যখন বাইকের ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করবেন
বাইক আমাদের দৈনন্দিন যাতায়াতের অন্যতম সহচর। এই প্রিয় বাহনের প্রাণই হলো ইঞ্জিন। আর ইঞ্জিনের সুরক্ষা ও দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করে ইঞ্জিন অয়েল। সময়মতো অয়েল পরিবর্তন না করলে ইঞ্জিন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের মেরামতির খরচও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সবসময় পরামর্শ দেন, নির্দিষ্ট সময় অন্তর বাইকের ইঞ্জিন অয়েল বদলানো উচিত। সাধারণ ধারণা অনুযায়ী, প্রায় প্রতি ২,০০০ কিলোমিটার চালানোর পর এটি পরিবর্তন করা ভালো। তবে এই মাইলেজের বাইরে আরও কিছু লক্ষণ আছে যা ইঙ্গিত দেয় আপনার বাইকের ইঞ্জিন অয়েল এখনই বদলানোর সময় এসেছে।
১. অস্বাভাবিক শব্দ
যদি ইঞ্জিন থেকে সাধারণের চেয়ে বেশি বা অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যায়, সতর্ক হওয়া জরুরি। ইঞ্জিন অয়েলের কাজ হলো ভেতরের যন্ত্রাংশকে লুব্রিকেট রাখা। পুরনো বা নষ্ট অয়েল এটি করতে পারবে না, ফলে যন্ত্রাংশ বেশি ঘষাঘষি করবে এবং কর্কশ শব্দ তৈরি হবে। এমন আওয়াজ শোনা মাত্রই অয়েল পরিবর্তন করুন।

২. অয়েলের রঙ ও ঘনত্ব
ডিপস্টিক ব্যবহার করে ইঞ্জিন ঠান্ডা অবস্থায় অয়েলের রঙ ও ঘনত্ব পরীক্ষা করুন। যদি অয়েল কালো ও আঠালো হয়ে থাকে, বুঝবেন তাতে ধুলো, কার্বন ও ময়লা জমেছে। নতুন অয়েল সাধারণত সোনালী বা হালকা বাদামী। কালো অয়েল ইঞ্জিন পরিষ্কার করতে সক্ষম নয়, তাই অবিলম্বে বদল করা প্রয়োজন।
৩. অয়েল লেভেল পরীক্ষা
নিয়মিত অয়েলের পরিমাণ পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। ডিপস্টিক বা লেভেল ইন্ডিকেটর দেখে নিশ্চিত করুন তেলের পরিমাণ 'ফুল' এবং 'লো' মার্কের মধ্যে আছে। যদি দ্রুত কমতে থাকে বা 'লো'-র কাছে চলে আসে, শুধু টপ-আপ নয়, পুরো অয়েলই পরিবর্তন করুন।
৪. সতর্কতা লাইট
আধুনিক বাইকে তেলের চাপ বা মানে সমস্যা হলে ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টারে ওয়ার্নিং লাইট জ্বলে। এই লাইট জ্বলে গেলে বুঝতে হবে ইঞ্জিন অয়েল বদলানোর সময় এসেছে।
নিয়মিত অয়েল পরিবর্তন করা বাইকের কর্মক্ষমতা বাড়ায়, ইঞ্জিনকে সুস্থ রাখে এবং ভবিষ্যতের বড় খরচ থেকে রক্ষা করে।