যৌথ মাল্টিক্লাউড সেবা এনেছে অ্যামাজন ও গুগল
ইন্টারনেটে সামান্য বিঘ্নও এখন বড় ঝুঁকি তৈরি করে। কয়েক মুহূর্তের অচলাবস্থায় থেমে যায় বহু সেবা। জনপ্রিয় অনেক অ্যাপও তখন কাজ করে না। তাই নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ আজ সবচেয়ে জরুরি বিষয়।
এই প্রেক্ষাপটে রবিবার (৩০ নভেম্বর) যৌথ মাল্টিক্লাউড সেবা চালু করেছে অ্যামাজন ও গুগল। নতুন এই নেটওয়ার্ক গ্রাহকদের দুই প্রতিষ্ঠানের তথ্যকেন্দ্রের মধ্যে দ্রুত ব্যক্তিগত সংযোগ দিতে পারবে। আগে যে সংযোগ স্থাপনে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেত, এখন তা করা যাবে কয়েক মিনিটে। সময় বাঁচবে, ঝুঁকিও কমবে।
ঘোষণাটি এসেছে সাম্প্রতিক বড় অচলাবস্থার পরপরই। গত ২০ অক্টোবর আমাজনের ক্লাউডভিত্তিক সেবা হঠাৎ বিপর্যস্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় হাজারো ওয়েবসাইট। জনপ্রিয় কয়েকটি অ্যাপও থেমে যায়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বহু প্রতিষ্ঠান বড় ক্ষতির মুখে পড়ে। এক বিশ্লেষণ সংস্থার হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ ৫শ’ কোটি থেকে সাড়ে ৬শ’ কোটি ডলারের সমপরিমাণ।
নতুন যৌথ সেবা তৈরি হয়েছে অ্যামাজনের আন্তসংযোগ প্রযুক্তি আর গুগলের আন্তক্লাউড সংযোগ ব্যবস্থাকে মিলিয়ে। এতে দুই প্ল্যাটফর্ম আরও দ্রুত ও সহজে যোগাযোগ করতে পারবে। আমাজনের নেটওয়ার্ক বিভাগের উপপ্রধান রবার্ট কেনেডি বলেন, মাল্টিক্লাউড সংযোগের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় পরিবর্তন।
গুগলের ক্লাউডভিত্তিক নেটওয়ার্ক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত রব এন্স বলেন, গ্রাহকেরা এখন আরও সহজে তথ্য এবং অ্যাপ এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্যটিতে নিতে পারবেন। ইতিমধ্যে বিক্রয় ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার তৈরি করা একটি বড় প্রতিষ্ঠান নতুন এই ব্যবস্থা ব্যবহার শুরু করেছে।
বিশ্বে সবচেয়ে বড় ক্লাউডভিত্তিক সেবা প্রদানকারী হলো অ্যামাজন। তারপর রয়েছে মাইক্রোসফট এবং গুগল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবার চাহিদা বাড়তে থাকায় তারা নতুন অবকাঠামো তৈরিতে বিপুল বিনিয়োগ করছে।
চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে অ্যামাজনের ক্লাউডভিত্তিক ব্যবসায় দৃশ্যমান প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ওই সময়ে তাদের আয় দাঁড়ায় প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ। একই সময়ে গুগলের আয় ছিল প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।
সূত্র : রয়টার্স