চ্যাটজিপিটির উত্তরে দেখা যাচ্ছে গ্রকিপিডিয়ার তথ্য!
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি নতুন একটি উৎস ব্যবহার করছে। এটি হলো ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান এক্সএআই-এর তৈরি গ্রকিপিডিয়া। জিপিটি-৫.২ মডেল ব্যবহার করে চ্যাটজিপিটি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে গ্রকিপিডিয়ার তথ্য দেখাচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, পরীক্ষায় দেখা গেছে জিপিটি-৫.২ অন্তত ১২টির বেশি প্রশ্নের উত্তরে নয়বার গ্রকিপিডিয়ার তথ্য উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো, বেসিজ প্যারামিলিটারির বেতন, মোস্তাজাফান ফাউন্ডেশনের মালিকানা এবং ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ স্যার রিচার্ড ইভান্স সম্পর্কিত তথ্য রয়েছে। তবে এসব কিছু ক্ষেত্রে আগে গার্ডিয়ান খণ্ডন করেছিল।
গ্রকিপিডিয়া অক্টোবর ২০২৫ সালে চালু হয়। এটি একটি এআই-নির্ভর অনলাইন বিশ্বকোষ। সরাসরি মানুষের সম্পাদনার সুযোগ নেই। লেখালিখি ও সংশোধনের কাজ করে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। সমালোচকরা বলছেন, গ্রকিপিডিয়া অনেক ক্ষেত্রে ডানপন্থী মতাদর্শ প্রচার করে। কিছু নিবন্ধ তথ্যগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং সংবেদনশীল। উদাহরণ হিসেবে সমকামী বিবাহ, যুক্তরাষ্ট্রের ৬ জানুয়ারির দাঙ্গা এবং অন্যান্য বিতর্কিত বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চ্যাটজিপিটি সব বিষয়ে গ্রকিপিডিয়া ব্যবহার করেনি। ক্যাপিটল হামলা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি মিডিয়ার পক্ষপাত, এইচআইভি–এইডস মহামারির মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে তথ্য নেওয়া হয়নি। বরং অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত বা বিশেষ বিষয়গুলোতে গ্রকিপিডিয়ার ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে।
চ্যাটজিপিটি গ্রকিপিডিয়া থেকে তথ্য ব্যবহার করে যেমন ইরানের এমটিএন-ইরানসেলের সাথে সরকারের সম্পর্ক এবং স্যার রিচার্ড ইভান্সের সাক্ষ্য সম্পর্কিত দাবি দিয়েছে। অন্য বড় ভাষা মডেল, যেমন অ্যানথ্রোপিকের ক্লাউডও কিছু ক্ষেত্রে গ্রকিপিডিয়া ব্যবহার করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, চ্যাটজিপিটি বিভিন্ন উন্মুক্ত উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে। উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীর জন্য বিস্তৃত ও প্রাসঙ্গিক তথ্য দেওয়া এবং নিরাপত্তা ফিল্টার ব্যবহার করা হয়, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ তথ্য কম প্রকাশিত হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্রকিপিডিয়ার তথ্য বড় ভাষা মডেলে প্রবেশ করলে বিভ্রান্তির সম্ভাবনা থাকে। ব্যবহারকারীরা ভাবতে পারেন, ‘চ্যাটজিপিটি এটি ব্যবহার করছে, মানে উৎসটি বিশ্বাসযোগ্য।’ এ কারণে বিভ্রান্তিকর তথ্য আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।
গ্রকিপিডিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,‘লিগ্যাসি মিডিয়া মিথ্যা প্রচার করে।’ তবে চ্যাটবটে এই উৎসের ব্যবহার নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান