অনলাইন কেনাকাটায় ভ্যাট ৭.৫ শতাংশ : রহিত করনের দাবী সংম্লিষ্ঠদের

প্রকাশঃ ০৯:৫৩ মিঃ, জুন ১৬, ২০১৯
Card image cap

দেশে দিনদিন জনপ্রিয়তা বাড়ছে ডিজিটাল কর্মাস বা অনলাইনে কেনাকাটার ।

টেকওয়ার্ল্ড প্রতিনিধি:

দেশে দিনদিন জনপ্রিয়তা বাড়ছে ডিজিটাল কর্মাস বা অনলাইনে কেনাকাটার । দেশের ডিজিটাল উন্নয়নে এর অবদানও বাড়ছে সে সাথে এই ব্যবসায় আগ্রহী হচ্ছে দেশের তরুন উদ্যোক্তারা। দেশে ডিজিটাল  রুপকল্প বাস্তবায়নে এ খাতের উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ তার জন্য সরকারী সহায়তা। এমতাবস্থায় ডিজিটাল বানিজ্যে ৭.৫ ভ্যাট আরোপে একদিকে ব্যাবসায়িদের অপরদিকে  অনলাইন কেনাকাটায় ক্রেতাদের নিরুৎসাহিত করবে। এ বৎসর কেবল নয় আগামী ৫ বৎসর ভ্যাটের আওতামুক্ত থাকা উচিত ডিজিটাল ব্যবসা খাত- জাতীয় বাজেট ২০১৯-২০২০ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় দেশের সফটওয়্যার খাতের সংগঠন বেসিসের সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর এ কথা বলেন।

আজ হার্ডওয়্যার খাতের সংগঠন বিসিএস, সফটওয়্যার খাতের সংগঠন বেসিস, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন (আইএসপিএবি) ও কল সেন্টার অ্যাসোসিয়েশন (বাক্য) ‍সম্মিলিতভাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা  ২০১৯-২০ এর প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হয়।

দেশে ডিজিটাল বা ভার্চ্যুয়াল ব্যবসা একটি উদীয়মান খাত যাতে সম্পৃক্ত রয়েছে দেশের অসংখ্য তরুন তরুনী। ঘরে বসে ব্যবসা করে অর্থ উপাজন করার সুযোগ থাকায় দেশে বহু নারী উদ্যোক্তারা ডিজিটাল ব্যাবসা করে আজ সাবলম্বী অপরদিকে ঘরে বসে শপিং করার সুবিধা পাওয়ায় ক্রেতাদের কাছেও জনপ্রিয় অনলাইন কেনাকাটা। গত বৎসরের বাজেটেও এখাতে ৫% ভ্যাট আরোপিত হয় পরবর্তীতে সংগঠনগুলোর জোরালো দাবীতে তা প্রত্যাহার করা হয়। সংশ্লিষ্ঠরা মনে করেন সরকারের পক্ষ হতে এ খাতকে সম্ভাবনাময় উদীয়মান খাত হিসাবে বিবেচনা করে প্রস্তাবিত ৭.৫ ভ্যাট প্রত্যাহার করে এখাতের উন্নয়নে সহযোগিতা করবে। সংবাদ সম্মেলনে এমনই প্রত্যাশা করেন বক্তারা।

এবারের বাজেটে সোশ্যাল মিডিয়া ও ভার্চ্যুয়াল ব্যবসায় সাড়ে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাটের কথা বলা হয়েছে। দেশের ই-কমার্স খাতকে ভার্চ্যুয়াল ব্যবসার ভেতরে ফেলায় নতুন এ খাতটির অগ্রগতির জন্য তা বাধার সৃষ্টি করবে। এ খাতে তাই ভ্যাট অব্যাহতির দাবি জানান তারা। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি সেবার ওপর ৫ শতাংশ আরোপিত মূসক প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি শাহিদ-উল-মুনীর বলেন, কম্পিউটার ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশে ও হার্ডওয়্যার পণ্যের উপর আরোপিত প্রস্তাবিত ৫ শতাংশ আগাম কর কাযকরী হলে যতথ্যপ্রযুক্তি পন্যের দাম বাড়াবে। যা তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।  এছাড়াও ২২ ইঞ্চির পরিবর্তে ২৪ ইঞ্চি পর্যন্ত মনিটরের ওপর মূসক প্রত্যাহারের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি কারন বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে ২২ ইঞ্চির নীচে মনিটর তৈরী করছে না। তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সেবা (সেবা কোড ১০৯৯.১০) এর সংজ্ঞায় হার্ডওয়্যারকে অন্তর্ভক্তিকরনের দাবীও জানান বক্তা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ফাইবার অপটিক ক্যাবলের ওপর ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি আরোপ এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করবে। এ খাতে ডিউটি শূন্য করার দাবি জানায় আইএসপিএবি। এ ছাড়া এনটিটিএন সংযোগে ভ্যাট মওকুফের আহ্বান জানানো হয়।

উল্লখ্য যে  তথ্যপ্রযুক্তিখাতে এবারের বাজেটে গত অর্থবছরের চেয়ে ২১৭৬ কোটি বেশি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। গুরুত্ব দেয়া হয়েছে দক্ষ জনবল তৈরি এবং ভৈত ও অবকাঠামো উন্নয়নে। নতুনভাবে সংযোজিত হয়েছে নতুন উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন এবং এ খাতে বরাদ্দ  রাখা হয়েছে ১০০ টাকা। এছাড়াও ৫% রেগুলেটরি ডিউটি আরোপিত হয়েছে ফাইবার অপটিক ক্যাবলের উপর ।বলবত রয়েছে আইটি ই এস সেবার ভ্যাটের হার (৫%)এবং কম্পিউটার ও এর যন্ত্রাংশের উপর আরোপিত ভ্যাট এর ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশনের ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক সংযোগের উপর আরোপিত ভ্যাট।

সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ২৩৪ বার