শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে লাগাম টানছে মেটা

TechWorld Desk

টেকওয়ার্ল্ড ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৪

শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে লাগাম টানছে মেটা

শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্যের করা মামলায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতা করেছে মেটা। ৫২ জন অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে করা এই সমঝোতার আওতায় ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে প্রতিষ্ঠানটিকে।

তবে এসব পরিবর্তন কার্যকর করতে বয়স যাচাই প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে হবে মেটাকে, যে প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চ এ তথ্য জানিয়েছে।

১০ বছরে এই অর্থ পরিশোধ করবে মেটা। ফলে সমঝোতার অঙ্ক বড় হলেও প্রতিষ্ঠানটির ওপর তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপ তুলনামূলক কম হবে। ২০২৫ সালে মেটার মোট আয় ছিল ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

সমঝোতার আওতায় প্রতিদিন মেটার অ্যাপ ব্যবহারে দুই ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। প্রতি ১৫ মিনিট পরপর ব্যবহারকারীদের সচেতনভাবে ব্যবহারে উৎসাহিত করার বার্তা দেখানো হবে।

অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকাউন্ট রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেটার অ্যাপ ব্যবহারে বাধা দেবে। স্কুল চলাকালে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এসব অ্যাকাউন্টের বিজ্ঞপ্তিও বন্ধ থাকবে। কিশোরেরা নিজেদের বা অন্যদের পোস্টের ‘লাইক’ সংখ্যাও দেখতে পারবে না।

তবে এসব ব্যবস্থা কার্যকর করার আগে কোন অ্যাকাউন্ট শিশু বা কিশোরের, তা শনাক্ত করতে হবে। এ জন্য বয়স যাচাই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে মেটা।

বর্তমানে বয়স যাচাইয়ে সেলফি, সরকারি পরিচয়পত্র এবং ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণের মতো পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। তবে আচরণ বিশ্লেষণ ভুলভাবে প্রাপ্তবয়স্ককে শিশু বা শিশুকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে শনাক্ত করতে পারে। পরিচয়পত্র বা মুখমণ্ডলের তথ্য ব্যবহারে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ঝুঁকিও রয়েছে।

সিরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যালেক্সিস ইংবার বলেন, সমঝোতায় প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো কাগজে ভালো মনে হলেও এগুলো কার্যকর করতে নির্ভরযোগ্য ও পক্ষপাতহীন বয়স যাচাই প্রযুক্তি প্রয়োজন। বর্তমানে এ ধরনের প্রযুক্তি যথেষ্ট কার্যকর নয় বলেও তিনি মনে করেন।

তবে আইনজীবী ফিলিপ ইয়ানেলার মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বয়স যাচাই প্রযুক্তির উন্নতি হয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ না করেও বয়স যাচাই করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। এ ক্ষেত্রে বয়সের ভিত্তিতে একটি সংকেত তৈরি করে ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলার পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, তথ্য সংরক্ষণ না করলেও পরিচয়পত্র বা মুখমণ্ডলের সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে পাঠানোর ঝুঁকি থেকে যায়। এসব তথ্য ফাঁস হলে পরিচয় চুরির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা গেলেও মুখমণ্ডল বা আঙুলের ছাপ পরিবর্তন করা যায় না।

বয়স যাচাই নিয়ে ব্যবহারকারীদের আস্থার সংকটও রয়েছে। চলতি বছর ডিসকর্ড বিশ্বজুড়ে বয়স যাচাই চালুর উদ্যোগ নিলে ব্যবহারকারীদের ব্যাপক আপত্তির মুখে তা পিছিয়ে দিতে হয়েছিল।

এদিকে আগামী ১০ বছর এসব নিয়ম মেনে চলতে হবে মেটাকে। প্রতিষ্ঠানটি সমঝোতাকে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তায় নেতৃত্ব দেওয়ার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে। একই ধরনের পরিবর্তন আনার জন্য টিকটক ও ইউটিউবকেও আহ্বান জানাচ্ছে তারা।

চুক্তি অনুযায়ী, মেটার সমঝোতার অর্থের প্রায় ৩০ শতাংশ নির্ভর করবে টিকটক ও ইউটিউব এসব নির্দেশনা মেনে চলে কি না, তার ওপর।

অধ্যাপক ইংবারের মতে, এই সমঝোতা সামাজিক মাধ্যমের নকশা ও ব্যবহার নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্ল্যাটফর্মের নকশা বদলে শিশুদের জন্য আরও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন