বৃহস্পতিবার

ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

সর্বশেষ


বিশেষ প্রতিবেদন

বিসিএস নির্বাচন: কেমন সভাপতি চান সদস্যরা

প্রকাশ: ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, সকাল ৮:৪১

উজ্জ্বল এ গমেজ

Card image

ছবি: সংগৃহীত

সভাপতি হলেন একটা বাণিজ্যিক সংগঠনের অভিভাবক। সংগঠনে যতজন সদস্য আছেন তিনি হলেন সকলের প্রতিনিধি। হার্ডওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে সদস্যদের ভাল মতো ব্যবসা করার সুষ্ঠু ও  সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে তিনি হবেন অগ্রপথিক। ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করার জন্য প্রয়োজনীয় যেসব সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন তিনি যেনো সকলের প্রতিনিধি হয়ে দক্ষতার সাথে সরকারের কাছ থেকে সেগুলো আদায় করতে সক্ষম হন।

যেকোনো সংগঠনের সভাপতি হলেন অভিভাবক স্বরূপ। সংগঠনের শীর্ষ নেতা হিসেবে তার কাছে সদস্যদের চাওয়া-পাওয়ার শেষ নেই। সদস্যদের সুখ-দুঃখের সময় পাশে থাকবেন, বিপদে পড়লে বিপদ থেকে উদ্ধারে সহযোগিতা করবেন, সকলের দাবি, চাওয়া-পাওয়াগুলো নেতা হিসেবে সরকারের কাছে তুলে ধরবেন, ব্যবসায়ী হিসেবে ন্যায্য পাওনা মৌলিক অধিকারগুলো আদায়ে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবে ইত্যাদি।

তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)-এর ২০২৪-২৬ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটি এবং শাখা কমিটিসমূহের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৯ মার্চ। এবারের নির্বাচনে সংগঠনের গতিশীলতার জন্য কেমন সভাপতি চান, বিষয়টি জানতে টেকওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কথা হয় বিসিএস-এর দুইজন সক্রিয় সদস্যের সাথে।

এএ টেকনোলজি লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিএম রাজিব বলেন, দেখুন, আমি শুধু বিসিএস-এর সদস্য না। পাশাপাশি বেসিসেরও একজন সক্রিয় সদস্য। সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রির বাণিজ্যিক সংগঠন হিসেবে বেসিসে সারা বছর ধরেই বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্যক্রম চলমান থাকে। সদস্যরা কোন না কোনভাবে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ীদের জন্য এটা একটা অনেক পুরানো ঐতিহ্যবাহী ও বাণিজ্যিক সংগঠন। এখানে সেভাবে বছরজুড়ে সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত কার্যক্রম চোখে পড়ে না। যেগুলো আয়োজন করা হয়ে থাকে, সেগুলো খুবই কম। কেমন যেনো সংগঠনের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। এক্ষেত্রে এবারের নির্বাচনে আমি এমন একজন নেতাকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চাই, যিনি বিষয়গুলো সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম। সংগঠনের সারা বছরের যেসব কার্যক্রম রয়েছে, সেগুলো যেনো তিনি স্মার্টলি দক্ষতার সাথে পরিচালনা করতে পারেন। এমন একজন যোগ্য নেতাকে সভাপতি হিসেবে চাই।

>>আরও পড়ুন: বিসিএস নির্বাচন: কেমন সভাপতি চান বরিশালের সদস্যরা

সংগঠন পরিচালনার জন্য একজন নেতা কেমন হতে পারে তার একটা ধারণা দিলেন এএ টেকনোলজি লিমিটেডের এই ম্যানেজিং ডিরেক্টর। তার মতে, সভাপতি হলেন একটা বাণিজ্যিক সংগঠনের অভিভাবক। সংগঠনে যতজন সদস্য আছেন তিনি হলেন সকলের প্রতিনিধি। হার্ডওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে সদস্যদের ভাল মতো ব্যবসা করার সুষ্ঠু ও  সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে তিনি হবেন অগ্রপথিক। ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করার জন্য প্রয়োজনীয় যেসব সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন তিনি যেনো সকলের প্রতিনিধি হয়ে দক্ষতার সাথে সরকারের কাছ থেকে সেগুলো আদায় করতে সক্ষম হন।

তিনি বলেন, মোট কথা সভাপতি যিনি হবেন তাকে সংগঠনের সদস্যদের সব সুবিধা-অসুবিধা, দুঃখ-কষ্টের কথা শুনার মন-মানসিকতা থাকতে হবে। যেকোনো বিপদ-আপদের সময় সদস্যর পাশে দাঁড়াতে হবে। সদস্যদের কল্যাণে ও সংগঠনের উন্নয়নে কাজ করার মনোভাব থাকতে হবে। তাহলে সদস্যরা ভাল থাকবে। সদস্যদের ব্যবসা ভাল হলে হার্ডওয়্যার ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়ন হবে।

