মানসিক বিভ্রান্তি উসকে দেওয়ার অভিযোগে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

Staff Reporter

নিজস্ব প্রতিবেদক

রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৩৪

মানসিক বিভ্রান্তি উসকে দেওয়ার অভিযোগে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি : টেকক্রাঞ্চ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় দাবি করা হয়েছে, চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের মাধ্যমে এক ব্যক্তি মানসিক বিভ্রান্তিতে আক্রান্ত হন এবং পরবর্তীতে সাবেক প্রেমিকার বিরুদ্ধে হয়রানি ও স্টকিংয়ের মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন।

মামলাটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে দায়ের করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ৫৩ বছর বয়সী এক সিলিকন ভ্যালি উদ্যোক্তা দীর্ঘ সময় ধরে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বিভ্রান্তিকর বিশ্বাস গড়ে তোলেন। তিনি ধারণা করতে শুরু করেন যে তিনি স্লিপ অ্যাপনিয়ার একটি চিকিৎসা আবিষ্কার করেছেন এবং প্রভাবশালী কিছু শক্তি তার ওপর নজরদারি করছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওপেনএআই একাধিক সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ওই ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টকে গুরুতর ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়, ওই নারী অন্তত তিন দফা সতর্কবার্তা দিয়ে ওপেনএআইকে জানান যে ব্যবহারকারীটি তার জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি কার্যকরভাবে ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় করেনি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটির সঙ্গে দীর্ঘ ও ঘন ঘন কথোপকথনের পর ওই ব্যক্তি আরও গভীরভাবে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। তিনি এআই-উৎপন্ন ব্যাখ্যা ও প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে বাস্তব জীবনে আচরণ করতে শুরু করেন, যা পরবর্তীতে হয়রানি ও মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, তিনি সাবেক প্রেমিকার বিষয়ে এআই-নির্ভর মনস্তাত্ত্বিক প্রতিবেদন তৈরি করে তা তার পরিবার, পরিচিতজন এবং কর্মক্ষেত্রে বিতরণ করেন। এতে ভুক্তভোগী দীর্ঘদিন নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন।

ঘটনার এক পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে “ম্যাস ক্যাজুয়ালটি অস্ত্র” সংক্রান্ত ঝুঁকির ইঙ্গিত শনাক্ত করা হয় এবং অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। পরে অবশ্য তা পুনরায় সক্রিয় করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি হুমকিমূলক বার্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনমূলক যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। বর্তমানে তাকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার অধীনে রাখা হলেও শিগগিরই মুক্তি পেতে পারেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলাটি এমন সময় সামনে এলো, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং এর সামাজিক প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মামলাকারীর দাবি, যথাযথ নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এআই প্রযুক্তি বাস্তব জীবনে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ওপেনএআই এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য দেয়নি।

সূত্র: টেকক্রাঞ্চ

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন