বৃহস্পতিবার

ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

সর্বশেষ


বিশেষ প্রতিবেদন

বিসিএস নির্বাচন: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় কি নির্বাচিত হচ্ছে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি!

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, দুপুর ১০:২৭

টেকওয়ার্ল্ড প্রতিবেদক

Card image

ছবি: সংগৃহীত

এবারের নির্বাচন নিয়ে এসব সদস্যরা চিন্তায় আছেন। শেষ পর্যন্ত ব্যালট পেপারে ভোট দিতে পারবেন তো! কেননা, গত ৭ ফেব্রুয়ারি সাতজন বৈধ মনোনয়নপত্র জমাদানকারীদের তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন বোর্ড।

তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)-এর ২০২৪-২৬ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটি এবং শাখা কমিটিসমূহের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৯ মার্চ। নির্বাচনকে সামনে রেখে জানুয়ারি থেকে মাসব্যাপী ভোটের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী নতুন অভিভাবক নির্বাচনে ভোটার হয়েছেন দুই হাজার ১৫০ জন।

এসব সদস্যদের মধ্যে এবারের নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ব্যালট পেপারে ভোট দিতে পারবেন কি না তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। কেননা, গত ৭ ফেব্রুয়ারি সাতজন বৈধ মনোনয়নপত্র জমাদানকারীদের তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন বোর্ড।

নির্বাচন বোর্ড কর্তৃক ঘোষিত সাতজন বৈধ মনোনয়নপত্র জমাদানকারীরা হলেন সি অ্যান্ডসি ইন্টারন্যাশনালের প্রধান ও বর্তমান সভাপতি প্রকেশৗলী সুব্রত সরকার, স্টারটেক অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআই পরিচালক মো. রাশেদ আলী ভূঁইয়া, সাউথ বাংলা কম্পিউটারের স্বত্বাধিকারী ও বিসিএস মহাসচিব কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, মিজান ট্রেডের স্বত্বাধিকারী আনিসুর রহমান, নেওয়াজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারি এইচ এম শাহ নেওয়াজ, মাইক্রো সান সিস্টেমের স্বত্বাধিকারি এস এম ওয়াহিদুজ্জামান এবং টেকনো প্ল্যানেট সিস্টেমের মো. মনজুরুল হাসান।

এদিকে, টেকহিলের স্বত্বাধিকারী ও এলিফেন্ট রোড কম্পিউটার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির প্রেসিডেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন এবং এশিয়া কমের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আবদুল জলিল নির্ধারিত সময়ের ৫মিনিট পর পেপার জমা দেন। নমিনেশন জমা দিতে ৫ মিনিট বেশি লাগার অজুহাতে ৭ জন মিলে নির্বাচন বোর্ড বরাবর দরখাস্ত জমা দিলে, নির্বাচন বোর্ড  তা আমলে নিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান তুহিনের ও মোহাম্মদ আবদুল জলিল-এর নমিনেশন বাতিল বলে ঘোষণা করেন।

অবশ্য এই তালিকায় আপত্তি জানিয়ে পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি আপিল বোর্ডে আবেদন করেছেন টেকহিলের স্বত্বাধিকারী ও এশিয়া কমের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আবদুল জলিল। তাদের আবেদন নির্ধারিত সময়ের ৫মিনিট দেরিতে জমা পড়ার বিষয়টি মওকুফ করে তাদের আবেদন যেনো বৈধ হিসেবে বিবেচনায় নেয় নির্বাচন বোর্ড।

তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি এ নিয়ে শুনানি নিষ্পত্তি করবেন বিসিএস-এর প্রাক্তন সভাপতি এসএম ইকবাল-এর নেতৃত্বে নির্বাচন আপিল বোর্ড সদস্য মেট্রোনেট বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান কার্যনির্বাহী ও এফবিসিসিআই-এর প্রাক্তন পরিচালক সৈয়দ আলমাস কবির ও এডভান্সড কম্পিউটার টেকনোলজি’র (এসিটি) স্বত্বাধিকারী প্রকৌশলী চৌধুরী মো. আসলাম।

