আইটি সেক্টরে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য কাওরান বাজারে আরো একটি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপন করা হবে: আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক

প্রকাশঃ ০৭:৩৩ মিঃ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১
Card image cap

আইটি সেক্টরে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে স্পেসের ব্যাপক চাহিদা পূরণ এবং ব্র্যান্ডিংয়ের উপযুক্ত ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জন্য কাওরান বাজারে আরো একটি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপন করা হবে।

টেকওয়ার্ল্ড প্রতিনিধি:

আইটি সেক্টরে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে স্পেসের ব্যাপক চাহিদা পূরণ এবং ব্র্যান্ডিংয়ের উপযুক্ত ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জন্য কাওরান বাজারে আরো একটি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপন করা হবে। ১ লক্ষ ২০ হাজার বর্গফুট স্পেস বিশিষ্ট ১২ তলা এই গ্রিন বিল্ডিং তৈরিতে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে ভিশন ২০২১ টাওয়ার-২ সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপনের লক্ষ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের অনুকূলে বরাদ্দকৃত জমি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। কাওরান বাজারে ভিশন ২০২১ টাওয়ার-১ সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক (সাবেক জনতা টাওয়ার)-এ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর চেয়ারম্যান এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী উপস্থিত ছিলেন। 

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক জানান, গত ০৩ আগস্ট, ২০১০ তারিখ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্স এর প্রথম সভায় কাওরান বাজারস্থ ভিশন-২০২১ টাওয়ারটিতে (সাবেক জনতা টাওয়ার) একটি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক প্রতিষ্ঠার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অনুকূলে বরাদ্দ প্রদানের সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ২৪ নভেম্বর, ২০১০ তারিখে ভিশন-২০২১ টাওয়ারটি বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের অনুকূলে বরাদ্দ প্রদান করে। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ জরাজীর্ণ ভবনটির সংস্কার করে একটি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপন করে এবং গত ১৮ অক্টোবর, ২০১৫ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয় সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। বর্তমানে পার্কটিতে ১৯টি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১০০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে এছাড়াও এখানে ১৫টি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান কাজ করে থাকে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর চেয়ারম্যান এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, দেশের আইটি সেক্টরের বিকাশের স্বার্থে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ইতোমধ্যে জনতা টাওয়ার সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক (প্লট নং৪৯) এর দক্ষিণ পার্শ্ব সংলগ্ন অব্যবহৃত ০.৪৭ একর (প্লট নং-৪৯/এ, ৪৯/বি এবং ৪৯/সি) জমিতে ‘ভিশন ২০২১ টাওয়ার-২ সফটওয়্যার  টেকনোলজি পার্ক’ নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের অনুকূলে বরাদ্দ প্রদান করেছে। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই জমি হস্তান্তর করা হলো। বাংলাদেশের আইটি সেক্টরকে এগিয়ে নিতে এখানে আন্তর্জাতিকমানের ভবন নির্মাণের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি আইটি কোম্পানি এবং সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাবে। ফলে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আমরা আশা করছি।

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) এ এন এম সফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের ইনোভেশন কার্যক্রমকে গতিশীল করে একটি ইনোভেশন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের অর্থায়নে ও বিশ্বব্যাংকের ঋণে মোট ৩৫৩.০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের আওতায় ‘ডিজিটাল উদ্যোক্তা এবং উদ্ভাবন  ইকোসিস্টেম উন্নয়ন’ নামীয় একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশে ইনোভেশন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিতকরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

জমি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. খন্দকার আজিজুল ইসলাম; এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, আইসিটি বিভাগ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জমি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের পরিচালক (যুগ্ম-সচিব)সৈয়দ জহুরুল ইসলাম।

সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ৬৭ বার

সম্পর্কিত পোস্ট