তিভিত্তিক দক্ষতা তৈরি করে। এসব দক্ষতা ভবিষ্যতের প্রযুক্তিখাতে বহু বছর ধরে মূল্যবান থাকবে। তাঁর মতে, সাধারণ স্তরের প্রোগ্রামিং হয়তো এআই করতে পারবে, কিন্তু জটিল ধারণা তৈরি করা এবং প্রযুক্তিকে গভীরভাবে বোঝার ক্ষমতা মানুষেরই প্রয়োজন।
বিজনেস ইনসাইডারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিন্টন বলেন, অনেকেই ভুলভাবে ধারণা করেন কম্পিউটার সায়েন্স মানেই কোডিং। কিন্তু এই ডিগ্রি যে জ্ঞান দেয় তা প্রোগ্রামিংয়ের চেয়ে বড় পরিসরের। তিনি মনে করেন গণিত, পরিসংখ্যান, সম্ভাবনা তত্ত্ব এবং লিনিয়ার অ্যালজেবরার মতো ভিত্তিমূলক দক্ষতা ভবিষ্যতের প্রযুক্তি বিকাশে অপরিহার্য ভূমিকা রাখবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদেরও তিনি কোড শেখার পরামর্শ দিয়েছেন। হিন্টনের মতে, কোড শেখা একটি বৌদ্ধিক অনুশীলন। যেমন ল্যাটিন শেখা দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগে না, তবুও শেখা মানসিক সক্ষমতা বাড়ায়। একইভাবে কোড শেখা মানুষের চিন্তাশক্তিকে আরও শাণিত করে এবং সমস্যা বিশ্লেষণের ক্ষমতা বাড়ায়।
এআই প্রতিযোগিতায় গুগলের অগ্রগতির প্রসঙ্গেও হিন্টন মন্তব্য করেছেন। তার মতে, গুগলের সাম্প্রতিক জেমিনি সংস্করণ প্রযুক্তির দুনিয়ায় শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে এবং ওপেনএআইকে টপকে যাওয়ার পথে এগোচ্ছে। এই অগ্রগতিতে তিনিও বিস্মিত হয়েছেন।
সব মিলিয়ে হিন্টনের বার্তা স্পষ্ট। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নতি যতই হোক কম্পিউটার সায়েন্সের মূল্য কমবে না। ভবিষ্যতের প্রযুক্তি বুঝতে এবং এগিয়ে থাকতে কোড শেখা ও ভিত্তিমূলক জ্ঞানই হবে সবচেয়ে বড় শক্তি।