নতুন ম্যালওয়্যারে ঝুঁকিতে অ্যান্ড্রয়েডের শত শত অ্যাপ

Tech World Desk

টেক ওয়ার্ল্ড ডেস্ক

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৩

নতুন ম্যালওয়্যারে ঝুঁকিতে অ্যান্ড্রয়েডের শত শত অ্যাপ
ছবি : দ্য ডেইলি হোল্ড

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সতর্কবার্তা এসেছে সাইবার নিরাপত্তা খাত থেকে। ব্যাংকিং, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ শত শত অ্যাপ এখন হ্যাকারদের নিশানায়।

উন্নত কৌশলে চালানো এসব হামলা অনেক ক্ষেত্রে প্রায় অদৃশ্য। ফলে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ও আর্থিক নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান জিম্পেরিয়াম জানিয়েছে, তাদের গবেষকেরা চারটি সক্রিয় ম্যালওয়্যারের সন্ধান পেয়েছেন। এগুলো উন্নত নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর লগ-ইন তথ্য চুরি, অনুমতিহীন আর্থিক লেনদেন এবং বিপুল পরিমাণ ডেটা সংগ্রহ করতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এসব ম্যালওয়্যার মিলিয়ে ৮০০-এর বেশি অ্যাপকে লক্ষ্য করা হচ্ছে। ব্যাংকিং, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খাতই মূল টার্গেট। উন্নত বিশ্লেষণ প্রতিরোধ কৌশল এবং অ্যাপের কাঠামো পরিবর্তনের মাধ্যমে এগুলো প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেয়। ফলে শনাক্তের হার প্রায় শূন্যের কাছাকাছি থাকে।

চিহ্নিত ম্যালওয়্যারগুলোর নাম রিক্রুটর্যাট, সেফারর্যাট, অ্যাস্ট্রিনক্স ও ম্যাসিভ।

হ্যাকাররা সাধারণত ফিশিং ওয়েবসাইট, ভুয়া চাকরির প্রস্তাব, নকল সফটওয়্যার হালনাগাদ, খুদে বার্তার প্রতারণা এবং আকর্ষণীয় অফারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের প্রলুব্ধ করে। এভাবে তারা ক্ষতিকর অ্যাপ ইনস্টল করাতে সক্ষম হয়।

একবার ইনস্টল হলে এসব ম্যালওয়্যার ফোনের বিশেষ অনুমতি চায়, বিশেষ করে অ্যাক্সেসিবিলিটি সুবিধা। এরপর অ্যাপের আইকন লুকিয়ে ফেলে এবং মুছে ফেলার চেষ্টা ব্যর্থ করে। ভুয়া লকস্ক্রিন ব্যবহার করে পিন ও পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করে। একবার ব্যবহারযোগ্য কোডও ধরে ফেলতে পারে।

এ ছাড়া ব্যবহারকারীর ডিভাইসের পর্দা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা, লাইভ স্ক্রিন স্ট্রিম করা এবং বৈধ ব্যাংকিং বা ক্রিপ্টো অ্যাপের ওপর নকল লগইন পেজ দেখানোর ক্ষমতাও রয়েছে এসব ম্যালওয়্যারের।

বিশেষ করে ‘ওভারলে’ কৌশল এখানে গুরুত্বপূর্ণ। এতে ম্যালওয়্যার ডিভাইসের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। ব্যবহারকারী যখন কোনো আর্থিক অ্যাপ চালু করেন, তখনই নকল ইন্টারফেস দেখিয়ে লগ-ইন তথ্য হাতিয়ে নেয়। দেখতে এতটাই বাস্তব মনে হয় যে ব্যবহারকারীরা সহজেই প্রতারিত হন।

জিম্পেরিয়াম আরও জানায়, এসব আক্রমণে নিরাপদ যোগাযোগ প্রোটোকল ব্যবহার করা হয়, যাতে ক্ষতিকর ডেটা স্বাভাবিক অ্যাপের কার্যক্রমের সঙ্গে মিশে যায়। কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত এনক্রিপশন স্তর ব্যবহার করে শনাক্তকরণ আরও কঠিন করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: অচেনা লিংক এড়িয়ে চলা, সন্দেহজনক অ্যাপ ইনস্টল না করা এবং অপ্রয়োজনীয় অনুমতি না দেওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি। সামান্য অসতর্কতাই বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন