ডিজিটাল রুপান্তর এবং প্রযুক্তি বান্ধব প্রতিষ্ঠান শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত/ বিসিএস এর উদ্যোগে ‘ডিজিটাল রুপান্তর এবং প্রযুক্তি বান্ধব প্রতিষ্ঠান’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

প্রকাশঃ ১০:৫৮ মিঃ, মে ২৪, ২০২১
Card image cap

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) সদস্যদের বিসিএস স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ভলিউম ১৬ এর বাস্তবায়নে ডিজিটাল রুপান্তর এবং প্রযুক্তি বান্ধব প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতে ‘ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড টেক সেভিনেস উইদিন অর্গানাইজেশন’ শীর্ষক একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে।

টেকওয়ার্ল্ড প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) সদস্যদের বিসিএস স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ভলিউম ১৬ এর বাস্তবায়নে ডিজিটাল রুপান্তর এবং প্রযুক্তি বান্ধব প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতে ‘ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড টেক সেভিনেস উইদিন অর্গানাইজেশন’ শীর্ষক একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে।

২৩ মে রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় অনলাইনে এই প্রশিক্ষন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিসিএস সভাপতি মো. শাহিদ-উল-মুনীর। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের কাজকে দ্রুত সম্পাদন এবং  ফলপ্রসু করার জন্য ডিজিটাল রুপান্তর গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের ক্ষেত্রে একটি ভালো হাতিয়ার যেমন লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা দেয় তেমনি কর্মক্ষেত্রকে ডিজিটালাইজ করা হলে কর্ম সম্পাদনের পথ সহজ হয়। শুধু ডিজিটাল ডিভাইস ই নয় বরঞ্চ কী কী ডিভাইস এবং এর ব্যবহার দ্বারা আমরা খরচ এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে পারি তা জানতে আজকের সেশনটি সদস্যদের জন্য উপকারী হবে বলেই আমার বিশ্বাস। বিসিএস এর প্রশিক্ষণ কর্মসূচী একটি চলমান কর্মপ্রয়াস। সদস্যদের প্রযুক্তি জ্ঞানে সমৃদ্ধ করতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। 

কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. খন্দকার আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণ সরকারের একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। সরকার ব্যবসা করে না, ব্যবসা করার ক্ষেত্র সৃষ্টি করে। একটা সময় মোবাইল বিলাসবহুল পণ্য ছিল। এখন আমাদের দেশের প্রত্যন্থ অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকরাও স্মার্টফোন ব্যবহার করছে। এটাই ডিজিটাল রুপান্তর। নিজের ক্ষেত্রকে ডিজিটাল ডিভাইস বান্ধব করলে আমাদের উত্তরণের পথ সহজতর হবে। 

আইসিটি ম্যাগাজিন দ্য মানথলি সি নিউজ এর প্রকাশক এবং সম্পাদক রাশেদ কামাল হিজল বলেন, ডিজিটাল রুপান্তরের ক্ষেত্রে আমাদের ডেটার সঠিক ব্যবহার করা আরো বেশি জরুরী। আমাদের এখন অনেক তথ্যভান্ডার রয়েছে। বিশ্লেষণেও আমরা সহজেই তথ্য পাই। কিন্তু কোন তথ্য ব্যবহার করে আমরা প্রতিষ্ঠানের জন্য সুফল নিয়ে আসতে পারবো তা বুঝার ক্ষমতা আমাদের থাকতে হবে। প্রযুক্তি জ্ঞানকে ব্যবহার করার আগ্রহ সৃষ্টি হলে আমরা রুপান্তরের সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগ করতে পারবো। 

ইউসিসি এর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা সরওয়ার মাহমুদ খান বলেন, প্রযুক্তি বান্ধব হওয়া ছাড়া ডিজিটাল রুপান্তর সম্ভব নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ওয়েবসাইট, অ্যাপ এবং ইন্টারেকটিভ যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যবসাকে গ্রাহক বান্ধব করা জরুরী। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের আয় ব্যয় হিসাব, মূলধন, লাভ এবং অফিস পরিচালনা খরচকে যদি ডাটাবেইসের মাধ্যমে সহজেই পাওয়া যায় তাহলে উপযুক্ত ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব। প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে। এই বদলে যাওয়ার সঙ্গে নিজের প্রতিষ্ঠানের সংযোগ ঘটাতে পারলে ব্যবসায় উন্নতি হবে বলেই আমি আশাবাদী। 

বিসিএস যুগ্ম-মহাসচিব মো. মুজাহিদ আল বেরুনী সুজন এর সঞ্চালনায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) এর সমন্বয়ক এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আব্দুর রহিম খানের উপস্থিতিতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট (বিএসডিআই) এর নির্বাহী পরিচালক কে এম হাসান রিপন। অনলাইনে প্রায় পাঁচ শতাধিক বিসিএস সদস্য এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি বিসিএস এর ফেসবুক পেজে প্রচারিত হয়। এসময় প্রায় ১ হাজার দর্শনার্থী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপভোগ করেন।

ডিজিটাল রুপান্তর এবং প্রযুক্তি বান্ধব প্রতিষ্ঠান তৈরি করার কৌশল উল্লেখ করে কে এম হাসান রিপন বলেন, একটা সময় টাইপ রাইটার ব্যবহার করে মানুষ লেখালেখির কাজ করতো। যখন কম্পিউটার আসলো, তখন টাইপ রাইটিস্টরা ভাবলো তাদের চাহিদা মনে হয় শেষ হয়ে এলো। কিন্তু যেসব টাইপ রাইটিস্টরা কম্পিউটার ব্যবহার শিখে নিতে পারলো তারা এখনো ব্যবসা করে যাচ্ছে। টাইপ রাইটিস্টের চেয়ে সে নিজেকে এখন কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠান প্রধান এখন কর্মক্ষেত্রে না এসেও কার্যালয়ের সব তথ্য জানতে পারছেন। এতে মূলত যোগাযোগ সহজ হচ্ছে। কারখানা, বিক্রয় কেন্দ্র এবং ব্যবসার মূল কেন্দ্রকে একিভূত করার অন্যতম মাধ্যম হলো ডিজিটাল রুপান্তর। যে প্রতিষ্ঠান যত দ্রুত নিজেদের অপারেশনকে ডিজিটাল রুপান্তর করতে পারবে সে প্রতিষ্ঠান তত দ্রুত নিজেদের লক্ষ্য ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম হবে। 

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি প্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল রুপান্তর করার উপায় এবং প্রযুক্তি বান্ধব কর্মক্ষেত্র বাস্তবায়নে কী কী পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে সে বিষয়ে দর্শনার্থীদের একটি স্বচ্ছ ধারণা প্রদান করেন।

প্রসঙ্গত, আইসিটি বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি টেকজুমডটটিভি এর সৌজন্য বিসিএস এর ফেসবুক পেইজে সম্প্রচারিত হয়েছে।

সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ৭৪ বার