ব্যবহারকারীদের আপত্তিতে সিদ্ধান্ত বদলিয়েছে অ্যাপল
ব্যবহারকারীদের আপত্তি ও সমালোচনার মুখে হাইড মাই ই-মেইল সুবিধায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে অ্যাপল। আগে এই সুবিধার ই-মেইল ঠিকানা @আইক্লাউডডটকম থেকে @প্রাইভেটআইক্লাউডডটকম-এ সরানোর পরিকল্পনা করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এখন আগের @আইক্লাউডডটকম ঠিকানাতেই রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আইক্লাউড প্লাসের গ্রাহকদের জন্য হাইড মাই ই-মেইল সুবিধাটি চালু রয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ব্যবহারের জন্য আলাদা ও অস্থায়ী ই-মেইল ঠিকানা তৈরি করা যায়। এতে ব্যবহারকারীর আসল ই-মেইল ঠিকানা গোপন থাকে। এসব ঠিকানায় আসা বার্তা সরাসরি মূল ইনবক্সে পৌঁছে যায়।
হাইড মাই ই-মেইলের সুবিধা হলো, তৈরি করা এসব ই-মেইল ঠিকানা সাধারণ অ্যাপল ব্যবহারকারীদের @আইক্লাউডডটকম ঠিকানা থেকে আলাদা করে চেনা যায় না। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার অনুরোধে কোনো ঠিকানার পেছনে থাকা ব্যবহারকারীর পরিচয় জানাতে পারে অ্যাপল।
এ বছরের শুরুতে অ্যাপল জানিয়েছিল, ব্যবহারকারীদের ই-মেইল ঠিকানা @প্রাইভেটআইক্লাউডডটকম-এ সরানো হবে। ব্যবহারকারীদের অভিযোগ ছিল, এতে ওয়েবসাইটগুলো সহজেই এসব ঠিকানা শনাক্ত করে নিবন্ধনের সময় প্রত্যাখ্যান করতে পারবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রেডিটে এ নিয়ে ব্যবহারকারীরা সমালোচনা করেন। তাদের মতে, এমন পরিবর্তন হাইড মাই ই-মেইলের মূল উদ্দেশ্যকেই দুর্বল করবে।
সম্প্রতি অ্যাপল সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, হাইড মাই ই-মেইলের ঠিকানাগুলো @আইক্লাউডডটকম-এই থাকবে। তবে কেন আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে, সে বিষয়ে কোনো কারণ জানায়নি অ্যাপল।
ডেয়ারিং ফায়ারবলের জন গ্রুবার প্রথম সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের খবর জানান। তার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপলের কর্মীদের একটি অংশ শুরু থেকেই ই-মেইল ঠিকানা পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন।
এর আগে হাইড মাই ই-মেইলের একটি ত্রুটির কারণে ব্যবহারকারীদের আসল ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। স্প্যাম হিসেবে প্রত্যাখ্যাত ই-মেইলের মাধ্যমে এই তথ্য ফাঁস হচ্ছিল।
বিষয়টি সম্পর্কে জানার এক বছরের বেশি সময় পর ত্রুটিটি ঠিক করেছে অ্যাপল।