জানা গেছে,  আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে বিসিএস নির্বাচন বোর্ড। নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন ওরা-টেক কনসালটিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ কবীর আহমেদ। আর সদস্য হিসেবে রয়েছেন সাইবার কমিউনিকেশনের প্রধান কার্যনির্বাহী মো. নাজমুল আলম ভুঁইয়া (জুয়েল) এবং কম্পিউটার আর্কাইভস এর স্বত্বাধিকারী মো. আমির হোসেন।

>>আরও পড়ুন: বিসিএস নির্বাচন: কেমন সভাপতি চান সদস্যরা

আপিল বোর্ড প্রর্থী আবেদন গ্রহণ করলেও নতুন দুই প্রার্থীর কারণে আদতে নির্বাচনে তেমন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা ভোটারদের পছন্দ করে নেওয়ার সুযোগ সীমিতই থাকছে বলে মনে করছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা। কেননা বৈধ সাত সদস্যের আবেদনই জমা দিয়েছেন একজন ব্যক্তিই। এতে এই সাতজন একটি প্যানেলভুক্ত বলেই ধরে নেওয়া যায়। আর আবেদন যদি খারিজ করে দেয় তাহলে সাত পরিচালকই ব্যালট খরচ ছাড়াই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে রায় পেয়ে যাবেন।

এদিকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বিসিএস এর সদস্যদের মধ্যে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক গ্রুপে নির্বাচন নিয়ে সদস্যরা তাদের নানান প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। বিসিএস মেম্বার্স অন  ফেসবুক গ্রুপে মো. আক্তারুজ্জামান টিটু লিখেছেন, ‌‘বিসিএস ২০২৪ সালের নির্বাচনে দেখলাম মোট ৭ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তারাই নির্বাচিত হবেন। কিন্তু কথা হচ্ছে, বিসিএস-এর প্রতি আমাদের এতো অনাগ্রহ তৈরি হওয়ার কারন কি? আমি ২০১৮ সালে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলাম।আমরা মোট ১৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আমার অবস্থান ১৫ তম হয়েছিল। কারণ আমি কোন প্যানেলে ছিলাম না। ২টি প্যানেলের বাইরে আমরা মাত্র দুই জন নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করি। আমি এবং অজয় দাদা, মোট ৭৬৫ জন ভোট প্রদান করেছিলেন। আমি ১৩৮ জনের ভোট পেয়েছিলাম। তার মানে আমাকে ১৩৮ জন সন্মানিত ভোটার এতোটাই পছন্দ করেছিলেন যে, প্যানেলের বাইরে আমাকে ভোট দিয়েছিলেন।আমি তাদের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ।’

>>আরও পড়ুন: বিসিএস নির্বাচন: কেমন সভাপতি চান বরিশালের সদস্যরা

তিনি আরও লিখেছেন, ‘পরবর্তীতে আপনাদের অনুপ্রেরণায় আমি বিসিএস-এর বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কার্যক্রমে অংশ নেই। মনে করছিলাম ২০২০ সালে আবার ইলেকশন করবো কিন্তু অনেক সিনিয়র ভাই বললেন তুমি এই যুদ্ধে হেরে যাবা। কিছুদিন পরে করো। ২০২২ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ভাবনা ছিল কিন্তু সবার আলোচনায় ও পরামর্শে  বুঝলাম প্যানেলের বাইরে থেকে নির্বাচনে জেতা সম্ভব নয়। ঘটনা আসলেই সত্যি প্রমাণিত হয়। পরবর্তীতে বুঝতে বাকি রইলো না যে, বিসিএস নির্বাচনে প্যানেল অন্যতম গুরুত্ব  বহন করে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের নির্বাচনে অন্য কোন প্যানেলের ভূমিকা না থাকায় একটি প্যানেল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছে।’

এ স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় নাদিম উদ্দিন নামের এক সদস্য কমেন্টে লিখেছেন, ‘বিগত ২বছরে ১টা মিলন মেলা করে নাই। এই বার পাতানো নির্বাচন যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদেরকে হারিকেন দিয়েও সাধারণ সদস্য খুঁজে পাবে না। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির কাছে আর ভাল কিছুই আশা করা যাবে না। কষ্টদায়ক।’

