দক্ষিণ কোরিয়ায় এআই ক্যাম্পাস স্থাপন করবে গুগল
দক্ষিণ কোরিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি ক্যাম্পাস স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে গুগল। দেশটির প্রেসিডেন্ট কার্যালয় জানিয়েছে, স্থানীয় প্রকৌশলী ও স্টার্টআপগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও জোরদার করতেই এই উদ্যোগ। রাজধানী সিউলে গড়ে উঠবে এই ক্যাম্পাস, যা এআই খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং সোমবার সিউলে গুগলের ডিপমাইন্ড প্রধান নির্বাহী ডেমিস হাসাবিসের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞান মন্ত্রণালয় এবং গুগলের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর ভিত্তিতেই এআই ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
প্রেসিডেন্টের নীতিগত উপদেষ্টা কিম ইয়ং জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, গুগল যেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কার্যালয় থেকে অন্তত ১০ জন প্রকৌশলী এই ক্যাম্পাসে পাঠায়। গুগল বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে।
ডেমিস হাসাবিস বলেন, এটি গুগলের জন্য বিশ্বের প্রথম ধরনের একটি এআই ক্যাম্পাস হবে। এখানে গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং উদ্ভাবনের সমন্বয়ে নতুন প্রজন্মের প্রকৌশলী ও স্টার্টআপদের দক্ষ করে তোলা হবে।
বৈঠকে দুই পক্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ এবং এর সামাজিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা করে। প্রেসিডেন্ট লি জানান, এআইয়ের কারণে যদি কর্মসংস্থান কমে যায়, তাহলে একটি মৌলিক বেতনের ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বিবেচনায় আনা হতে পারে।
ডেমিস হাসাবিস বলেন, গুগল ইন্টার্নশিপ ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণদের এআই প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে চায়। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।
স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স, হুন্দাইয়ের বোস্টন ডাইনামিক্স এবং এলজির মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন যৌথ প্রকল্প শুরু করতে চায় গুগল। তার মতে, চিপ, রোবটিকসসহ এআইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সব ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়া ইতোমধ্যে শক্তিশালী শিল্পভিত্তি তৈরি করেছে বলে দাবি করেছেন ডেমিস হাসাবিস ।
এক দশক আগে আলফাগো ও গো খেলোয়াড় লি সেডলের ঐতিহাসিক প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আধুনিক যুগের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আলফাফোল্ডসহ বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এআইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন ডেমিস হাসাবিস।
সূত্র : রয়টার্স