বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ, তারুন্য ও তথ্যপ্রযুক্তি শীর্ষক ই-ক্যাবের আলোচনা

প্রকাশঃ ১১:০৩ মিঃ, আগস্ট ৩০, ২০২১
Card image cap

আজ বেলা ৩টায় ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) আয়োজন করে ‘‘বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ, তারুন্য ও তথ্যপ্রযুক্তি” শীর্ষক আলোচনায় সভা। জুম অনলাইনে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি।

টেকওয়ার্ল্ড প্রতিনিধি:

আজ বেলা ৩টায় ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) আয়োজন করে ‘‘বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ, তারুন্য ও তথ্যপ্রযুক্তি” শীর্ষক আলোচনায় সভা। জুম অনলাইনে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি। মূল আলোচক হিসেবে ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জনাব মুহম্মদ জাফর ইকবাল। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন ই-ক্যাবের উপদেষ্ঠা মাননীয় সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক এমপি ও এফবিসিসিআই’র পরিচালক সেরনিয়াবাত মঈন উদ্দিন আব্দুল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধু যদি আপোষ করতেন তাহলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন। তিনি তা করেন নি। কারণ তিনি জানতেন পাকিস্তান দিয়ে মানুষের উন্নতি হবে না। শিক্ষা ও প্রযুক্তির বিকাশ হবে না। তিনি বলেছিলেন, ‘‘তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত হও।“ বঙ্গবন্ধুর এই আহবানে শুধু অস্ত্রের কথা বলেননি তিনি যেকোনো প্রযুক্তির কথাও বলেছেন। তখন রেডিওতে গানের মাধ্যমেও অনেকে মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণা যুগিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শি নেতৃত্বের ফসল স্বাধীন দেশ ও আজকের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।  

বিশেষ অতিথি আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধু একটি নিরস্ত্র জাতির তরুনদের মধ্য একটি সর্বাত্মক ও সশস্ত্রদল গঠন করে একটি নতুন দেশ উপহার দিয়েছেন। ৭০ এর নির্বাচনী বক্তৃতায় তিনি শিক্ষা ও প্রযুক্তির  উন্নতির কথা বলেছেন। বঙ্গবন্ধুর তথ্য প্রযুক্তির পৃষ্ঠপোশকতার সবচেয়ে বড়ো উদাহরণ হলে ১৯৭২ সালে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর জন্য তিনি প্রযুক্তি ভিত্তিক একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন, এবং যার প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন বিশিষ্ট বিজ্ঞানীকে, যাকে ড. কুদরত-ই –খুদা নামে আমরা চিনি। শুধু তাই নয় তিনি নিজের মেয়েকে একজন পরমানু বিজ্ঞানীর সাথে বিয়ে দিয়েছেন। 

প্রযুক্তি শিক্ষক জনাব মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন সেই নেতা যিনি একটি যুদ্ধ বিধস্ত দেশের দায়িত্ব পেয়ে অবৈতনিক শিক্ষা ও শিক্ষা উপকরণসহ যা যা করা দরকার তার সব করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই অগ্রগতি। মুক্তিযুদ্ধের সময় একশ্রেণীর মানুষ বলেছে দেশ স্বাধীন হবে না। কিন্তু তরুণরা তাদের কথা শোনেনি তারা বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে যুদ্ধ নেমেছে তাই আজ আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। যার ক্ষেত্রগুলো বলে শেষ করা যাবে না।

আলোচনায় অংশ নেন নাহিম রাজ্জাক এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধুর পথ ধরেই আজকের বাংলাদেশের ডিজিটাল যুগের সমৃদ্ধি ঘটছে। স্যাটেলাইট থেকে শুরু করে ডিজিটাল প্রযুক্তি র্সবক্ষেত্রে বাংলাদেশের গৌরবময় অগ্রযাত্রায় তারুন্যশক্তি একটা অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ই-কমার্সের ক্ষেত্রে যে উন্নতি ঘটেছে তাও সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক সিদ্ধান্তের ফসল।

ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার বলেন, পাকিস্তানী হানাদার ও তাবেদার শক্তি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এই দেশের মানুষের স্বাধীনতার চেতনা সমূলে উপড়ে ফেলতে চেয়েছিল। সেখানে তারা ব্যর্থ হয়ে ১৫ আগষ্ট সংগঠিত করেছিল নারকীয় তান্ডব। তারা বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা সফল হয়নি। কারণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর আর বঙ্গবন্ধুর আহবান এই দুইয়ে মিলে তারুন্যের শক্তি আর প্রযুক্তির সক্ষমতা নিয়ে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। তিনি বঙ্গবন্ধুকে লেখা শেখ রেহানার একটি কবিতা আবৃত্তি করেন। 

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ই-ক্যাবের জেনারেল সেক্রেটারী মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল। অনুষ্ঠানের শুরুতে ৭১ এর ১৫ আগস্ট সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে কোরআন তেলাওয়াত ও মোনাজাত করো হয়।

সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ১০৩ বার

সম্পর্কিত পোস্ট