জিল্লুর রহমান নামে আরেক সদস্য প্রতিক্রিয়ায় কেমেন্টে লিখেছেন, ‘প্যানেল সি‌স্টেম অ‌বৈধ করা হ‌লে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নেতৃত্ব আস‌বে। শাখা ক‌মি‌টির নেতৃত্ব দে‌খেও হাস্যকর ম‌নে হ‌চ্ছে। সাংগঠ‌নিক জ্ঞান ও নেতৃত্ব যোগ্যতা প্রশ্ন‌বিদ্ধ। ভবিষ্যতে সদস্য প‌রিচয় দেওয়াটা সম্মা‌নের না হ‌য়ে লজ্জার হ‌বে। ভালবাসা সবাই‌কে।’  

ওই গ্রুপে জেমস শাহেদ শুভ নামের আরেক সদস্য স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘সংগঠনের চাইতে ব্যক্তি স্বার্থ বড়। তাই বিসিএস অকার্যকর প্রতিষ্ঠান।’

নাজমুল হক নামের এক সদস্য ওই  স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজেএমই বা অন্যান্য বড় বড় সমিতির নির্বাচন হতে পারলে বিসিএস কি দোস করল? আর এটা তো সংবিধানের কোথাও লিখা নাই যে, নির্বাচন হতেই হবে। কাজেই বিসিএসকে অকার্যকর বলে দেওয়াটা মনে হয় ঠিক হচ্ছে না। যখন ৭ জন নির্বাচন করার জন্য এগিয়ে আসছে অন্য কেউ আসছে না, কাজেই এই ৭ জনকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানানো উচিত বলে মনে করি। সর্বোপরি কাউকে না কাউকে তো এগিয়ে আসতেই হবে।নতুন কমিটি আগামী ২ বছর সুন্দরভাবে চালাক এই আশা করি।’

মোহাম্মদ আল মামুন লিখেছেন, ‘ঢাকাতে কম্পিউটার মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোডে বিভিন্ন  মার্কেট, মতিঝিল গাউছে পার্ক মার্কেট,  রাহমানিয়া মার্কেট, প্যারামাউন্ট মার্কেট, ইস্টার্ন প্লাস, মিরপুর কম্পিউটার মার্কেট, আইডিবি, উত্তরা মার্কেট আরও অনেক মার্কেট থাকা সত্ত্বেও একজন প্রতিনিধি ও সেন্টাল কমিটিতে নাই। ঢাকার বাইরের কথা বাদই দিলাম। কেন এই অবস্থা এবং কারা দায়ী? নেতাদের তালিকা দেখলে আমার তো মনে হয় এটি একটি এলিফ্যান্ট রোড কম্পিউটার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন।’

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১৪ মার্চ অনুষ্ঠিত বিসিএস ২০২০-২২ মেয়াদকালের কার্যনির্বাহী কমিটি ও শাখা কমিটির নির্বাচনে সিঅ্যান্ডসি ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত সরকারের নেতৃত্বে ‘চ্যালেঞ্জার্স ২০২১’ এবং ইপসিলন সিস্টেমস অ্যান্ড সলিউশনের চেয়ারম্যান শাহিদ-উল-মুনীরের নেতৃত্বে ‘সমমনা ৭’ প্যানেলের ১৪ প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল কম্পিউটার ভিশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি শফিক উদ্দিন আহমেদ, মাইক্রোসান সিস্টেমসের স্বত্বাধিকারী এস এম ওয়াহিদুজ্জামান এবং টেকনো প্ল্যানেট সিস্টেমসের স্বত্বাধিকারী মঞ্জুরুল হাসান। সেই হিসেবে বৈধ সাত প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন নতুন। একজন সাবেক এবং বাকি তিনজন বর্তমান কমিটিতেই রয়েছেন।

সংবাদটি পঠিত হয়েছে: ১২৬ বার

SPACE FOR AD (760 X 180)

বিশেষ প্রতিবেদন সম্পর্কিত নিউজ