বৃহস্পতিবার

ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

সর্বশেষ


বিশেষ প্রতিবেদন

আইএসপিএবি নির্বাচন: কেমন কার্যনির্বাহী পরিষদ চান সদস্যরা

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, দুপুর ১২:৩০

টেকওয়ার্ল্ড প্রতিবেদক

Card image

ছবি: টেকওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ

একটা সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রত্যেকজন সদস্যেরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। প্রত্যেকজন কার্যনির্বাহী সদস্য যদি নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করেন, দুই বা তিনজন সদস্য যদি শুধু কাজ করেন, তাহলে সংগঠনের কার্যক্রমে গতিশীলতা আসবে না। এটা টিম ওয়ার্কের বিষয়। সবাইকে সমানভাবে কাজ করতে হবে।

যেকোনো সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজন একদল  স্মার্ট, ডায়নামিক নেতা। সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রত্যেকজন সদস্য হবেন নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন। তারা অবশ্যই হবেন সংশ্লিষ্ট সেক্টরে নিজ নিজ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত। যাদের সংগঠনে দেওয়ার মতো থাকবে অফুরন্ত সময়। যারা সংশ্লিষ্ট সেক্টরের মূলধারার ব্যবসায়ী। সংগঠনকে মনেপ্রাণে ভালবাসেন। এবারের আইএসপিএবি-এর নির্বাচনে নির্বাচিত নেতাদের সম্পর্কে এমন প্রত্যাশার কথা জানালেন সদস্যরা।

সারা দেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতাদের জাতীয় সংগঠন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) ২০২৪-২০২৬ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১৬ মার্চ। এবারের নির্বাচনে সংগঠনের গতিশীলতার জন্য কার্যনির্বাহী পরিষদের সদসরা কেমন হবেন, কেমন নেতা প্রত্যাশা করেন, কারা আসলে সংগঠনের সদস্যদের সার্বিক কল্যাণ হবে, বিষয়গুলো জানতে টেকওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কথা হয় আইএসপিএবি-এর দুইজন সক্রিয় সদস্যের সাথে।

আইএসপিএবি-এর সক্রিয় সদস্য ও ফাস্ট নেটের স্বত্বাধিকারী আতিকুর রহমান বলেন, একটা সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রত্যেকজন সদস্যেরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। প্রত্যেকজন কার্যনির্বাহী সদস্য যদি নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করেন, দুই বা তিনজন সদস্য যদি শুধু কাজ করেন, তাহলে সংগঠনের কার্যক্রমে গতিশীলতা আসবে না। এটা টিম ওয়ার্কের বিষয়। সবাইকে সমানভাবে কাজ করতে হবে।

আইএসপিএবি-এর এই সক্রিয় সদস্য বলেন, আমার মতে, যারা নেতৃত্ব দিতে যোগ্য ও দক্ষ তাদেরই নির্বাচনে জয়ী হয়ে কার্যনির্বাহী পরিষদে আসা উচিত। তা না হলে সংগঠনের সদস্যরা যেসব সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার পাওয়ার কথা সেগুলো তারা সুষ্ঠুভাবে কখনও পাবেন না।

তার মতে, আইএসপিএবি-এর কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা হবেন আন্তরিক, বিনয়ী ও সদস্যবান্ধব।যাদের কাছে সদস্যরা তাদের মন খুলে ব্যবসার সব ধরনের সুবিধা-অসুবিধা, সমস্যা ও অভিযোগ ও সুখ-দুঃখের কথা সহজে বলতে পারবেন। যারা সদস্যদের বিপদের সময় পাশে থাকবেন।

