ভাঁজযোগ্য আইফোন দিয়ে আয় বাড়ানোর পরিকল্পনা অ্যাপলের

TechWorld Desk

টেকওয়ার্ল্ড ডেস্ক

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০১

ভাঁজযোগ্য আইফোন দিয়ে আয় বাড়ানোর পরিকল্পনা অ্যাপলের

প্রথমবারের মতো ভাঁজযোগ্য আইফোন এনেছে অ্যাপল। আইফোন ডুও নামের ফোনটির দাম শুরু হয়েছে ১ হাজার ৯৯৯ মার্কিন ডলার থেকে। সর্বোচ্চ ২ টেরাবাইট স্টোরেজের সংস্করণটির দাম ৩ হাজার ১৯৯ ডলার। প্রি-অর্ডার শুরুর দিনই ফোনটির প্রাথমিক সরবরাহের অনেক ইউনিট বিক্রি হয়ে গেছে।

সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইফোন ডুওয়ের মাধ্যমে উচ্চমূল্যের স্মার্টফোনের বাজারে অবস্থান আরও শক্ত করতে চায় অ্যাপল। বিশ্লেষকদের মতে, ফোনটি প্রতিষ্ঠানটির গড় বিক্রয়মূল্য বাড়ানোর পাশাপাশি অন্য আইফোন মডেলের বিক্রিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির হিসাবে, ২০২৬ সালে বিশ্বে স্মার্টফোন বিক্রির ২ শতাংশের কিছু বেশি হবে ভাঁজযোগ্য ফোন। তবে এ খাত থেকে আসবে স্মার্টফোন শিল্পের প্রায় ৭ শতাংশ আয়। ২০৩০ সালের মধ্যে ভাঁজযোগ্য ফোনের হিস্যা মোট আয়ের ১০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

আইডিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে অ্যাপল প্রায় ৭০ লাখ আইফোন ডুও সরবরাহ করতে পারে, যা প্রতিষ্ঠানটির মোট আইফোন সরবরাহের প্রায় ৩ শতাংশ। আগামী বছর সরবরাহ ৭০ শতাংশ বাড়লে ভাঁজযোগ্য ফোনের বিশ্ববাজারের প্রায় ৪০ শতাংশ অ্যাপলের দখলে যেতে পারে।

তবে প্রাথমিক সরবরাহ সীমিত থাকতে পারে। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের হিসাবে, শুরুতে বাজারে প্রায় ৬০ লাখ বা তার কম ইউনিট পাওয়া যেতে পারে। অ্যাপলের প্রায় ১৪০ কোটি আইফোন ব্যবহারকারীর মধ্যে অল্পসংখ্যক ক্রেতা আগ্রহী হলেও চাহিদা সরবরাহ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ডুওয়ের বড় অংশের ক্রেতা হবেন বর্তমান আইফোন ব্যবহারকারীরা। তাদের কেউ কেউ আইফোন প্রো ম্যাক্সের বদলে বেশি দামের ডুও কিনতে পারেন। আবার কেউ কেউ এটিকে দ্বিতীয় ফোন হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। ফলে বিক্রি তুলনামূলক কম হলেও উচ্চমূল্যের কারণে অ্যাপলের আয় বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগ্যানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ডুওয়ের উচ্চমূল্য আইফোনের মোট আয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে। ডি এ ডেভিডসনের বিশ্লেষক গিল লুরিয়ারও মনে করেন, অ্যাপলের আয় বৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে ফোনটির সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ। ডুও কিনতে আগ্রহী কিছু ক্রেতা শেষ পর্যন্ত কম দামের আইফোন কিনলেও অন্য মডেলের বিক্রি বাড়তে পারে।

অ্যাপল এর আগেও বিলাসবহুল পণ্যের বাজারে প্রবেশ করেছে। প্রথম অ্যাপল ওয়াচের ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের সংস্করণের দাম শুরু হয়েছিল ১০ হাজার ডলার থেকে। এবার আইফোন ডুওয়ের মাধ্যমে একই কৌশল আইফোনের বাজারে প্রয়োগ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে বেশি দামের কারণে ক্রেতারা নতুন ফোন কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পারেন। এতে ফোন হালনাগাদের সময় বাড়ার পাশাপাশি সামগ্রিক চাহিদাও কমতে পারে। তাই ডুওয়ের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে ক্রেতাদের সাড়া ও বাজারের প্রবৃদ্ধির ওপর।

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন