এআই কালেক্টিভ বাংলাদেশের গোলটেবিল বৈঠক
কৃত্রিম-বুদ্ধিমত্তা শিক্ষার বিকাশে নৈতিকতার গুরুত্বারোপ
বাংলাদেশের জন্য কৃত্রিম-বুদ্ধিমত্তা বা এআই গ্রহণ এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এটি সার্বিক উৎপাদনশীলতা, শাসনব্যবস্থা ও শিল্পের প্রতিযোগিতায় আমূল পরিবর্তন আনছে। বাংলাদেশ এই প্রযুক্তির ব্যবহারে যেমন পিছিয়ে রয়েছে তেমনি অপব্যবহারও বাড়ছে। পূর্ববর্তী প্রযুক্তি বিপ্লবের মতো এআই প্রযুক্তি বাস্তবায়নের দৌড়েও আমরা পিছিয়ে পড়তে পারি। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এআই ইনোভেশন সেন্টার স্থাপন জরুরি বলে মন্তব্য করেন ‘এথিক্যাল এআই রেডিনেস: শেপিং টুমোরোস ওয়ার্কফোর্স’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকরা।
দৈনিক ইত্তেফাক ও এআই কালেক্টিভবাংলাদেশের (যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বব্যাপী অলাভজনক কমিউনিটি প্ল্যাটফরম) যৌথ উদ্যোগে সম্প্রতি রাজধানীর কাওরান বাজারে দৈনিক ইত্তেফাক কার্যালয়ের মজিদা বেগম মিলনায়তনে এই গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
জ্যেষ্ঠ আইটি পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞ সামী আল ইসলামের সঞ্চালনায় বৈঠকের সভা প্রধান ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সম্পাদক তাসমিমা হোসেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে এআই কালেক্টিভবাংলাদেশের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আসিফ এআই কালেক্টিভের পরিচিতি, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান সংগঠনটি এআই উন্নয়ন ও ব্যবহারে নৈতিক নিয়মাবলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি কমিউনিটি গড়ে তুলছে। তিনি বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি শিল্প ও একাডেমিয়ার মজবুত বন্ধনই পারে এআই শিক্ষার ঘাটতি দূর করতে। এমন একটি জনশক্তি তৈরি করতে হবে, যারা কেবল প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষই নয়, এআই সিস্টেম উন্নয়ন ও প্রয়োগে নৈতিকভাবেও সচেতন থাকবে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে প্রাইম নাও-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট (ডেটা সায়েন্স অ্যান্ড এআই) খোন্দকার এহসানুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের জন্য এআই গ্রহণ এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে: এটি উৎপাদনশীলতা, শাসনব্যবস্থা ও তথ্য-প্রযুক্তি শিল্পের প্রতিযোগিতায় আমূল পরিবর্তন আনছে। বৈশ্বিক ও জাতীয় এআই প্রসারের প্রবণতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দায়িত্বশীলভাবে এআই প্রয়োগে সক্ষম দক্ষ ও নৈতিক জনশক্তি এখনই গড়ে তুলতে হবে। হ্যান্ডস-অন দক্ষতা, নৈতিকতা এবং শক্তিশালী শিল্প-একাডেমিয়ার যৌথ সহযোগিতা বাস্তব জগতের এআই ব্যবহারের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা অপরিহার্য।
তাসমিমা হোসেন বলেন, কৃত্রিম-বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের, যারা সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা, খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটির ক্ষেত্রে মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে। এআই-জেনারেটেড ভালো-মন্দ কনটেন্ট সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত, সহজবোধ্য টিপসের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
সমাপনী বক্তব্যে মোহাম্মদ আসিফ বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি শিল্প একাডেমিয়া ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যাতে এআই ইকোসিস্টেমকে সম্মিলিতভাবে সমর্থন করে মানুষ ও সমাজের কল্যাণ ও নিরাপত্তার জন্য এআই-এর ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেওয়া যায়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন-ইউসিএসআই বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ শাখার অধ্যাপক ড. সৈয়দ আখতার হোসেন, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটির সিএসই-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাকিকুর রহমান, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের সহযোগী ডিন অধ্যাপক ড. দীপ নন্দী, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের অধ্যাপক সাক্ষর শতাব্দ ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সিএসই বিভাগ অধ্যাপক সালেকুল ইসলাম।
এছাড়া রেডডট ডিজিটাল লিমিটেড প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসিব মুস্তাবসির, স্পেকট্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কনসোর্টিয়াম লিমিটেড ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফোরকান বিন কাসেম, ফিল্ড নেশন বাংলাদেশ পরিচালক, শাহজাদা রেদোয়ান, এনসিসি ব্যাংক পিএলসির কার্ড এবং ডিজিটাল পেমেন্ট অপারেশনস প্রধান মো. আমিনুল ইসলাম, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ডেটা সায়েন্স এবং এআই) প্রাইম নাউ (ডিজিটাল ব্যাংক) এহসানুর রহমান।
উল্লেখ্য, এআই কালেক্টিভ বাংলাদেশ হলো বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্কের স্থানীয় শাখা। এই সংগঠন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ও দায়িত্বশীল উন্নয়নের প্রচারে কাজ করে যাচ্ছে।