আইএসপিএবি-এর সদস্য ও পাইওনিয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ কামরুল হোসেন বলেন, সংগঠনে যতজন সদস্য আছেন সকলের প্রতিনিধি হলেন কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা। আমার মতে, তারা এমন নেতা হবেন যাতে সারা দেশের ইন্টারনেট সার্ভিস সেক্টরে যারা কাজ করছেন সকল সদস্যরা যাতে ভাল মতো ব্যবসা করতে পারেন সে উপযোগী সুষ্ঠু ও  সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেন তারা। ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করার জন্য প্রয়োজনীয় যেসব সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন তারা যেনো সকলের প্রতিনিধি হয়ে দক্ষতার সাথে সরকারের কাছে বলতে পারেন। সংগঠনের সক্রিয় সদস্য হিসেবে যেসব সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার পাওয়ার কথা, সেগুলো যেনো প্রত্যেকজন সদস্য সঠিকভাবে পেতে পারেন সেটা নিশ্চিত করতে পারেন।

পাইওনিয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের এই ম্যানেজিং ডিরেক্টর বলেন, মোট কথা কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা যারা হবেন তাদের সংগঠনের সদস্যদের সব সুবিধা-অসুবিধা, দুঃখ-কষ্টের কথা শুনার মন-মানসিকতা থাকতে হবে। যেকোনো বিপদ-আপদের সময় সদস্যর পাশে দাঁড়াতে হবে। সদস্যদের কল্যাণে ও সংগঠনের উন্নয়নে কাজ করার মনোভাব থাকতে হবে। তাহলে সদস্যরা ভাল থাকবে। সদস্যদের ব্যবসা ভাল হলে হার্ডওয়্যার ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়ন হবে।

নির্বাচন সচিবালয় সূত্রে জাান গেছে, বাণিজ্য সংগঠন নীতিমালা এবং ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সংঘ বিধি অনুসারে এবারের নির্বাচনে অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সদস্য শ্রেণী থেকে ২৫০ জন ও সহযোগী সদস্য শ্রেণী থেকে ৭৫৬ জন মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৬ জন ভোট দেবেন। এর মধ্যে থানা ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ৭০৬ জন এবং জেলা ক্যাটাগরিতে আছেন ৫০ জন ভোটার।

অর্থাৎ এবারের ভোটে সাধারণ ক্যাটাগরির ৯ পরিচালককে নির্বাচনে ভোট দেবেন ২৫০ এবং সহযোগী থেকে ৭৫৬ ভোটার নির্বাচন করবেন ৪ পরিচালককে। এরপর ১৩ পরিচালক মিলে ১৮ মার্চ নিজেদের মধ্যে পদবণ্টন করবেন। জাতীয় সংসদের ডেপুটি হুইপ মো. নজরুল ইসলাম বাবু নির্বাচনে বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং জেএএন অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর আব্দুল্লাহ এইচ কাফি ও এক্সেল টেকনোলজিস লিমিটেডের পরিচালক বীরেন্দ্রনাথ অধিকারী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

একইভাবে আগের ভোটের মতোই এবারো নির্বাচনী আপীল বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক এবং সামিয়া ট্রেডিং এর স্বত্বাধিকারী ও এফবিসিসিআই পরিচালক হাফেজ হারুন এবং ন্যাশনাল পিভিস পাইপ প্রোডাক্টর স্বত্বাধিকারী মো. আবুল খায়ের দায়িত্ব পালন করছেন।

নির্বাচন তফসীল অনুযায়ী, আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থীরা আবেদন গ্রহণ করতে পারবেন। এর পর দিন প্রার্থীতা জমা ও বাছাই কাজ শেষ হবে। আর ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থীতা প্রত্যাহারের পথ খোলা থাকবে। আগামী মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত প্রচার প্রচারণা শেষে ১৬ মার্চ মিলবে ভোটারদের রায়।

প্রসঙ্গত, আইএসপিএবি’র ওয়েব সাইটের তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনটিতে ৩৯৯ জন সাধারণ এবং ১৬০৪ জন সহযোগী সদস্য রয়েছেন।

সংবাদটি পঠিত হয়েছে: ৯৪ বার

SPACE FOR AD (760 X 180)

বিশেষ প্রতিবেদন সম্পর্কিত নিউজ