এ প্রসঙ্গে বিসিএস-এর সক্রিয় সদস্য ও ফেমাস ভিশন লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর নুরুল আবছার বলেন, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যিক সংগঠন বিসিএস-এর কার্যক্রম শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মেয়াদে ভিন্ন ভিন্ন কার্যনিবাহী পরিষদ পরিচালনা করে আসছে। একজন সদস্য হিসেবে আমি আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি যারা কার্যনিবাহী পরিষদে থাকেন, তারা সবাই সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যোগ্য না। নির্বাচিত হয়ে কার্যনিবাহী পরিষদে থেকেও তেমনভাবে সক্রিয় থাকেন না। সংগঠনের জন্য কাজ করেন না। নিজের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তাই এবারের নির্বাচনে এমন একজনকে সভাপতি হিসেবে চাই, যিনি নিজে দায়িত্বশীল হবেন। সংগঠনকে সময় দেবেন। পুরো কার্যনিবাহী পরিষদকে নিয়ে সংগঠনের উন্নয়নে, সদস্যদের কল্যাণে কাজ করবেন।

কার্যনিবাহী পরিষদের কাজটা টিম টিমনির্ভর কাজ উল্লেখ করে নুরুল আবছার বলেন, সংগঠনের কার্যনিবাহী পরিষদে যারা থাকেন সবাই সমান যোগ্যতাসম্পন্ন না হলে ওই মেয়াদে ভাল নেতৃত্ব পাওয়া সম্ভব হয় না। একজন সভাপতির দায়িত্ব থাকে তার দক্ষ নেতৃত্বের গুণে পুরো প্যানেলেকে দিয়ে সংগঠনের সদস্যদের সার্বিক উন্নয়নে কার্যক্রম পরিচালনা করা। এখানে শুধু সভাপতি যোগ্য ও দক্ষ হলে ওই মেয়াদে ভাল কাজ করা সম্ভব হয়ে উঠে না। এটা টিমনির্ভর কাজ। পুরো টিমকে নিয়েই কাজ করতে হবে।

নির্বাচনে কেন অযোগ্য ও অদক্ষ নেতা পাস করেন-নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন ফেমাস ভিশন লিমিটেডের এই ম্যানেজিং ডিরেক্টর। তিনি বলেন, প্রার্থীরা যখন প্যানেল হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, তখন যোগ্য নেতাদের সঙ্গে কিছু অযোগ্য ব্যক্তিও বেরিয়ে আসেন। কিন্তু প্যানেলের বাইরে স্বতন্ত্র  প্রার্থী হিসেবে যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ  করেন, তখন প্রতিযোগিতায় অযোগ্য প্রার্থীরা উঠে আসতে পারেন না। তাই প্রার্থীদের স্বতন্ত্র  প্রার্থী হিসেবে  নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত। তাহলে কার কতটা জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতা আছে সেটা প্রমাণ হবে।  তখন কার্যনিবাহী পরিষদও শক্ত হবে। সবাই সমান যোগ্যতাসম্পন্ন হলে টিমটা সুন্দর হবে। সংগঠনের কার্যক্রমও গতিশীল হবে।

বিসিএস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) এই ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। একই সঙ্গে বিসিএস এর ২০২৪-২৬ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটি এবং শাখা কমিটিসমূহের নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়নপত্র আহ্বান হবান করা হয়েছে। আজ বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২.৩০ এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।

নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ওরা-টেক কনসালটিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ কবীর আহমেদ। সদস্য হিসেবে সাইবার কমিউনিকেশনের প্রধান কার্যনির্বাহী মো. নাজমুল আলম ভুঁইয়া (জুয়েল) এবং কম্পিউটার আর্কাইভস-এর স্বত্বাধিকারী মো. আমির হোসেন দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনী আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন বিসিএস-এর প্রাক্তন সভাপতি এসএম ইকবাল। মেট্রোনেট বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান কার্যনির্বাহী ও এফবিসিসিআই-এর প্রাক্তন পরিচালক সৈয়দ আলমাস কবির এবং অ্যাডভান্সড কম্পিউটার টেকনোলজি’র (এসিটি) স্বত্বাধিকারী প্রকৌশলী চৌধুরী মো. আসলাম আপীল বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

২০২৪-২৬ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটি ও ১১টি শাখা কমিটির নির্বাচনের জন্য নির্বাচন বোর্ড চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন ২ হাজার ১৫০ জন ভোটার।

সংবাদটি পঠিত হয়েছে: ১৭০ বার

SPACE FOR AD (760 X 180)

বিশেষ প্রতিবেদন সম্পর্কিত নিউজ