আমমেলা-ইবাণিজ্যে সারাবেলা উদ্ভোধন অনুষ্ঠিত

প্রকাশঃ ১২:৩১ মিঃ, জুন ২৩, ২০২০
Card image cap


টেকওয়ার্ল্ড প্রতিনিধি:

২২ জুন, সোমবার, বিকাল ৩.০০ টায় বাণিজ্য মন্ত্রনালয় ও ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত “আমমেলা-ইবাণিজ্যে সারাবেলা” কর্মসূচীর উদ্ভোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশে ই-কমার্সের উন্নয়ন, অনলাইন দেশীয় পন্যের প্রসার ও ই-বাণিজ্যে গতিশীলতা আনতে উক্ত অনলাইন আম মেলার আয়োজন করা হয়েছে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আমমেলা উদ্ভোধন করেন ড. মোঃ জাফর উদ্দীন, সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রনালয়। বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব মোঃ ওবায়দুল আজমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জনাব মোঃ হাফিজুর রহমান, মহাপরিচালক, ডব্লিউটিও সেল, বাণিজ্য মন্ত্রনালয়। জনাব এ. এইচ.এম সফিকুজ্জামান, যুগ্মসচিব, বাণিজ্য মন্ত্রনালয়। জনাব মোঃ হামিদুল হক, জেলা প্রশাসক, রাজশাহী। জনাব রেজওয়ানুল হক জামি টিমলিডার, একশপ ও জনাব মাজহারুল মান্নান, প্রতিনিধি হর্টেক্স ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জনাব শমী কায়সার, প্রেসিডেন্ট, ই-ক্যাব।

বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দীন বলেন, করোনার কারনে অর্থবাজারে যে প্রভাব পড়েছে তাতে চাষীদের দুঃখ দুর্দশা দেখে এই উদ্যোগের কথা চিন্তা করা হয়েছে। করোনা যেমন অর্থনৈতিক ঝুকিঁ সৃষ্টি করেছে তেমনি নতুন কিছু করার সুযোগও সৃষ্টি করেছে। ই-ক্যাবকে সাথে নিয়ে এই কর্মসূচী বাস্তবায়নে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। এর মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের উৎপাদনকারীকে ই-বাণিজ্যে সম্পৃক্ত করে সরকার ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করার পথ সুগম হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব মোঃ ওবায়দুল আজম বলেন, আম দিয়ে যে যৌথ উদ্যোগের সূচনা করা হয়েছে আম বাজারজাতকরনের সহায়ক ভূমিকার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অন্যান্য গ্রামীন ও কৃষি পণ্যের ক্ষেত্রে এ ধরনের অনলাইন বাজার সম্প্রসারনের ব্যবস্থা করা হবে। রাজশাহীর পাশাপাশি অন্যান্য জেলার আম এইচেইনে যুক্ত করা হবে। বর্তমানে কুরিয়ারের মাধ্যমে আম প্রেরনে যে সব সমস্যা ও অভিযোগ রয়েছে সেগুলো সমাধানের জন্য ই-ক্যাব ও বাণিজ্য মন্ত্রনালয় একযোগে কাজ করবে।

বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের  যুগ্মসচিব এ. এইচ.এম সফিকুজ্জামান বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু আম চাষী ও আম বাগান মালিক কিংবা ভোক্তা সাধারনকে উপকৃত করবে তা নয়। ফল ব্যবসার সাপ্লাইচেইনকে সুশৃংখল করবে এবং ই-কমার্সের উন্নতিতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক জনাব হামিদুল হক বলেন, রাজশাহী জেলায় আমবাণিজ্যের সাথ ৯০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। আমের সরবরাহ সহজীকরনের মাধ্যমে আমের বাজার বৃদ্ধি করলে এই কর্মসংস্থান আরো বৃদ্ধি পাবে। চলতি বছর আমের মুকুল আসার পর থেকে কোনো ধরনের ক্যামিকেল দেয়া থেকে বিরত রাখা হয় এবং বিটিআসির মাধ্যমে বিনামূল্যে আম প্রেরনের সুবিধা গ্রহনের মাধ্যমে আমের দাম যেনো বৃদ্ধি না পায় সে ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট জনাব শমী কায়সার বলেন, সারাদেশে অন্তত ৫০ লাখ মানুষকে ন্যায্যমূল্যে ও নিরাপদে অনলাইন থেকে আম সংগ্রহের সুযোগ করা দেয়া হলো এই উদ্যোগের মাধ্যমে। সরকারী এবং বেসরকারী বিভিন্ন  পক্ষের সমন্বয়ে এটা বাস্তবায়ন করা হবে এই কর্মসূচী। তিনি সংশ্লিষ্ঠ পক্ষসমূহকে এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। 

ই-ক্যাবের জেনারেল সেক্রেটারী আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, আমচাষীরা যেন তাদের ফলনের ন্যায্যমূল্য পায় এবং ক্রেতা সাধারন যেন ঘরে বসে আম পেতে পারেন পাশাপাশি অনলাইন শপগুলোর আম সরবরাহ পর্যাপ্ত করতে এই আয়োজন করা হয়েছে। কোভিড শুরু হওয়ার পর  থেকে জনসাধারন নিরাপদ সেবা  দিতে ই-কমার্স সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বিরতিহীন কাজ করে চলেছে। এই আম মেলা তারই একটি অংশ। মূলত ই-ক্যাবের ১২শ মেম্বার প্রতিষ্ঠান থেকে আম বানিজ্যের সাথে যারা যুক্ত রয়েছেন কারা এ প্রকল্পে কেন্দ্রিয় সমন্বয়ের মাধ্যমে চাষী এবং বাগান মালিকদের কাছ থেকে আম সংগ্রহ করবেন।

ই-ক্যাবের জেনারেল সেক্রেটারী আব্দুল ওয়াহেদ তমালের সঞ্চলনায়  অনুষ্ঠানে  হর্টেক্স ফাউন্ডেশনসহ সরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন ই-ক্যাবের কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য ও আম বাণিজ্যের সাথে জড়িত ই-ক্যাবের সদস্য কোম্পানীসমূহ। ই-ভালীর সিইও জনাব মোঃ রাসেল এ উদ্যোগের জন্য সরকার, ই-ক্যাবসহ সকলকে ধন্যবাদ জানান। সহযোগিতায় ছিলো আইসিটি ডিভিশন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়, বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল, হর্টেক্স ফাউন্ডেশন, ই-পোস্ট, ফুড ফর ন্যাশন ও একশপ। এছাড়া প্রাইভেট সেক্টর থেকে ছিলো- ধানসিড়ি কমিউনিকেশন, চালডাল, মিনাক্লিক, ফুডপান্ডা, সবজিবাজার, কেজিক্লিক ও কমজগত টেকনোলজি। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। 

সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ৯০ বার

সম্পর্কিত পোস্ট