২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ছিলো বাংলাদেশকে নেতৃত্ব শুন্য করার আরও একটি ষড়যন্ত্র: মোস্তাফা জব্বার

প্রকাশঃ ০১:১৪ মিঃ, আগস্ট ২২, ২০২১
Card image cap

মন্ত্রী আজ শনিবার ঢাকায় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকাস্থ বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

টেকওয়ার্ল্ড প্রতিনিধি:

বঙ্গবন্ধু দেশি-বিদেশি অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় যুদ্ধ শুরু করেছিলেন দ্বিতীয় বিপ্লবের মাধ্যমে। অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের এই যুদ্ধে দেশি দোসরদের পাশাপাশি পাকিস্তান ও তাদের বিদেশি দোসররা বঙ্গবন্ধু যাতে সে অভিষ্ট্য লক্ষ্য অর্জন করতে না পারে এ জন্যই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে বাংলাদেশকে পাকিস্তান তৈরির চক্রান্ত শুরু করা হয়। ১৫ই আগেস্টের রাতেই ষড়যন্ত্রকারিদের মুখোশ উন্মোচিত হয়। এরপর তারা জেলখানায় চার নেতাকে হত্যা করে। তারপর বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব শুন্য করার আরও একটি ষড়যন্ত্র ছিলো ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা। কেবল সেদিন নয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করার জন্য তিনি ৮১ সালে দেশে ফেরার পর অন্তত একুশ বার আক্রমণ করা হয়।

মন্ত্রী আজ শনিবার ঢাকায় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকাস্থ বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতি‘র সভাপতি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সাবেক মূখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ-এর সভাপতিত্বে এবং সাবেক সিনিয়র সচিব আবদুস সামাদ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান,বস্ত্র ও পাট সচিব আবদুল মান্নান, প্রবাসি ও বৈদেশিক কর্ম-সংস্থান  সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সচিব মো: আবুল মনসুর, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শরিফা খান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মোখলেছুর রহমান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ম. হামিদ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির সাধারণ সম্পাদক, ডিবি ঢাকা উত্তরের যুগ্ম-কমিশনার হারুন-অর-রশীদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

মন্ত্রী ১৫ আগস্টকে স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্রেরই ফসল উল্লেখ করে বলেন বঙ্গবন্ধুর কণ্যা শেখ হাসিনার জন্য তাদের উদ্দেশ্য সফল সমাপ্তিতে পৌছায়নি। পঁচাত্তরের পর ৬ বছরের শরনার্থী জীবন  শেষে  ৮১ সালে দেশে ফেরার পর ১৫ বছর মরণপণ যুদ্ধ করে ২১ বছরের জঞ্জাল অপসারণ করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনিতক সংগঠন পুনর্গঠন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্ত্বেই বঙ্গবন্ধু ঘোষিত অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে বাংলাদেশ আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রথম গণনাটক ‘একনদী রক্তের’নাট্যকার জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেন, হাজার বছরব্যাপি বৃটিশ –পাকিস্তানীরাসহ বিদেশীরা বাঙালির এই উর্বর ভূখণ্ডটি শাসন করেছে, শোষণ করেছে  সম্পদ লুট করেছে। বঙ্গবন্ধুই হাজার বছরের পরাধীন জাতিকে মুক্ত করেছেন, পৃথিবীতে বাংলা ভাষা ভিত্তিক বাঙালির একমাত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সঠিকভাবে স্মরণ করতে হলে তাকে নিয়ে বিস্তারিত পড়া –শোনা করতে হবে।নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। 

তা না হলে বঙ্গবন্ধুকে সঠিক মূল্যায়ন সহজ হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি  বলেন,  দেশের অগ্রগতিতে বঙ্গবন্ধুর উত্তরসূরি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ৯৬ থেকে ২০০১ ও গত ১২ বছরে অভাবনীয় উচ্চতায় বাংলাদেশকে উন্নীত করেছেন। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বিশ্বের রোল মডেল। জননেত্রী শেখ হাসিনা গ্রাম ও শহরের মধ্যে বৈষম্য দূর করতে কাজ করছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারিদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পনের আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার বর্ণন করে বলেন, হত্যাকারিরা কেবল বিশ্বাসঘাতকই ছিল না, তারা ছিলো অকৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার কুশিলবদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ অনেক আগেই বিশ্বে সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতো। তারা বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার চলমান সংগ্রামে  ভূমিকা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ১২২ বার